শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৩১টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ নিরীক্ষিত হিসাব পর্যালোচনায় ভয়ংকর আর্থিক দুর্বলতা, সুশাসনের ভাঙন এবং টিকে থাকার অনিশ্চয়তার মতো গুরুতর সংকেত মিলেছে—এমন মন্তব্য করে সরাসরি নড়েচড়ে বসেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। নিরীক্ষকদের কঠোর পর্যবেক্ষণকে বাজারের স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি হুমকি উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের হস্তক্ষেপ চেয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন।
বিএসইসির ভাষায়—এই নিরীক্ষা প্রতিবেদনগুলো কেবল আর্থিক নথি নয়, বরং শেয়ারবাজারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা গভীর অস্থিরতার পূর্বাভাস। প্রতিকূল মতামত, শর্তযুক্ত মন্তব্য, বিশেষ জোর এবং টিকে থাকার অনিশ্চয়তার মতো মন্তব্য শুধু প্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা নয়, বরং পুরো বাজারে আস্থাহীনতার সুনামী তুলতে পারে। বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাস যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে—এমন বাস্তব শঙ্কাই চিঠিতে তুলে ধরেছে কমিশন।
সংকটে চিহ্নিত ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে এবি ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এবং ইউসিবি। একই সংকেত পাওয়া এনবিএফআইগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স, বে লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, মাইডাস ফাইন্যান্সিং, পিপলস লিজিং, ফিনিক্স ফাইন্যান্স এবং ইউনিয়ন ক্যাপিটাল।
২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনগুলোতে নিরীক্ষকরা অসংখ্য অনিয়ম, ভুল, দুর্বলতা এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক অবস্থার অনিশ্চয়তা নিয়ে যে কঠোর মন্তব্য করেছেন, তা বাজারের জন্য সরাসরি লাল সংকেত। একাধিক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভবিষ্যৎ ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে—এমন মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করেছে।
বিএসইসি তাদের চিঠিতে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে—এসব নিরীক্ষা প্রতিবেদনে যে ধরনের মন্তব্য উঠে এসেছে তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং বাজারের স্বচ্ছতা দুটোকেই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসারে চিহ্নিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপ নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি হস্তক্ষেপ এখন জরুরি।
এক কথায়—৩১টি প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা সংকেত দেশের আর্থিক খাতে অস্থিরতার গভীর বাস্তবতা সামনে এনে দিয়েছে। বাজারকে ধসের হাত থেকে বাঁচাতে এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্রুত এবং দৃঢ় পদক্ষেপই বড় ভরসা।