ছাইদার-আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে “আবুছাইদার রহমান স্মারক বৃত্তি” শিরোনামে রামগঞ্জ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রথমবারের মতো একটি নতুন মেধাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে।
রামগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আবুছাইদার রহমানের পরিবারের সদস্যরা ছাইদার-আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ৪০,০০০/-(চল্লিশ হাজার) টাকা মেধাবৃত্তি প্রদান করেছে।
এ উপলক্ষ্যে ১৯ এপ্রিল, ২০২৫ শনিবার বিদ্যালয়ে আগত অতিথিবৃন্দ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক, শুভানুধ্যায়ী, দাতা পরিবার এবং স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটিসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে রামগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানেঅতিথি হিসেবে মো: রায়হান আখতার, যুগ্ম সচিব,জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়, মুহাম্মদ খাদেমুল বাশার, পরিচালক, বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তর, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং অধ্যাপক, ড. মো: আনোয়ারুল ইসলাম, তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবছর রামগঞ্জ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির সর্বোচ্চ মেধাবী তিনজন করে (৬ষ্ঠ-৭ম, ৭ম-৮ম, ৮ম-৯ম এবং ৯ম-১০ম) ১২ জন শিক্ষার্থীকে মোট ৪০,০০০/- (চল্লিশ হাজার) টাকার “আবুছাইদার রহমান স্মারক বৃত্তি” প্রদান করা হয়।
আবুছাইদার রহমানের কনিষ্ঠ ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ারুল ইসলাম অনুষ্ঠানে আগত অতিথিবৃন্দকে মহতি এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন রামগঞ্জ দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হবে।
মেধাবৃত্তিক সমাজ গঠনে এবং সমাজে মেধাবীদের উৎসাহ প্রদানের জন্য সমাজের গণ্যমান্য এবং প্রতিষ্ঠিত মানুষদের এ ধরণের মহতি কাজে এগিয়ে আসার জন্য আহবান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, আবুছাইদার রহমান ১৯৪৫ সালে রংপুর জেলার নীলফামারী মহকুমার নীলফামারী থানার টুপামারী ইউনিয়নের সরকার পাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৪ সালে নীলফামারী হাইস্কুল (বর্তমানে নীলফামারী সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়) থেকে এস.এস.সি, ১৯৬৬ সালে নীলফামারী কলেজ (বর্তমানে নীলফামারী সরকারী কলেজ) থেকে এইচ.এস.সি, ১৯৭০ সালে নীলফামারী কলেজ থেকে বি.এ. ডিগ্রী এবং ১৯৮২-৮৩ সালে রংপুর শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয় থেকে বি.এড. ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেন। তাঁর শিক্ষকতা জীবন শুরু হয় ১৯৬৮ সালে চওড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে। এরপর ১৯৭০ সালে রামগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন, ১৯৭৪ প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহন করেন এবং ১৯৯১ সালে ১৬ জানুয়ারী কর্মরত অবস্থায় তাঁর প্রিয় প্রতিষ্ঠানে মৃত্যুবরণ করেন। পারিবারিক জীবনে আবুছাইদার রহমান পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ের জনক। তাঁর সন্তানেরা সবাই পিতার মতাদর্শে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সফলতা এবং সততার সাথে প্রতিষ্ঠিত।