Logo

শেয়ার মার্কেট চ্যালেঞ্জঃ দুষ্টু চক্র পরিত্রাণের উপায়

share mix
ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৫
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকার এবং আওয়ামী লীগের সময়ে যেসব কারণে মার্কেট ধ্বংস হয়েছে তা চিহ্নিত করা যেমন জরুরী, তেমনি এই কারণগুলোর আশু সমাধান না করলে মার্কেট ভালো করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। সবচেয়ে বড় সত্য হলো- নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং তার উপরের সর্বোচ্চ মহলের প্রত্যক্ষ মদদ ছাড়া দেশের এত বড় একটি প্রতিষ্ঠান এভাবে ধ্বংস হওয়া সম্ভব নয়। সহযোগিতাপূর্ন এই মদদ তখনই সম্ভব হয় যখন উভয় পক্ষের বড় ধরনের স্বার্থ নিহিত থাকে। যদিও এর ফলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারী অন্ধকারে নিমজ্জিত হয় তবুও তারা কাকের মত চক্ষু বন্ধ করে নিজেদের কাজ করে যায় নির্লজ্জপূর্ণ দায়িত্বহীন ভাবে।

দেখা যাক কি কি কারনে মার্কেট ক্রমাগতভাবে ধ্বংসের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হয়েছেঃ
১। ধ্বংসাত্মক সংস্কার
২। অপরিণামদর্শী অথবা স্বার্থান্বেষী সিদ্ধান্ত
৩। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে অযোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন পরিচালনা।
৪। হীনমেধা স্বাস্থ্যের নেতৃত্ব
৫। অযোগ্য নেতৃত্বকে সরকারি চক্ষুলজ্জাহীন সমর্থন
৬। রাক্ষুসে সুকক বন্ড
৭। একের পর এক আইপিও
৮। গুটিকয়েক মানুষের স্বার্থসিদ্ধি
৯। লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারীদের হাহাকার উপেক্ষা করা
১০। পলিসি তথা নীতি সংক্রান্ত দুর্বলতা
১১।বিনিয়োগকারীদেরকে তাত্ত্বিকভাবে ভুল বোঝানো
১২। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং তার উপর মহল কর্তৃক আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য তত্ত্বগত ভুল ব্যাখ্যা প্রদান
১৩। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত শত-শত প্রকৃত তথ্য উপাত্ত পাশ কাটিয়ে চলা
১৪। হীন-দুর্বল নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষে দালাল নিয়োগকরা
১৫। গ্যাম্বলার চিহ্নিতকরণ এবং নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা
১৬। রাষ্ট্রীয় অভিভাবকত্বহীনতা ও ঔদাসিন্য- এ সবই চলছে স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের ১৫ বছর আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরোটা সময় ধরে।

মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর ইউনুসের দিকে বিনিয়োগকারীরা বুক ভরা আশা নিয়ে তাকিয়ে ছিল। বিনিয়োগকারীরা একরকম নিশ্চিত ছিল যে এবার মার্কেট আলোর মুখ দেখবে। মুছে যাবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সময়ে ধ্বংসের অতল গহবরে নিমজ্জিত হওয়া শেয়ার মার্কেটের দগদগে ক্ষত দাগ। কিন্তু সেই আশার গুড়ে বালি পড়েছে। লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারীরা পথে বসেছে, বিনিয়োগকৃত সকল পুঁজি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা এবং সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান দায়িত্বহীন ক্ষমতার পুরোটাই উপভোগ করছেন বিনিয়োগকারীদের সর্বস্বান্ত করে। অর্থ উপদেষ্টা দায়িত্বজ্ঞানহীন ও লজ্জাহীন ভাবেই আত্মপক্ষ সমর্থন করে যাচ্ছেন কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া। ক্ষেত্রবিশেষে তাত্ত্বিক ভুল ব্যাখ্যাও উপস্থাপন করছেন ভাবলেশহীন ভাবেই ।

তাহলে এর সমাধান কোথায়? বিনিয়োগকারীরা সকল ভাবে চেষ্টা করেছে রাষ্ট্রের তথা দায়িত্বশীল মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। যদিও তাতে রাষ্ট্রপক্ষের বিন্দুমাত্রও ভ্রুক্ষেপ হয়নি। হয়তোবা এখানেও তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের উপায় বের করে চলেছে।

শেয়ার মার্কেট স্থিতিশীল করার বিকল্প কোন পথ নেই। এর জন্য সবার আগে প্রয়োজন সরকারের দায়িত্বশীলতা। অন্যান্য সমাধান নিহিত রয়েছে উপরোল্লেখিত মার্কেট ধ্বংসের কারণ সমূহের মধ্যেই। অর্থাৎ যে সকল কারণে মার্কেট বিপর্যস্ত হয়েছে সেই কারণগুলোর আশু সমাধানই শেয়ার মার্কেট স্থিতিশীল করার রক্ষাকবচ। একটি কথা না বললেই নয় যে, শেয়ার মার্কেট ঠিক করা মানে বিনিয়োগকারীদের পকেটে টাকা ঢুকিয়ে দেয়া নয়। কোন বিনিয়োগকারী এটা আশা ও করে না, যদিও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল মহলের দু একজনের মুখে এমন কথা শোনা গেছে। মার্কেটে যোগ্য, আস্থাশীল ও পরগাছার প্রভাব মুক্ত দায়িত্বশীল নিয়ন্ত্রক সংস্থা চালু রাখলেই মার্কেট তার গতি ফিরে পাবে-বারংবার এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত হয়েছে লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারীদের নিকট হতে।

লেখাঃ এম.আই.টি এজে

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬