Logo

১২ ঘণ্টায় সীমান্ত পারের অভিযোগ, তিন দিনেও ধরা পড়েনি শুটার ফয়সাল-আলমগীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

ঢাকা-৮ আসনের আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করার ঘটনায় তিন দিন পেরিয়ে গেলেও মূল দুই সন্দেহভাজন ধরাছোঁয়ার বাইরে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও মোটরসাইকেলচালক আলমগীর হোসেন শেখ—এই দুজনই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু। অথচ হামলার পরপরই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালানোর তথ্য ভেসে উঠলেও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো তাদের গ্রেপ্তারের কোনো অগ্রগতি নেই।

গত শুক্রবার দুপুর ২টা ২৪ মিনিট। মতিঝিল এলাকায় গণসংযোগ শেষে পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশায় ফিরছিলেন হাদি। ঠিক তখনই চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে খুব কাছ থেকে তাঁর ডান কানের নিচে গুলি চালানো হয়। মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে পড়েন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করা হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। চিকিৎসকদের ভাষায়, অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক; তিনি এখনো লাইফ সাপোর্টে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ট্রিগার টেনেছিল ফয়সাল, আর মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল আলমগীর। সিসিটিভি ফুটেজেও মিলেছে ঘটনার গতিপথ—পল্টন মোড়, হাইকোর্ট-মৎস্য ভবন এলাকা হয়ে তেজগাঁও, এরপর উবারে সাভার, সেখান থেকে রাতের আঁধারে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া সীমান্ত। অভিযোগ, মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই দালালের সহায়তায় তারা ভারতের মেঘালয়ে পালিয়ে যায়। তবে পুলিশ বলছে, ইমিগ্রেশন ডেটাবেজে দেশ ছাড়ার প্রমাণ নেই—পাসপোর্ট ব্লক করা হয়েছে, বিজিবিকে সতর্ক করা হয়েছে।

হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পৃথক অভিযানে পুলিশ ও র‍্যাব ছয়জনকে আটক করেছে। গুলিতে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক আবদুল হান্নান তিন দিনের রিমান্ডে। ফয়সালের স্ত্রী সামিয়া, শ্যালক শিপু ও বান্ধবী মারিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে নেওয়া হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপারের অভিযোগে শেরপুরের নালিতাবাড়ী থেকে আটক সঞ্জয় চিসিম ও সিবিয়ন দিও—তাদের স্বীকারোক্তিতে পালাতে সহায়তার তথ্য মিললেও মূল দুই অভিযুক্ত এখনো অধরা। আলমগীরের মা ও বোনকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।

ডিএমপির ভাষ্য, হামলার পেছনে রাজনৈতিক বিরোধই প্রধান সন্দেহ। ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক হিসেবে হাদির সক্রিয়তা যাদের অপছন্দ, তারাই এই হামলার নেপথ্যে থাকতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছে পুলিশ। মামলা না হওয়ায় প্রশ্ন উঠলেও জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করতে না পারলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে; জিডি ইতিমধ্যে করা হয়েছে। নগরজুড়ে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ চলার কথাও জানানো হয়েছে।

এদিকে চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ চরমে। সর্বশেষ সিটি স্ক্যানে দেখা গেছে, মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষতি, বুলেটের একটি অংশ এখনো স্পর্শকাতর রক্তনালির কাছে রয়ে গেছে, ব্যাপক ইডেমা ও অক্সিজেন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি নেই। এই পরিস্থিতিতে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ সোমবার দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হবে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, ব্যয় বহন করবে রাষ্ট্র।

প্রকাশ্য রাস্তায় রাজনৈতিক প্রার্থীর ওপর গুলি, সন্দেহভাজনদের দ্রুত সীমান্ত পেরোনোর অভিযোগ, আর তিন দিনেও গ্রেপ্তার না হওয়া—সব মিলিয়ে রাজধানীজুড়ে প্রশ্ন একটাই: আইনশৃঙ্খলা কোথায়? দেশবাসী এখন তাকিয়ে আছে এক সংকটাপন্ন রোগীর জীবনের দিকে, আর অপেক্ষা করছে—এই হামলার বিচার কবে, কিভাবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬