নিজস্ব প্রতিবেদক: অবরোধে প্রতি বাসে আগুন দেওয়ার বিনিময়ে অগ্নিসংযোগকারীরা পান ৭ হাজার টাকা। আগুন লাগিয়ে ভিডিও করে সেই ভিডিও হোয়াটসঅ্যাপে স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের কাছে পাঠানো হয়। বাস পোড়ানোর মূল হোতা এবং বাসে আগুন দেওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
এর আগে বুধবার মিরপুরের কালশীতে বসুমতী পরিবহনের একটি বাস পোড়ায় দূর্বৃত্তরা। পরে এ ঘটনায় গ্রেপ্তারেরা হন- আল মোহাম্মদ চাঁন, মো. সাগর, মো. আল আমিন ওরফে রুবেল ও মো. খোরশেদ আলম।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা স্থানীয় যুবদল কর্মী। তাদের দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনায় আল মোহাম্মদ চাঁন রাজধানীর মিরপুর ও পল্লবীর আশপাশের এলাকায় বাসে অগ্নিসংযোগ করার পরিকল্পনা করে।
পরবর্তীতে বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার চাঁন ও তার সহযোগী সাগর ও আলামিনসহ রাজধানীর মিরপুর-১১, তালতলা নাভানা, কালশী রোড, সিরামিক রোড এলাকায় সুবিধাজনক স্থানে সুবিধামতো সময়ে যানবাহনে আগুন দেওয়ার জন্য রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত রেকি করে।
সন্ধ্যায় আগুন দেওয়ার জন্য মোটরসাইকেল থেকে ২৫০ এমএল পরিমাণ পেট্রল বের করে টাইগার এনার্জি ড্রিংকের বোতলে ভরে তার বন্ধুর আল আমিনের কাছে দেয়। বসুমতী পরিবহনের একটি বাস সুবিধাজনক হওয়ায় বাসের মাঝের জানালা খুলে পেট্রল ঢেলে দেশলাই দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে সাগরের সঙ্গে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, চাঁন ধারণকৃত ভিডিওটি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের কাছে পাঠায়। এই কাজের জন্য চাঁন প্রত্যেকের জন্য ১০ হাজার টাকা করে পেলেও তিনি সাগর ও আল আমিনকে ৭ হাজার টাকা করে দেয়। মূলত দলের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি ও দলের প্রতি নিজেদের আস্থার প্রতিদান দিতে তারা এ সব নাশকতা ও সহিংসতার ভিডিও ধারণ করে তাদের দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কাছে পাঠাত।