শেয়ারবাজারে বেসরকারি কোম্পানির ডাইরেক্ট লিস্টিং বা সরাসরি তালিকাভুক্তি আবার আলোচনায় এসেছে। বাজার-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বড় মূলধনী প্রতিষ্ঠান বা বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানিও যদি সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ পায়, তবে বাজারে শেয়ারের সরবরাহ বাড়বে এবং লিকুইডিটি বৃদ্ধি পাবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সম্প্রতি বিএসইসি-এর আইপিও বিধিমালা, ২০২৫ খসড়া নিয়ে অংশীজনদের মতামত নেওয়ার জন্য বৈঠক আয়োজন করে। ওই বৈঠকে সরাসরি তালিকাভুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, “আইপিও ছাড়াই উদ্যোক্তা বা পরিচালকরা যদি শেয়ার বিক্রি করতে পারেন, তাহলে তারা আরও উৎসাহিত হয়ে তালিকাভুক্ত হবেন। সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির জন্য একই নিয়ম থাকা উচিত, যাতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়।”
বিএসইসির পরিচালক আবুল কালাম জানিয়েছেন, সরাসরি তালিকাভুক্তি মূলত সেকেন্ডারি মার্কেটের জন্য প্রযোজ্য। বেসরকারি কোম্পানির ক্ষেত্রে বর্তমানে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যা তুলে নেওয়া হলে এই সুযোগ সহজলভ্য হবে।
সরাসরি তালিকাভুক্তি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কোম্পানি নতুন শেয়ার ইস্যু করে না; উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা সেকেন্ডারি মার্কেটে তাদের শেয়ার বিক্রি করে অর্থ তুলতে পারেন। তবে ২০০৯ ও ২০১০ সালের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, ভুল ব্যবস্থাপনায় এই প্রক্রিয়া কোম্পানিকে দুর্বল অবস্থায় ফেলতে পারে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন ও ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাড়ানো শেয়ারবাজারে আস্থা ও তারল্য পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।