একটি মানুষের নামেই একটি দেশের অবয়ব উঠে আসে পৃথিবীর মানুষের মানস পটে । পৃথিবীময় বিখ্যাত তিনি। অসাধারণ রকমের মেধা, বুদ্ধিমত্তা আর ব্যক্তিত্বসম্পন্নও বটে। কি যে তুমুল-তুখোর জনপ্রিয়তা পুরো দেশের দশ দিগন্ত জুড়ে। দেশ এবং দেশের বাইরের পুরোটা জগত জুড়ে এমন জনপ্রিয় মানুষ বোধ করি এদেশের কোন প্রজন্ম কখনোই দেখেনি। এখনো তিনি এদেশের ১৮ কোটি সকল মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন, আশার বাতিঘর। দেশের বাইরে এদেশের একমাত্র সন্তান যার গ্রহণ যোগ্যতার ধারে কাছেও কেউ আসতে পারেনি। এক বিরাটাকার স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে এদেশের মানুষ সুউচ্চ উচ্ছাস আর পরিপূর্ণ সমর্থন দিয়ে নিখাদ বিশ্বাসভরে রাষ্ট্রনায়কের মর্যাদার আসনে বসায় তাকে।
ভয় হয়, ভয় হচ্ছে। জনগণের এমন উথাল পাথাল জনপ্রিয়তা আর হৃদয় ভরা ভালবাসা কতদিন তিনি ধরে রাখতে পারবেন! এমন জনপ্রিয়তা যে কোন কারণে তিনি খর্ব করলে সে কারণে আওয়ামীলীগ, ভারত কিংবা এদেশে জন্মগ্রহণ করা “র” এর পদলেহনকারী-জারজ-দাস-দাসী কাউকেই দায়ী করা যাবে না। কারণ সেই জায়গাটা আমরা প্রথম তিন চার মাসেই উৎরে উঠেছিলাম। কিন্তু নয় মাসের বেলায় এসে কেমন যেন ঢেউ ভাঙতে শুরু করেছে। আমরা আরেকজন মুজিবের প্রতিচ্ছবি দেখছি নাতো? ‘৭৩ হতে যার জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছিল জ্যামিতিক হারে। আপনার চারপাশে দুধের মাছি সংগ্রহ করছেন, দেশের নির্দিষ্ট একটি এলাকার মানুষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রেখেছেন আপনার পাশে, অর্থাৎ আপনার সরকারের মধ্যে। অভিযোগ ওঠা শুরু করেছে- আপনার তৈরী ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটাকেই সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিয়েছেন, যেটা অত তাড়াতাড়ি না করলেই হয়তো ভালো হতো। আহত জুলাই বিপ্লবীদের কে উপেক্ষিত রেখেছেন, লোক দেখানো নামকা ওয়াস্তে চিকিৎসা দিয়েছেন। নিজের ষোল আনা বুঝে নিয়েছেন, আপনার বিরুদ্ধে থাকা ফ্যাসিস্ট আমলের সকল অভিযোগ আইনি প্রক্রিয়ায় দ্রুততম সময়ে শেষ করেছেন।
এদেশের মানুষের সবচেয়ে বড় দোষ এবং গুণ হলো এরা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, এরা পীর মানে কিন্তু পীর গলগন্ড আকার ধারণ করলে সেটা ছুড়ে ফেলে দিতে বিন্দুমাত্রও দ্বিধা করে না। এ জাতি ঘুরে দাঁড়াতে জানে। ইতিহাস তার নির্মম জলজ্যান্ত সাক্ষী।
এ জাতি জাজমেন্টাল (Judgemental), সেটাকে কেউ শুধুই ইমোশনাল (Emotional) বললে বড় রকমের ভুল হবে। এ জাতি ইমোশনাল তখনই যখন কেউ ভালো কিছু করে। তখন এরা ইমোশন কিংবা ভালোবাসার সবটুকু উদার চিত্তে ঢেলে দিতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করে না। তাই বলে কেউ সুযোগ নিলেও দীর্ঘ ছাড় দিবে এমন বোকা বোধ করি এরা নয়। মোটের উপরে দাঁড়ালো এ জাতি অসম্ভব রকমের ভারসাম্যপূর্ণ- আবেগ, ভালোবাসা এবং বিচারে। সবচেয়ে বড় কথা হলো বাংলাদেশের মানুষ একদমই উদাসীন নয়, সত্যি সত্যি সচেতন। বাংলাদেশিরা কট্টর দেশপ্রেমী এবং তীব্রভাবে জাতীয়তাবাদী। এর প্রমাণ দেখতে চান ইতিহাসের অলি গলি ঘুরে আসুন সব পেয়ে যাবেন। সেটা নিকটেরই হোক আর দূরের হোক। যেমন ‘৫২, ‘৬৯, ‘৭১, ‘৭৫, ‘৯০। আর জুলাই বিপ্লবের কথা এদেশের তাবৎ শিশুরাও জানে। আরো সহজ করে বলি প্রতিদিনের সন্ধ্যায় চা স্টলের আড্ডায় দেখবেন, গ্রামের মোড়ের ছোট বাজারে দেখবেন কিংবা ক্ষেতের পাশে কোন গাছের ছায়ার নিচে আড্ডায় দেখবেন, অফিস বিরতির খুনসুটিতে দেখবেন, আর বিরোধী শিবিরের কথা নাই বা বললাম – সব একই রকম। এদের ধ্যান-ধারণা চিন্তা চেতনা দেশ, দেশ এবং দেশ। দীর্ঘ নয় মাসে আপনি কখন কি করলেন, কোনটা ভালো কোনটা মন্দ তার চুল চেরা বিশ্লেষণ তারা করে ফেলছে প্রতিনিয়ত।
স্যার আপনার অর্থনীতির হিসাবটা ব্যষ্টিক, সমষ্টিক, ব্যাংক কিংবা এনজিও যাই হোক না কেন একটু বুঝেশুনেই করবেন, ক্যালকুলেটর টা যেন শক্ত ও শক্তিশালী হয়। গোলমেলে যেন না হয়ে যায়। বিদেশি ইঞ্জিনিয়ার এর ক্যালকুলেটর হলে হবে না, খাঁটি দেশপ্রেমিক ইঞ্জিনিয়ার লাগবে, এদেশের সন্তানই লাগবে।
নতুন নতুন চাল দেবেন! অভিমান করবেন! ভয় দেখাবেন? সেটাও এরা বেশিদিন মেনে নেবে না। দু-চার বারেই বুঝে ফেলবে সকল ছক, তারপরে নিজেরাই ছক কসা শুরু করে দিবে। হাসিনাকে দেখেছেন না! অনেক চাল-চিত্র-তথ্য-সিনেমা-কনটেন্ট দিয়েছিল। পরে কোন পথ্যই আর কাজ করেনি। আপনি কিংবা আপনার সরকার সেটারই ফসল, ভুলে যাচ্ছেন কেন?
আপনি গুণীজন এটা আমরা সবাই মানছি। তাই বলে আপনি কিংবা আপনার চেলাচামন্ডরা যদি সারাক্ষণ আপনার কানের কাছে এই ঢোল বাজায় যে, “আপনাকে ছাড়া চলবে না”। ওহ্ নির্ঘাত ভুল সেটা, নিশ্চিত থাকেন স্যার, এই জাতি তার প্রয়োজনে সাধারণ কাউকে খুঁজে নেবে চলার জন্য, আপনার মত অসাধারণ(!)কে আর চাইবে না । কেননা সব দেশ তো আর নোবেল বিজয়ী দিয়ে চলছে না। কথাগুলো অনেক রুঢ় শোনাচ্ছে, অনেকে হয়তো চুলচেরা কঠোর সমালোচনায় মেতে উঠবেন। তবে তাদের মনের কোণে অন্য মন জানিয়ে দিবে যে এটাই সত্যি, কথাগুলো অমোঘ সত্যি, জাতীয় সত্যি, সময়ের সবচেয়ে বড় সত্যি।
আরো সত্য হলো -সংস্কার এবং স্বৈরাচারের বিচার এ জাতির সবাই চায়, আশিতিপর বৃদ্ধও সেই বিচার দেখে যেতে চায়। মানে হল বিচারিক প্রক্রিয়াটি নিখুঁত ও যথাযথ ভাবে এবং কোন প্রকার ফাঁকফোকর না রেখে যথাসম্ভব দ্রুত এগিয়ে নিন, অপ্রয়োজনে কালক্ষেপণ করবেন না। সংস্কার এবং বিচারের চাহিদার সূত্র ধরে এই শব্দগুলোকে সস্তা বানিয়ে ফেলবেন না। মেট্রিকুলেশন না করা মানুষটাও খুব সহজেই বোঝে- সংস্কার হলো পৃথিবীর চলমান চিরায়ত একটি প্রক্রিয়া, চলছে, চলবে যুগপৎ। মনে রাখবেন স্যার সংস্কার কিংবা বিচার কোন অজুহাতই কোনভাবেই গণতন্ত্রের বিকল্প নয়। ফখরুদ্দিন মঈন সরকারের সকল সাফল্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, কারণ গণতন্ত্রের আগমন ছিল ধীর লয়। এই স্বাধীনচেতা জাতি দ্রুত গণতন্ত্রই চায়। ওই কয়জন উড়ে এসে জুড়ে বসা উপদেষ্টাদেরকে চায়না, তারা জনপ্রতিনিধিত্বও করে না। তাদেরকে না চাওয়ার পেছনে একদম জুতসই পর্বত সম কারণও এ পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে ফেলেছে আপনার উপদেষ্টা মন্ডলী।
লোক দেখানো ছাড়া কোন্ উপদেষ্টার টেবিলে জাতির জন্য এ পর্যন্ত কতটুকু সাকসেস জমা হয়েছে বলতে পারবেন? আপনাদের হিসাব না থাকলেও এ জাতীর কাছে তার হিসাব আছে। সব সাকসেস শুধু উপদেষ্টাদের ব্যক্তিগত তহবিলে অর্থাৎ দেশ এবং দেশের বাইরে তাদের পকেটে আর ব্যাংকে। আবারো সেই স্বৈরাচারেরই প্রতিচ্ছবি। জাতির জন্য সাকসেস শূন্য। এমনই যদি চলতে থাকে, তাহলে বিপদ অতি আসন্ন। এবারে বিপ্লব নয়, আপনাদের বিরুদ্ধে মহা বিপ্লব ধেয়ে আসবে।
মোটাদাগে একটু বলি। রেমিটেন্স?-এটা আমাদের প্রবাসীদের অবদান। এখানে আপনার ক্রেডিট হল হাসিনার চৌর্যবৃত্তির শিল্পকলার অনুপস্থিতির কারণে রেমিটেন্সের হিসাবটা আমরা দেখতে পাচ্ছি। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তথৈবচ। দ্রব্যমূল্য কিছুটা নিয়ন্ত্রণ এনেছিলেন, ধরে রাখতে পেরেছেন কি? বেকারত্বের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি হাহাকারের জন্ম দিয়েছে। উপদেষ্টাদের অসংবিধানিক আচরণ ও অহংকার মানুষকে বিষিয়ে তুলেছে। লোভাতুর সবগুলো উপদেষ্টা কোন না কোন সময়ে, কোন না কোন ভাবে বলছে- অনেকদিন থাকতে চাই, এমন সিংহাসন ছাড়তে চাই না। বিগত নয় মাসে দৃশ্যমান সংস্কার কি দেখালেন? নাকি সংস্কারের নামে উশৃংখলতা দেখালেন? প্রশাসন কি ঠিক ভাবে চালাতে পেরেছেন-চরমভাবে ব্যর্থ। যে সেনাবাহিনী চরম মুহুর্তে জুলাই বিপ্লবকে সার্থক করে তুলল, পালিয়ে থাকা ধ্বংসপ্রায় পুলিশের বিকল্প হিসেবে কাজ করলো, পুলিশকে আবারও দাঁড় করালো, সেই সেনাবাহিনীকে আপনারা প্রতিপক্ষ বানালেন, জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করাতে চাইলেন। ধীক, ধীক আপনাদের চতুরতা ভরা প্রজ্ঞাকে, জঘন্য মানসিকতা। ভুলে যাবেন না স্যার এই জাতি যতবার সংকটে পড়েছে নিজেদের পাশে সেনাবাহিনীকেই পেয়েছে এবং চেয়েছে। এক্ষেত্রে কারো ভুল ব্যাখ্যা কানে নিলে বেসামাল ভুল হয়ে যাবে।
১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার শেয়ার মার্কেট যা লুণ্ঠন করেছে, আপনার সরকার নয় মাসেই তার চেয়ে বেশি করে ফেলেছে, কি সুনিপুন আপনার অর্থ ব্যবস্থা। লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারীকে পথে বসিয়েছেন, শেয়ার মার্কেট টাকে ধ্বংস করে মানুষের হাহাকারে রূপান্তর করেছেন। কি হাস্যকর! এটাই নাকি সংস্কার। মার্কেটের ভয়ংকর নাজেহাল পরিস্থিতিতে সংস্কারের নামে আপনারা সীমারের মতো পৈশাচিক আনন্দ লুটে নিচ্ছেন। প্রায় লক্ষ্য কোটি টাকার উপরে পুঁজি হারানোর পরেও আপনার কিংবা আপনার অর্থ উপদেষ্টার সম্বিত ফিরে আসে না। এখানে আপনাদেরকে সাপোর্ট করার জন্য যোগ করলেন অর্থ বিষয়ক সহকারী নামে নতুন এক মাথামোটা চাটুকার অতিথি পাখি। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা আপনি এবং আপনার অর্থ উপদেষ্টা এ যেন “রোম নগরীর নীরো”- দেশটা রোম নগরীর মতো জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার হচ্ছে আর আপনারা বাঁশি বাজাচ্ছেন।
একের পর এক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি গুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, কোন ব্যবস্থা কি নিতে পেরেছেন? শিল্প ধ্বংস করে ধ্বংসের সংস্কার করছেন। এমন ধ্বংসাত্মক সংস্কার প্রশংসার দাবিদার বৈকি! এখন বলতেই হয়-আমরা এমন নির্বোধ আর অভাগা জাতি! আমাদের নেতা ভাগ্য এমনই। ব্যাপারটা এমন যে, নদীর কিনারায় সাপ একটা মাছকে ধরে এনে সবাইকে বলছে “ও ডুবে যাচ্ছিল তাই তুলে এনে বাঁচাচ্ছি”। অনেক বুদ্ধি আপনার এবং আপনার উপদেষ্টামন্ডলীর। স্যার-হয়তো আমরা বুঝতে পারছি না, তাই না স্যার?
অসুবিধা নেই, আপনাদের অনেক বুদ্ধি। যখন সব ফেল করবেন তখন আরেকটি ওয়ান ইলেভেন তৈরি করে দেবেন, শেষমেশ সেনাবাহিনীর কাঁধে দায় দিয়ে বিদায় হবেন। আপনারা তো সবাই অস্থায়ী পর্যটক, যার যার মত পালিয়ে যাবেন, দায়িত্ববোধের দৃশ্যমান ছিটে ফোঁটাও আপনাদের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি না, শুধুই লেফাফাদুরস্ত। কোন না কোনভাবে স্বৈরাচারের প্রেতাত্মা দেরকে পুনর্বাসন করছেন আর আমাদেরকে শুনিয়ে দিলেন আমাদের গ্রামেও তো স্বৈরাচার আছে। স্যার আমরা নেহায়েত ভদ্রতা বসত ওদেরকে শুধু মুখে থুতু দেয়া বাকি রেখেছি, তাই বলে আপনার মত করে স্বৈরাচারের রাঘব বোয়ালদের কে পুনর্বাসন করিনি। যারা আপনার মত করে পুনর্বাসন করছে তাদেরকেও ধিক্কার দিচ্ছি। আপনি শাক দিয়ে মাছ ভালই ঢাকতে পারেন, এ দেশের সহজ সরল সাধারণ জনগণ তা পারে না।
জুলাই বিপ্লবের কোথাও “সংস্কার” নামক শব্দ ছিল না। তবে আমরা সংস্কার চেয়েছি, চাই। তাই বলে সংস্কারের নামে দীর্ঘসূত্রিতা নয়, এই অজুহাতে জাতিকে গণতন্ত্র বর্জিত রাখা নয়। আমাদের জুলাই বিপ্লব ছিল মূলত গণতন্ত্রের আন্দোলন, গণতন্ত্রের কথন, গণতন্ত্রের ভাবনা, গণতন্ত্রের বিপ্লব। আর আপনারা কিনা সেই গণতন্ত্রকেই গলাটিপে হত্যা করছেন স্বৈরাচার হাসিনার মতো! এ তো “লঙ্কার রাবণ! রোমের নীরো!”
আমরা বুক ভরা আশা নিয়ে আপনাকে আমাদের সর্বোচ্চ অভিভাবক বানিয়েছিলাম। সেই অভিভাবকত্বের কতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন? একজন সেনাবাহিনী প্রধান তার অধীনস্ত সকল কর্মকর্তার সামনে কম কষ্ট নিয়ে বলেনি যে, তিনি অভিভাবকহীন। মিডিয়া দিয়ে তার গায়ে দোষ চাপালেন। আপনার দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই যে মানুষটা তার সব শক্তি নিয়ে আপনার শক্তি হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল দেশের স্বার্থে। আপনি কেন তাকে ডেকে তার কষ্টটা শুনলেন না? এত বড় দায়িত্ব কিভাবে উপেক্ষিত হতে পারল? একটু নিজের ফিরিস্তিটা দেখেন, কোন জায়গায় অভিভাবকত্বের দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন? প্রশাসন, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা, কলকারখানা, সেবা প্রতিষ্ঠান, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, ঢাকার ট্রাফিক ইত্যাদি ইত্যাদি কোথাও না। শুধুই বড় বড় বুলি আওড়িয়ে যাচ্ছেন। আপনার বিভিন্ন মিটিং আর বিদেশ বিভূঁই ভ্রমণ শেষে আপনার মহাবিজ্ঞ অপদার্থ প্রেস সচিব বুঝে নাবুঝে ইচ্ছামত একটা বক্তব্য দিয়ে বাহবা কুড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, আর ভাবছে বিরাট বড় একটা কিছু করে ফেলছে।
যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে তা অতি সামান্য, এর চেয়ে বেশি বললে জাতি হতাশ হয়ে যাবে। আরেকটি কথা স্যার অভিমান, অভিনয়, হাল ছেড়ে দেয়া, কিংবা ব্যর্থতার দায় নিয়ে চলে যাওয়া- এই মুহূর্তে কোনটাই আপনার জন্য মানানসই নয়। আপনার স্ট্রেন্থ এন্ড উইকনেস (Strength and Weakness) আপনাকেই যথা দ্রুত নিরূপণ করতে হবে এবং সে অনুযায়ী অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে যথাযথ কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। এই মুহূর্তে অন্য কোন বিকল্প জাতীয় স্বার্থে অগ্রহণযোগ্য। এখন জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নৈরাজ্য সৃষ্টি মহাপাপ, মহা অভিশাপ।
শেষ না হলেও আপাতত পরিশেষে বলতে চাই যে, আপনার উপরে আমরা আশা রাখতে চাই। আমাদের আশার বাতিটা যেন এখনই নিভে না যায়, আমরা ভবিষ্যতেও আপনাকে চাই, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক তথা গণতান্ত্রিক সরকারের সাংবিধানিক অন্তর্ভুক্তিতে ও আপনাকে চাই। আমরা আপনাকে নিয়ে পূর্বের মতোই গর্ব করতে চাই। আপনার সাথে থাকা অহংকারী, অর্বাচীন, অপদার্থ, সচতূর লোভী গুলোকে কোনভাবেই আপনার সাথে মেলাতে চাই না। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আপনার আকাশচুম্বী গ্রহণ যোগ্যতা আমাদের অহংকার হয়ে থাকুক। আপনি হয়ে থাকুন গণতন্ত্রের বার্তাবাহক।
লেখাঃ এম.আই.টি এজে