বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এভিয়েশন সিকিউরিটি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাম্প্রতিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
আন্দোলনে বিমান বাহিনীকে ‘দখলদার’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়, একই সঙ্গে বেবিচক চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিও তোলা হয়। তবে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে গেলে, কর্মীরা চেয়ারম্যানের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, যা দেশের সিভিল এভিয়েশনের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আন্দোলন কর্মচারীদের উসকানি দেওয়ার পাশাপাশি আন্দোলনে বাড়তি জনবল যোগ করতে হারুন ও অলক নামক দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে আউটসোর্সিংয়ের প্রায় ১২০ জন শ্রমিককে যুক্ত করা হয়। এমনকি ঠিকাদারের গাড়িচালকরাও এই আন্দোলনে অংশ নেন। এছাড়া সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা শহীদুল্লাহর ভাই সাদ্দামসহ কিছু স্থানীয় ব্যক্তিকেও সেখানে দেখা যায়, যারা মূলত বেবিচকের কর্মী নন।
বিভিন্ন সূত্র জানায়, বহিরাগতরাই মূলত আন্দোলনকে সহিংস করে তুলেছে এবং চেয়ারম্যানের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণের নেতৃত্ব দিয়েছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, আন্দোলনে উসকানিদাতাদের মধ্যে বেবিচকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীও ছিলেন, যারা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।
এমনকি মাদকসহ আটক হওয়া কর্মীরাও এই আন্দোলনে অংশ নেয়। এছাড়া আরও উঠে এসেছে যে, এই আন্দোলনের মাধ্যমে কিছু মানুষ চাচ্ছে সরকারকে বেকায় ফেলতে।
কাদের স্বার্থে আন্দোলন? তদন্তে উঠে এসেছে যে, এভিয়েশন সিকিউরিটির কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী নানা অনিয়ম ও সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের অনিয়মের মাধ্যমে অনেকে কাওলাতে বাড়িও করেছেন। বিমান বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব নেওয়ার পর এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যায়, যা তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে। এ কারণেই তারা বিমান বাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়।