Logo

লালদিয়া টার্মিনালে আসছে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে ৮০০ মিলিয়ন ডলার বা ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবে ডেনমার্কভিত্তিক মায়ের্সক গ্রুপের মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বাংলাদেশের ৩০ বছরের কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরের পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, এপিএম টার্মিনালস বিভির সঙ্গে ৩০ বছরের একটি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরের পথে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)। যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল (এলসিটি) প্রস্তুত ও পরিচালনা করবে। এই প্রকল্পে নকশা, অর্থায়ন, নির্মাণ এবং পরিচালনা করবে এপিএম টার্মিনালস। তবে বন্দরটির মালিকানা থাকবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের।

আশিক মাহমুদ আরও জানান, বিশ্বব্যাংকের ২০২৪ সালের তথ্যানুসারে মায়ের্সক গ্রুপের মালিকানাধীন এপিএম টার্মিনালস বিভি বর্তমানে বিশ্বের ৩৩টি দেশে ৬০টির বেশি টার্মিনাল পরিচালনা করছে। বিশ্বের শীর্ষ ২০টি বন্দরের মধ্যে ১০টিই পরিচালনা করছে এপিএম। চীন, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়াসহ

এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বন্দর পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে তাদের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশে বিশ্বমানের প্রযুক্তি, দক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়ে আসবে বলে মনে করেন বিডা চেয়ারম্যান।
চুক্তি থেকে বাংলাদেশের পাওয়া সুবিধা উল্লেখ করে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, বৃহৎ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) চুক্তির আওতায় এপিএম টার্মিনালস পুরো মেয়াদে ৮০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করবে; যা হবে বাংলাদেশে

এককভাবে সর্ববৃহৎ ইউরোপীয় ইকুইটি বিনিয়োগ। এলসিটি চালু হলে বন্দরটির কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বছরে ৮ লক্ষাধিক টিইইউ বাড়বে, যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। ২০৩০ সালের মধ্যে টার্মিনালটি চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আশিক মাহমুদ বিন হারুন আরও বলেন, প্রকল্পটি রাজস্ব ভাগাভাগির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। যাতে সিপিএ প্রতি কনটেইনারে নির্দিষ্ট ডলারনির্ভর রাজস্ব পাবে। একই সঙ্গে কর, শুল্ক এবং সামুদ্রিক আনুষঙ্গিক সেবার মাধ্যমে সরকারের আয়ও বাড়বে। এই প্রকল্পের নির্মাণ ও পরিচালনা পর্যায়ে ৫০০-৭০০ জনের সরাসরি এবং অন্যান্য খাতে কয়েক হাজার পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

আশিক চৌধুরী আরও বলেন, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পটি বাংলাদেশের বন্দর খাতকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যাবে। এটি কেবল একটি অবকাঠামো বিনিয়োগ নয় বরং বাংলাদেশের লজিস্টিকস খাতকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে তুলবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬