Logo

হামজার কাছে টাকাই সবকিছু না

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১২ নভেম্বর, ২০২৫
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

মাথার ওপর ছড়িয়ে থাকা কোঁকড়ানো চুলগুলোই তাঁর সিগনেচার, হাজার ভিড়েও তিনি একজন। তিনি হামজা চৌধুরী। ক্যামেরা বারবার তাঁকেই খুঁজে নেয়। কিন্তু তাঁর চোখের গভীরতা আর নির্মল হাসির আপন আলো– তা শুধু কাছে ভিড়লেই খুঁজে নেওয়া যায়। ছয় মাস ধরে লন্ডন টু ঢাকা আসা যাওয়া। এত দিনে বাংলাদেশের হৃদয় পড়ে নিয়েছেন। কাঁধে অচেনা কোনো হাতের স্পর্শ নিয়ে সেলফি তোলা থেকে শুরু করে সারাক্ষণ পিছু নেওয়া মিডিয়ার তাড়া– এই ভালোবাসার মধ্যে বাড়াবাড়ি তিনি খুঁজে নেননি। ক্লান্তির সময়ও ভ্রু কোচকাননি; বরং বাংলাদেশে এলে প্রতিটি মুহূর্তে তিনি সমর্থকদের এ ভালোবাসা উপভোগ করে যাচ্ছেন।

ফুটবল পায়ে গতি আর শৈলী দিয়ে গ্যালারিতে দর্শক নিয়ে এসেছেন। পাঁচ ম্যাচে দুটিতে গোল করে রাত জেগে দেখা ইউরোপিয়ান ফুটবল দর্শকের নতুন প্রজন্মের কাছেও হয়ে উঠেছেন ‘পোস্টার বয়’। আর তাঁকেই এক বছরের জন্য শুভেচ্ছাদূত বানিয়েছে মোবাইল ফোন প্রতিষ্ঠান রবি। তাদের ‘বিলিভ ইউ ক্যান’ ক্যাম্পেইনের জন্য বেছে নিয়েছে হামজা চৌধুরীকে। টাকার অঙ্ক কেউ বলেনি, তবে যিনি কিনা লিস্টার সিটিতে সপ্তাহেই প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় আট লাখ) পেয়ে থাকেন, তাঁর কাছে বাংলাদেশে এসে বিজ্ঞাপন চুক্তি করার চেয়েও দেশের সঙ্গে থাকতে পারার আনন্দ বেশি।

‘টাকা অবশ্যই দরকার, কিন্তু অর্থই সবকিছু না। বাংলাদেশের ফুটবল আমার কাছে তীব্র আবেগের জায়গা। আমার লক্ষ্য কীভাবে এখানে ফুটবলের অবস্থা পরিবর্তন করতে পারি। শৈশবের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে আমার এই দেশের সঙ্গে। চেষ্টা করছি যাতে আমাকে দেখে তরুণরা অনুপ্রাণিত হয়।’ গতকাল রবির করপোরেট অফিসে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মনের কথা খুলে বলেন হামজা।

তাঁকে কাছে পেয়ে দেশের ফুটবলে প্রাণ ফিরে পাওয়ার কথা শোনান রবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও জিয়াদ সাতারা। চিফ কমার্শিয়াল অফিসার শিহাব আহমাদ, চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেল আলমও হামজার আগমনে দেশের ফুটবলে সম্ভাবনার কথা বলেন। ‘এই দেশের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত, বিশেষ করে আমার বাবা-মায়ের জন্য। প্রতিটি সন্তান চায় তার বাবা-মাকে গর্বিত করতে, নিজেকে ভাগ্যবান ভাবব যদি পুরো জাতিকে গর্বিত করতে পারি। আমি যে ভালোবাসা পাই, সেটা আমি খুব ভালোভাবে লালন করি। যখনই আমি বাংলাদেশ ছাড়ি, আমার বাচ্চারা বলে তারাও বাংলাদেশে আসতে চায়। আশা করি, আগামী মার্চে তাদেরও সঙ্গে নিয়ে আসতে পারব।’

শুধু প্রবাসী ফুটবলার নয়, তাঁর ইচ্ছা দেশ থেকেও যেন বিশ্বমানের ফুটবলার উঠে আসে। ‘শুধু দেশের বাইরে থেকে নয়, দেশ থেকেও আমরা অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসতে দেখব ভবিষ্যতে। হয়তো একদিন তারাও ইউরোপে খেলবে। সবাই মিলে প্রাণপণ চেষ্টা করে দেশের ফুটবলকে আরও এগিয়ে নিতে পারব। খেলাটা আরও বড় করতে পারব।’

সংকল্প ছিল হামজার চোখেমুখে। ভালোবাসার প্রতিদান তিনি দিতে চান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাঁর মতো করে তৈরি করে দিয়ে। উপস্থিত সবাই তাঁর মুখে ভারতের বিপক্ষে আসন্ন ম্যাচ নিয়ে কিছু শুনতে চাইছিলেন। তা বুঝতে পারেন হামজা। ‘আমাদের সামনে দুটো ম্যাচ আছে। আমার সব মনোযোগ এখন সেই ম্যাচের দিকে। নিজের সেরাটা দিতে চাই ম্যাচগুলোতে, যা আমাদের ম্যাচ জিততে সাহায্য করবে, বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে।’ হাততালিতে সমর্থন বুঝে নেন হামজা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬