Logo

এস আলমের আভিভা ইক্যুইটির বিরুদ্ধে বিএসইসির তদন্ত কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
প্রিন্ট তারিখ: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের ঋণ, বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন ও সম্ভাব্য অর্থপাচার বিষয়ে তদন্তে নেমেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট হল আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান, যা এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন।

পুঁজিবাজার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিএসইসি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আদেশ দেওয়া হয়েছে, তারা ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদনের মাধ্যমে কমিশনের কাছে দাখিল করবেন।

সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে এ বিষয়ে একটি আদেশ জারি করা হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন বিএসইসির পরিচালক মনসুর রহমান, যুগ্ম পরিচালক সুলতানা পারভীন এবং সহকারী পরিচালক মো. মারুফ হাসান।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, আভিভা ফাইন্যান্স থেকে ঋণ নিয়েছে আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট। কোন কোন ক্ষেত্রে ওই ঋণের টাকা ব্যবহার করা হয়েছে, যথাযথ নিয়ম মেনে তা ব্যবহার করা হয়েছে কি না, ওই ঋণের টাকা থেকে কোনো রিলেটেড পার্টিকে মার্জিন ঋণ দেওয়া হয়েছে কি না, ওই ঋণ মানিলন্ডারিংয়ে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, যথাসময়ে পরিশোধে ব্যর্থতার কারণ কী—এসব বিষয় তদন্ত করবে বিএসইসি গঠিত তদন্ত কমিটি।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন মনে করে, পুঁজিবাজার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে এনআরবি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের কার্যক্রম তদন্ত করা প্রয়োজন।

তাই, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ১৭(ক) এবং মানিলন্ডারিং প্রিভেনশন রুলস, ২০১৯ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কমিশন তিন কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের বিভিন্ন কার্যপরিধি তদন্ত করে দেখবে। কর্মকর্তারা এই আদেশ জারির তারিখ থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন এবং কমিশনের কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখির করবেন।

আভিভা ফাইন্যান্স থেকে আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট কত টাকা ঋণ নিয়েছে এবং ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সুদসহ মোট ঋণের পরিমাণ কত, তা যাচাই করবে তদন্ত কমিটি। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি ওই ঋণের কত টাকা পরিশোধ করেছে, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ঋণ নিয়েছে কি না এবং নিয়ে থাকলে বর্তমানে সুদসহ তার পরিমাণ কত, তা যাচাই করা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির নেওয়া ওই ঋণ কোন কোন খাতে ব্যবহার করা হয়েছে, তা সিকিউরিটিজ আইন ও প্রযোজ্য নিয়ম মেনে ব্যয় হয়েছে কি না, এই ঋণ থেকে কোনো সম্পর্কিত পক্ষকে (রিলেটেড পার্টি) মার্জিন ঋণ দেওয়া হয়েছে কি না, দিয়ে থাকলে তার অংক ও সুদসহ বর্তমান অবস্থা কত এবং সেসব ঋণ ফেরত এসেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমটি।

পাশাপাশি, আভিভা ফাইন্যান্স থেকে আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টের নেওয়া ঋণ মানিলন্ডারিংয়ে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তাও অনুসন্ধান করবে তদন্ত কমিটি। এছাড়া, ঋণ যথাসময়ে পরিশোধে আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট কেন ব্যর্থ হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি আদৌ ঋণ শোধ করতে সক্ষম কি না, তা যাচাই করা হবে। ঋণ পরিশোধে সক্ষম হলে কবে নাগাদ তা পরিশোধ করা সম্ভব এবং এ সম্পর্কিত অন্যান্য সকল তথ্য যাচাই করবে তদন্ত কমিটি।

আভিভা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান ছিলেন এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ সাইফুল আলম। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়েছে। আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় অভিযুক্ত পি কে হালদার ২০০৯ সালে আভিভা ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে আভিভা ফাইন্যান্স এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ব্রোকারেজের নাম আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট রাখা হয়।

ব্রোকারেজ হাউজটির বিরুদ্ধে শেয়ার কারসাজি, সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে ঘাটতি, নেগেটিভ অ্যাকাউন্টে ঋণ প্রদান, ডিলার অ্যাকাউন্ট ও নেগেটিভ অ্যাকাউন্টে শেয়ার ডাম্পিং, অতিরিক্ত দামে প্লেসমেন্ট শেয়ার ক্রয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অভিযোগ আছে। এসব ঘটনার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির এমডি মো. শহিদুল ইসলামের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬