Logo

ভ্যালেন্টাইন দিনে প্রশান্ত মহাসাগরের পাড়ে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রশান্ত মহাসাগরের পাড়ে এসেছি। জলি, আমার বোন সে প্রায়ই হাইকিং করে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা দিয়ে। আমি হুট করে লসএঞ্জেলসে এসেছি, কয়েক দিন থাকব, জলির বাড়ি উডহীলে। আজ ১৪ই ফেব্রুয়ারি বিকেলে জলির বাড়িতে বড় আকারে পার্টি হবে। সে বললো আজ হাইকিংয়ে যাব না বরং চলুন আপনাকে নিয়ে ম্যালিবু বিচে ঘুরে আসি। সাগর পাড় দিয়ে হাঁটাহাটি করা আমার বহু দিনের অভ্যাস।

তাছাড়া সাগরের ঢেউ যখন বালুর উপর আঘাত করে ফিরে যায় আবার ফিরে আসে, দেখে মনে হয় পানি এসেছিল বালুর সাথে থাকতে ক্ষনিকের তরে। জলি আর আমি বালুর উপর দিয়ে হাঁটছি সাথে উপভোগ করছি প্যাসিফিক মহসাগরকে। দেখছি পাহাড়ের উপর গড়ে উঠা বিশাল বিলাসবহুল বসত বাড়ি। দেখতে দেখতে হাজির হোল এক ঝাঁক সামুদ্রিক পাখি, সুইডিশ ভাষায় এ পাখির নাম ‘ফিস্ক মোছ’ (fiskmås), ইংরেজিতে বলে ‘সিমিউ’ (seamew)। সামুদ্রিক এই পাখির জীবনধারা, আচরণে আকর্ষণীয় অভিসারী বিবর্তন প্রদর্শন করে তাদের ভালোবাসার মাঝে। সাধারণত সামুদ্রিক এই পাখিদের আয়ু অনেক বেশি হয়। এরা প্রজনন করে অনেক পরে। অন্যান্য পাখিদের থেকে কম বংশ বিস্তার করে তবে তারা তাদের বাচ্চার পিছনে অনেক সময় ব্যয় করে থাকে।

সামুদ্রিক এই পাখি এবং মানব জাতির মধ্যে অনেক ঐতিহাসিক মিল রয়েছে। যেমন তারা শিকারিদের খাদ্য সরবরাহ করে, জেলেদের মাছ ধরার ভান্ডারে যাবার পথ দেখায়, এবং নাবিকদের স্থলভূমিতে পৌঁছানোর পথও দেখায়। ১৪ই ফেব্রুয়ারি পৃথিবী জুড়ে ভ্যালেন্টাইনডে বা ভালোবসার দিন। সামুদ্রিক এই পাখি আমাকে তার উপর একটি শিক্ষা দিয়েছে। বালুর উপর পড়ে রয়েছে একটি গোলাপ ফুল ডাল সহ, ওমা একটি ফিস্ক মোছ দিব্যি ফুলটিকে মুখে নিয়ে কি সুন্দর করে চলে গেল ফুলটি উপহার দিতে তার সঙ্গিনীকে।

দৃশ্যটি দেখে আমি তো অবাক এবং মনোমুগ্ধ হয়ে গেলাম। পাখির জগতে ভালোবাসা আছে নিশ্চিত কিন্তু সাগরের তীরে গোলাপ ফুল উপহার দেয়া সঙ্গিনীকে তাও ১৪ই ফেব্রুয়ারি, এ দৃ্শ্যেটি ছিল বিরল। ভালোবাসার মধ্যে রয়েছে শুধু ভালোবাসা, সে ভালোবাসা হতে পারে সবার জন্য। তাই সবাইকে প্রাণঢালা ভালোবাসা আজকের এই মধুময় ভ্যালেন্টাইন দিনে।

রহমান মৃধা, দূরপরবাস সুইডেন থেকে Rahman.Mridha@gmail.com

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: desh.shamachar@gmail.com
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬