Logo

বিমানবন্দরে রাহুগ্রস্ত যুগের অবসান, তবু থেমে নেই ষড়যন্ত্রের ছায়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ৮ আগস্ট, ২০২৫
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

মহসিন হোসেন, রিপোর্টার :

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে ইজারাভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ১৬টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) নতুন অর্থবছরের শুরু থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর চুক্তি নবায়ন না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

এই সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়েছে নিয়মতান্ত্রিকভাবে এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের স্বার্থে। তবে চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় সুবিধাবঞ্চিত একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাতে শুরু করেছে। তারা অভিযোগ করছে, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তরা আওয়ামী লীগের দোসর, আর চুক্তি বাতিলের পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। অথচ অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়ে আসছিল।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ‘নাহার কনস্ট্রাকশনস’-এর মালিক শওকত হাসানুর রহমান রিমন একজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন, যার বাড়িতে গত ৫ আগস্ট ছাত্র ও জনতার বিক্ষোভকালে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ তাজুল ইসলাম, যার মাতা ‘গ্রেনেড হামলায় আহত’ হওয়ার পরিচয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বেবিচকের সম্পত্তি ইজারা নিয়েছিলেন— এমন অভিযোগও রয়েছে।

ইজারার সুযোগ বারবার পেলেও এসব প্রতিষ্ঠান যাত্রীসেবায় ব্যর্থ হয়েছে। বরং তারা বাণিজ্যিক স্বার্থে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক জটিলতা তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে।

এই ব্যবসায়িক চক্রের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে: শিরিন এন্টারপ্রাইজ, হাওলাদার অ্যান্ড সন্স, অথৈ এন্টারপ্রাইজ, মাহবুবা ট্রেডার্স, ওয়ার্ল্ড ট্রাস্ট ট্যুরিস্ট অ্যান্ড কার সার্ভিস, সজল এন্টারপ্রাইজ, এভিয়েশন ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড, এ ফাইভ রোডওয়ে লিমিটেড, এরোস ট্রেডিং, অরুন লিমিটেডসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের একাধিক মালিক বর্তমানে দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি এবং কেউ কেউ বিদেশে পালিয়ে রয়েছেন।

Airpoবর্তমানে একটি পুরনো চক্র নতুন রূপে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু অনুগত গণমাধ্যম ব্যবহার করে বেবিচকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো—পূর্বের রাজনৈতিক বলয়কে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা এবং নিজস্ব স্বার্থ আদায়ে বেবিচককে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬