Logo

ফাস্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের ভয়াবহ লোকসান, হতাশ শেয়ারহোল্ডাররা

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

দেশের ব্যাংকিং খাতে যেন বিস্ফোরণ। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই দেখিয়েছে ৫৭৫.৮ বিলিয়ন টাকা—অর্থাৎ ৫৭ হাজার ৫৮০ কোটি টাকার বিশাল লোকসান। এই সংখ্যাই যথেষ্ট ছিল অংশীদারদের হতবাক করার জন্য। কিন্তু আসল ধাক্কা এসেছে এখানেই যে, এটি আগের ঘোষিত লোকসানের তুলনায় বহুগুণ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের কড়া নির্দেশে সংশোধিত এই হিসাব প্রকাশের পর ব্যাংকটির আর্থিক ভিত যে প্রায় ভেঙে পড়েছে, তা আর লুকানোর সুযোগ নেই। শিল্পসূত্র বলছে, দেশের ইতিহাসে কোনো একক ব্যাংকের ঘোষিত এটিই হতে পারে সবচেয়ে বড় লোকসান।

রোববার শেয়ারবাজারে দাখিল করা বিবৃতিতে ব্যাংকটি জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৪৭৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। মাত্র এক বছর আগের একই সময়ে যেখানে লাভের গল্প শোনানো হচ্ছিল, সেখানে এবার পুরো চিত্রটাই উল্টো। এই ফলাফল বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার সঙ্গেই মিলে যায়—যেখানে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের নিট সম্পদ মূল্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। এই পাঁচ ব্যাংকই এখন একীভূতকরণের পথে।

এই প্রকাশনায় স্পষ্ট হয়ে গেছে, ২০২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা কার্যত অন্ধকারেই ছিলেন। কারণ, এর আগে নয় মাসে ব্যাংকটি যে ৩৭.৫০ বিলিয়ন টাকা বা ৩ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার লোকসানের হিসাব দিয়েছিল, সেটি ছিল বাস্তবতার ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ না হলে এই ভয়াবহ চিত্র হয়তো কখনোই সামনে আসত না।

ব্যাংক সূত্র জানায়, ২৫ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক একটি চিঠির মাধ্যমে সেই ডেফারেল সুবিধা বাতিল করে দেয়, যার আড়ালে প্রভিশন ঘাটতি সমন্বয় না করেই আর্থিক বিবরণী তৈরি করা হচ্ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট নির্দেশ দেয়—২০২৫ অর্থবছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিক থেকেই প্রভিশন সমন্বয় করে প্রকৃত হিসাব দেখাতে হবে। আর তাতেই বেরিয়ে আসে আসল চেহারা।

২০০৮ সালে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া এই ব্যাংকটি ২০২২–২৩ অর্থবছরেও ৩.২৮ বিলিয়ন টাকা লাভ দেখিয়েছিল। অথচ এখন পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য নেমে গেছে মাইনাস ৪৬০ টাকা ১৮ পয়সায়। অর্থাৎ কাগজে-কলমে ব্যাংকটি এখন গভীর ঋণাত্মক অবস্থানে।

এই আর্থিক বিপর্যয়ের পর বাংলাদেশ ব্যাংক গত মাসেই ব্যাংকটির বোর্ডকে অকার্যকর ঘোষণা করে এবং পরিকল্পিত একীভূতকরণের আগে একজন প্রশাসক নিয়োগ দেয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে শেয়ারবাজারে ব্যাংকটির শেয়ার লেনদেনও স্থগিত করা হয়েছে।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক একা নয়। এর সঙ্গে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক—এই পাঁচটি সংকটাপন্ন ব্যাংককে একত্র করে গঠন করা হচ্ছে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে নতুন একটি সত্তা। বিপুল অনাদায়ী ঋণ, চরম অব্যবস্থাপনা এবং মূলধন পাচারের অভিযোগের প্রেক্ষিতেই ৫ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক এই ব্যাংকগুলোর বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এই সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর মূলধনের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে। ফলে পুরো ব্যাংকিং খাতকে রক্ষা করতে একীভূতকরণ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না। এখন প্রশ্ন একটাই—এই ধাক্কা থেকে বিনিয়োগকারী আর ব্যাংকিং খাত কতটা দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে?

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬