Logo

রহিমা ফুডের শেয়ারে কারসাজিতে ২০ লাখ টাকা জরিমানা

রহিমা ফুড
ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
প্রিন্ট তারিখ: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

তালিকাভুক্ত রহিমা ফুড করপোরেশনের শেয়ার নিয়ে কারসাজি ও আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ ঘটনায় এক শেয়ার ব্যবসায়ী ও কোম্পানিটির এক কর্মকর্তাকে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, একজন নিজের দুটি বিও হিসাবের মধ্যে কৃত্রিম লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারের চাহিদা তৈরির চেষ্টা করেছেন। অন্যজন কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় লেনদেন করে মুনাফা করেছেন।

আজ (১৪ অক্টোবর) বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম আগামীর সময়কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পৃথক দুটি এনফোর্সমেন্ট আদেশে জরিমানার মুখে পড়েছেন শেয়ার ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেন এবং রহিমা ফুড করপোরেশনের ভ্যাট ইন-চার্জ মো. সোলয়মান। আদেশ অনুযায়ী, দুজনকেই ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ জমা না দিলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন।

কয়েক সপ্তাহে শেয়ারের দাম দ্বিগুণের বেশি

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নিয়েছে বিএসইসি। তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ১৫ জুন থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত রহিমা ফুডের শেয়ার লেনদেনে অস্বাভাবিকতা ছিল। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৬৮ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৪১ টাকা ২০ পয়সায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ, শেয়ারটির দাম বেড়েছিল প্রায় ১০৫ শতাংশ।

শেয়ারের এমন অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির পেছনে কারসাজি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে একাধিক অনিয়মের তথ্য পায় ডিএসই। তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় বিএসইসি।

নিজের দুই বিও হিসাবেই কৃত্রিম লেনদেন

ডিএসইর তদন্ত অনুযায়ী, বিনিয়োগকারী মো. দেলোয়ার হোসেন এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ ও শেলটেক ব্রোকারেজে থাকা নিজের দুটি বিও হিসাব ব্যবহার করে ‘ওয়াশ ট্রেড’ বা কৃত্রিম লেনদেন করেন। ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে প্রতি শেয়ার ১৩৪ টাকা দরে ২ হাজার ৮৬টি শেয়ার লেনদেন করেন তিনি।

এ ধরনের লেনদেনে শেয়ারের প্রকৃত মালিকানা বদলায় না। তবে বাজারে কেনাবেচার কৃত্রিম চিত্র তৈরি করে শেয়ারটির চাহিদা ও দাম সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিএসইসি মনে করছে, দেলোয়ারের এ কার্যক্রম সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর বিধান লঙ্ঘন করেছে।

শুনানিতে দেলোয়ার দাবি করেন, ঘটনাটি প্রযুক্তিগত ভুলের কারণে ঘটেছে। তবে কমিশন তাঁর বক্তব্য গ্রহণ করেনি। বরং লেনদেনটিকে ইচ্ছাকৃত বাজার কারসাজি হিসেবে বিবেচনা করে জরিমানার সিদ্ধান্ত নেয়।

নিষিদ্ধ সময়ে শেয়ার লেনদেন, মুনাফা ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা

অন্যদিকে, রহিমা ফুডের কর্মকর্তা মো. সোলয়মানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা অবস্থায় তিনি ও তাঁর স্ত্রী নাজমা বেগম শেয়ার কেনাবেচা করেন।

বিএসইসির তদন্তে বলা হয়েছে, কমিশনের ‘সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ বিধিমালা, ২০২২’ অনুযায়ী নির্ধারিত নিষিদ্ধ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন করেন সোলয়মান দম্পতি। ২০২৫ সালের ১ মে থেকে প্রযোজ্য নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাঁরা মোট ১২ হাজার ৪০৯টি শেয়ার কেনেন এবং ১০ হাজার ২৫৪টি শেয়ার বিক্রি করেন। এসব লেনদেন থেকে তাঁদের মুনাফা হয় ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।

শুনানিতে সোলয়মান দাবি করেন, আইনি বিধিনিষেধ সম্পর্কে তিনি জানতেন না। তবে কমিশন তাঁর এ যুক্তি গ্রহণ করেনি। বিধিমালা অমান্য করে নিষিদ্ধ সময়ে শেয়ার লেনদেনের দায়ে তাঁকেও জরিমানা করা হয়েছে।

বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর বিএসইসি

বিএসইসির এ পদক্ষেপ পুঁজিবাজারে অনিয়ম ও কারসাজি ঠেকানোর প্রচেষ্টার অংশ। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির অবস্থান, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রহিমা ফুডের শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির তদন্তে উঠে আসা এ দুই ঘটনা পুঁজিবাজারে কৃত্রিম লেনদেন এবং কোম্পানির কর্মকর্তাদের নিষিদ্ধ সময়ে শেয়ার কেনাবেচার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬