Logo

অভিভাবকহীন পুঁজিবাজার! দেখার কেউ নেই বিনিয়োগকারীদের?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর, ২০২৫
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

দেশ সমাচার রিপোর্ট: চরম স্থবিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। বিনিয়োগকারীদের প্রশ্ন দেশের পুঁজিবাজার হাটঁছে কোন পথে? আমাদের দেখার মতো কি কেউ নেই। ধারাবাহিক পতনে দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি। ফলে টানা দরপতনে চলছে বিনিয়োগকারীদের রক্তক্ষরণ। আর অস্থিরবাজারে প্রায় প্রতিদিনই মূল্যসূচক কমছে। এরচেয়েও বেশি কমছে শেয়ারের দাম। আতঙ্কিত বিনিয়োগকারীদের অনেকেই যে কোনো মূল্যে শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে বের হয়ে যেতে মরিয়া হয়ে উঠছেন।

তাতে বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে গেছে। ফলে দেখে মনে হচ্ছে পুঁজিবাজার যেন এক আতঙ্কের নাম। মুলত ছাত্র-জনতার বিপ্লবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের অর্থনীতির অন্যান্য খাতে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও ব্যতিক্রম শুধু পুঁজিবাজার। গত ১৪ মাসে পুঁজিবাজারের বৃদ্ধি তো দূরের কথা, উল্টো প্রতিদিনই কমছে মূল্যসূচক ও বাজার মূলধন। ফলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরে আসার ইঙ্গিত মিললেও পুঁজিবাজার চলছে সেই পুরানো উল্টো পথে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৪ মাস পুঁজিবাজারের কোন উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৫টি ব্যাংক একীভূতকরনের লক্ষ্যে অকার্যকর করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যে ব্যাংকগুলোতে শেয়ারহোল্ডাররা কিছু পাবে না বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে গভর্ণর। এ প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন ধরে চলতে চলতে বুধবার (০৫ নভেম্বর) চূড়ান্ত করা হয়েছে। এসময় বিনিয়োগকারীদেরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিঃশ্ব করে দেওয়ার প্রক্রিয়াটি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখেছে খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। যে কমিশন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কিছু করতে না পারলেও শাস্তি দিতে পারার কারনে ‘শাস্তি কমিশন’ হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে।

রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন ব্যর্থ কমিশন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বিএসইসিতে দায়িত্ব গ্রহণের পরে নিজেদেরকে শুধুমাত্র শাস্তি প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে। যাদের কাজই কমিশন সভা করে বিগত সরকারের ককেয়জনকে শাস্তি দেওয়া। যারা এক প্রকার এখন মৃত অবস্থায় আছে। এছাড়া শেয়ারবাজারের উন্নয়নে কোন কাজই করতে পারেনি এই কমিশন। তাই এই কমিশন দায়িত্ব গ্রহনের ১৫ মাসে বিনিয়োগকারীরা শুধুই হারিয়েছে।

আজ ৬ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখ বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল সূচকের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। সেই সাথে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। এদিড়ন দৈনিক লেনদেনেও রয়েছে নেতিবাচক প্রভাব। দিন শেষে আজ ২৬.১৫ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, আজ ৬ নভেম্বর ডিএসই’র ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ১৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯৬৭ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই–৩০ সূচক ০.১১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯৪০ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৯০ টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০২ টির, কমেছে ২৫১ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭ টির। অর্থাৎ পুঁজিবাজারে আজ ২৬.১৫ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। সারাদিনে ডিএসইতে ১৪ কোটি ২ লাখ ৮৫ হাজার ৮৭ টি শেয়ার ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৩১ বার হাতবদল হয়েছে। আর দিন শেষে লেনদেন হয়েছে ৪১৯ কোটি ৭৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।

এদিকে, আজ দিন শেষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সাধারণ মূল্য সূচক সিএএসপিআই ৭০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৩ হাজার ৯৫৮ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ১৫৯ টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৪৯ টির, কমেছে ৯৭ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৩ টির। আজ দিন শেষে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৩৩ লাখ ১৫ হাজার ৭৬৩ টাকা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬