গত ২৯ মার্চ ২০২৩ মালয়েশিয়া সরকার, মালয়েশিয়া দূতাবাসের দু’জন ইমিগ্রেশন অফিসারকে (ইজ্জাতুল ডায়ানা ও আজিজান ইবনে আব্রাহাম), বেআইনি ভিসা ইস্যুর অভিযোগে তাদের নিজ দেশে ফেরত নিয়ে যায় এবং এয়ারপোর্টে তাদের গ্রেফতার করে।
উল্লেখ্য, এই বেআইনি ভিসা ইস্যু ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া কলিং ভিসার চুক্তির পর থেকেই শুরু হয়। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর, ৩০ মার্চ ২০২৩ তারিখ বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ান হাইকমিশনার হাজনা বিনতে হাসিম তার অফিসারদের নিয়ে মিটিং করেন। মিটিংয়ে মালয়েশিয়ার ইমেজ রক্ষার্থে ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করা হয়।
মিটিংয়ের দুই দিন পর, এজাহারে নাম না থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশি লোকাল স্টাফদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেনঃ কবির হোসেন, ইমতিয়াজ আহমেদ, সত্যজিৎ সরকার, সেলিম হোসেন, শাহান হক এবং আশিক রেজা সুমন। এছাড়া আরও দুইজন, আব্দুর করিম ও জেমস এলিটকে জোরপূর্বক চাকরিচ্যুত করা হয়।
এই ঘটনার পেছনে প্রধান হোতা হিসেবে হাইকমিশনার হাজনা বিনতে হাসিম এবং তার সহযোগী থার্ড সেক্রেটারি ফাহরুজ ফায়েজ রোসলানের নাম উঠে এসেছে, যিনি এসবি’র সাবেক এএসপি হাসানের সঙ্গে মিলে কাজ করছিলেন।
সাবেক ডিবি প্রধান হারুন ও সাবেক এসবি কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের সক্রিয় সহযোগিতায় এসময় লোকাল স্টাফদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। প্রত্যেক স্টাফকে গ্রেফতারের পর কুমিল্লায় নিয়ে যাওয়া হয়, এবং সেখানে ডিবি কর্মকর্তা শিবেন বিশ্বাস মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং GR ৩৯৯/২০২৩, কোতোয়ালি মডেল থানা, কুমিল্লা)।
মামলায় বেআইনি ভিসার অভিযোগ আনা হয়েছে, যেখানে পুলিশের ৩০ জন সদস্য সাক্ষী হিসেবে রয়েছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশি ভুক্তভোগী স্টাফগণ তাদের প্রতি মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে বিগত মাসগুলোর বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে প্রধান উপদেস্টার কাছে আকুল আবেদন জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের কাছে নিরপেক্ষ বিচার দাবি করে তাদের চাকুরিতে পুনঃবহাল করে সামাজিক মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়ার অনুরোধ জানান।