Logo

হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে সর্বস্বান্ত লাখ লাখ মানুষ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৩
প্রিন্ট তারিখ: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডেসটিনি-২০০০, ইউনি পে টু ইউ-এর মতো প্রতারক এমএলএম কোম্পানির তালিকায় নাম লেখাল এমটিএফই নামের আরেক প্রতিষ্ঠান। অনলাইন ট্রেডিংয়ের নামে বাংলাদেশিদের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে টাকা তোলার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে তারা।

ফলে অধিকাংশ বাংলাদেশির ওয়ালেটের ব্যালেন্সে ডলার থাকলেও সেই ডলার তারা তুলতে পারছেন না। শুক্রবার ও শনিবার অনেকের এমটিএফই ওয়ালেটের ব্যালেন্স ঋণাত্মক বা মাইনাস দেখানো হচ্ছে। অর্থনীতির ভাষায় প্রতিষ্ঠান লোকসান করায় গ্রাহকদের কাছ থেকে তারাই বরং টাকা পাবে বলে দাবি করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, এ ধরনের কোনো কোম্পানি বা অ্যাপের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিবন্ধন নেই। ফলে তারা যেমন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কোনো তথ্য দেয় না। তেমনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকও তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য আনে না।

ফলে আলোচ্য প্রতারণার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তিনি বলেন, এটি হচ্ছে এক ধরনের ফৌজদারি অপরাধ। এ অপরাধ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আওতায় নেই। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সময়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার, সভা-সেমিনার করে বলা হচ্ছে, এ ধরনের অনিবন্ধিত কোম্পানি বা অ্যাপে বা ডিজিটাল ফর্মের কোনো মুদ্রায় বা অন্য কোনোভাবে বিনিয়োগ না করতে। এ ধরনের বিনিয়োগকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে।

তারপরও কেউ কেউ এ ধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে বিনিয়োগ করছেন। একটি পর্যায়ে তারা প্রতারিত হচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, যে কোনোভাবেই হোক সৎ বা বৈধভাবে মুনাফা করা এত সহজ নয়। অ্যাপটি যেভাবে প্রচারণা চালাচ্ছিল, ঘরে বসেই আকর্ষণীয় মুনাফা করার সুযোগ। এ থেকেই সন্দেহ করা উচিত ছিল।

জানা গেছে, অনলাইন ট্রেডিং গ্রুপ এমটিএফই। গুগল প্লে-স্টোর থেকে এমটিএফই অ্যাপ নামিয়ে ব্যবহার করতে হয়। যেখানে অ্যাকাউন্ট চালু করার জন্য সর্বনিম্ন ২৬ ডলারের সমপরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। অ্যাকাউন্ট খুলতে এখানে যাদের অ্যাকাউন্ট রয়েছে-এ রকম কারও একজনের রেফারেন্স লাগে।
এখানে বিনিয়োগ করলে প্রতিদিন বিনিয়োগকৃত অর্থের বিপরীতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডলার পাওয়া যেত। আর এমন প্রলোভনে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ। এরমধ্যে নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষ বেশি। জেলাগুলোতে এমটিএফই অ্যাপের কয়েকজন করে সিও পদধারীও কাজ করতেন।

অন্যকে অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার মাধ্যমে তারাও পেতেন মোটা অঙ্কের কমিশন। নওগাঁ শহর কিংবা গ্রাম সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছিল ওই অ্যাপটি। যেখানে শুধু শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিতরাই নন, বিনিয়োগ করেছিলেন ব্যাংকার, শিক্ষক এমনকি গণমাধ্যমকর্মীও। কিন্তু উধাও হয়ে যায় গ্রুপটি।

অ্যাপটি তৈরি ও পরিচালনার সঙ্গে বাংলাদেশের কয়েক ব্যক্তি জড়িত। এর মাধ্যমে যে কেউ বিনিয়োগ করতে পারেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের বেচাকেনা, পণ্য কিনে মজুত করা, সেগুলো আবার পরে বিক্রি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগ, বিভিন্ন ধরনের মুদ্রা বা অন্যান্য ডিজিটাল মুদ্রায় বিনিয়োগ করা হয় বলে এটি থেকে প্রচারণা চালানো হয়।

এতে বিনিয়োগ করলে ঘরে বসেই আকর্ষণীয় মুনাফা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই ধরনের প্রচারণায় বাংলাদেশের শহরের পাশাপাশি গ্রাম-গঞ্জের মানুষ এতে বিনিয়োগে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। প্রায় ৭-৮ বছর থেকে এ ধরনের অ্যাপের মাধ্যমে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা করা হচ্ছে। এতদিন এখানে বিনিয়োগ করে অনেকে কিছু মুনাফা পেলেও প্রতারণার বিষয়টি ব্যাপকভাবে সামনে আসেনি।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬