Logo

শেয়ার বাজারে বর্গী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ৭ জুলাই, ২০২৫
প্রিন্ট তারিখ: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

খোকা ঘুমালো, পাড়া জুড়ালো,
বর্গী এলো দেশে।
ধান ফুরালো, পান ফুরালো,
খাজনা দিব কিসে?- অনিয়ম, লুটতরাজ আর দুর্নীতির ধ্বংসলীলার অসীম শূন্যতার গহবরে পতিত এই বাংলায় বর্গী ইতিহাসের অসহায় মানুষের ভয় বিহ্বলতার আকুতি চলছে বর্তমান বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে।

বাংলাদেশের ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে ২০১০ সাল হতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত একটানা ১৫ বছর শেয়ার বাজারের পতন, পরবর্তীতে ২০২৪ সালের আগস্ট মাস হতে আরো দশ মাসের ধ্বংসের গর্ভ ধারণ করে আছে বাংলাদেশের শেয়ার বাজার। অমাবস্যার অমানিশার কালো অন্ধকারের মাঝে ডুবিয়ে রাখা মার্কেট কখনো সখনো দু একদিন মার্কেট ভালো হলেই ছদ্মবেশী ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে মার্কেট ভালো হবার বর্ণীল ব্যঞ্জনায়।

ইতিহাসের সূত্র মতে মারাঠি লুটেরা সৈন্য বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত আক্রমণ ও লুটতরাজ করত। তাদের লুটতরাজ ও অত্যাচারের কারণে বাংলার মানুষ তাদের “বর্গি” নামে ভয় পেত। বর্গীরা সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারসহ খাজনা আদায়ের নামে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাত। মারাঠি লুটেরা সৈন্যরা অর্থাৎ বর্গীরা ১৭৪১ থেকে ১৭৫১ সাল পর্যন্ত বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ ভাবে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা অঞ্চলে নিয়মিত আক্রমণ ও লুটতরাজ এবং ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। ফলে বর্গীরা এ অঞ্চলের আপামর জনতার কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে আজও চিহ্নিত হয়ে আছে। বর্গীদের মতো খাইরুল কমিশন, রুবাইয়াত কমিশন এবং বর্তমানের রাশেদ মাকসুদ কমিশন বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছে জীবন্ত এক আতঙ্কের নাম। এক দীর্ঘ সময় ধরে তারা অবলীলায় বিবেচনাহীন ভাবে বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেট তথা পুঁজিবাজারকে এবং পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের কে আক্ষরিকভাবেই পথে বসিয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শিক্ষিত এ সকল জ্ঞান পাপীরা এক প্রকার সুপরিকল্পিতভাবেই বাংলাদেশের শেয়ার বাজার কে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে নিয়েছে।

বাংলাদেশের শেয়ার বাজার হয়তো এক সময় ভালো হবে কিন্তু ইতিহাস এই তিন কমিশনের তিন খলনায়ক কে কোনদিন ক্ষমা করবে না। এদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে, লুটতরাজের কারণে, বেহায়াপনার কারণে, মার্কেট পরিচালনায় দক্ষতা ও অজ্ঞতার কারণে এবং অপরিণামদর্শীতার কারণে লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারী যে সীমাহীন ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিও শূন্য অথবা ঋণাত্মক এর কোঠায় নেমে এসেছে, লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিও তলানিতে নেমে এসেছে তারা কি করে ক্ষমা করবে এই তিন কিম্ভুতকিমাকার নরপশু অপদার্থ গুলোকে আর তাদের ইন্ধনদাতা ও সাঙ্গপাঙ্গদেরকে।

এরা পরিকল্পনামাফিক বাংলাদেশের শেয়ারবাজার কে ধ্বংস করেছে। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য তলানিতে নামিয়ে এনে তাদের সাথে যোগসাজসকারীদের হাতে তুলে দিয়েছে নামমাত্র মূল্যে। মাফিয়া স্টাইলে যথেচ্ছাচার চালিয়েছে বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেটে। নামে বেনামে এরা টাকার এবং সম্পদের পাহাড় গড়েছে। দুদিন আগে অথবা পরে তার হিসাব বেরিয়ে যাবে, অপ্রকাশ্য থাকবে না কিছুই। কিন্তু এদের সচতুর পরিকল্পনার বলি হয়ে বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেট এবং লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারী যে অকল্পনীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে তা ফিরে আসবে না কখনোই।
খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করে ১৮.০৮.২০২৪ তারিখে যখন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক ছিল ৫৯০৩ পয়েন্ট, বর্তমানে সূচক অবস্থান করছে৪৮৯৪ পয়েন্টে। তার সময় মার্কেট প্রায় লক্ষাধিক কোটি টাকার মূলধন হারানোর রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

মার্কেট ভালো হবার জন্য উপরোক্ত তিন কমিশনই নামকাওয়াস্তে সামান্য কিছু ব্যবস্থা নিলেও ধ্বংসলীলা চালিয়েছে মহাসুনামির মতো ব্যাপকভাবে। তাদের ভ্রুক্ষেপহীন এ সকল ধ্বংসযজ্ঞে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান চরমভাবে বিপর্যস্থ হয়েছে। এদের পেছনের নাটের গুরুরাও কখনো সেদিকে ফিরেও দেখেননি বরং দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে তাদেরকে সমর্থন যুগিয়েছেন, শক্তি যুগিয়েছেন।
মার্কেট ২০২৫ সালের জুন মাসের শেষে এবং জুলাই মাসের শুরুতে সূচক কয়েকদিন ধনাত্মক থাকলেও তা হয়তো তাদের পরিকল্পনামাফিক ইন্ধনেই হয়েছে। শেয়ারের আইটেমগুলো মূল্য হারিয়ে তলানিতে চলে আসায় তাদেরই পরিকল্পনা অনুযায়ী মাফিয়ারা সুযোগ বুঝে বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি তাদের মনোনীত তথাকথিত এনালিস্ট গন নিজেদের ইচ্ছামতো কিছু আঁকিঝুঁকি করে মার্কেট ভালো হবার নির্দেশক প্রকাশ করছে। সাথে আছে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাবেদারি করার এবং দালালি করার কিছু ব্যক্তি ও গ্রুপ। একত্রে এরা সামান্য ক’দিন নিজেদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে মার্কেটকে ধনাত্মক প্রদর্শন করে নিজেদের শেয়ার অফলোড করে ফেলবে। আবারো তাদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ক্ষতির সম্মুখীন হবে সাধারণ বিনিয়োগ কারিগন।

বিনিয়োগকারীদের মধ্যকার বিজ্ঞজনেরা মনে করছেন রাশেদ মাকসুদ কমিশন তার টানা ১০ মাসের সকল অপকর্ম ঢাকতে নির্বাচনের আগে সামনের দিনগুলোতে মার্কেট ঠিক রাখার চেষ্টা চালাবে। যার অর্থ হলো মাকসুদ কমিশনের মনোনীত মাফিয়ারা এই পরিকল্পনা আগে থেকেই জেনে মার্কেটের সাইড লাইনে ছিল এখন তারা মার্কেটে সক্রিয় হবে। কিন্তু সেটা কতটুকু সম্ভবপর হবে রাশেদ মাকসুদ কমিশনের এই ব্যর্থতা ঢাকতে ! এই বর্গীদের অপরিনামদর্শী কর্মফলে ৯০ ভাগেরও বেশী পোর্টফোলিও যে পরিমানে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তা রিকাভারি কখনোই কি সম্ভব? হয়তো সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইন পোর্টালে তাদের পালিত বিবেক বর্জিত সাংবাদিকগন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের কষ্ট ভুলিয়ে দেবার জন্য ভাষার অলংকরণ চালিয়ে যাবে। বিনিয়োগকারীদের পোর্টফলিওর যেমন চিত্র তেমনি থেকে যাবে, বিশেষ কোনো পরিবর্তন সহজে সেখানে আসবে না।

কিন্তু রাশেদ মাকসুদের মত বর্গীরা নিজেদের সাফল্য গাঁথার ঢোল বাজিয়ে যাবে।

লেখাঃ এম.আই.টি এজে

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬