Logo

বাণিজ্য সহজীকরণে বড় উদ্যোগ, ডব্লিউটিওর শর্ত দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
প্রিন্ট তারিখ: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে দীর্ঘসূত্রতা কমানো, পণ্য খালাস দ্রুত করা এবং ব্যবসার ব্যয় কমাতে বাণিজ্য সহজীকরণ কার্যক্রমে গতি আনার তাগিদ বাড়ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন এগ্রিমেন্টের আওতায় বাংলাদেশের যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন বাকি রয়েছে, সেগুলো দ্রুত কার্যকর করার পাশাপাশি কাস্টমস ও বন্দর ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে শুধু উৎপাদন খরচ কমানো যথেষ্ট নয়। বন্দর থেকে পণ্য খালাস, কাস্টমস প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় সনদ ও অনুমোদন এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন এগ্রিমেন্ট বা টিএফএর মূল উদ্দেশ্য হলো সীমান্ত দিয়ে পণ্য চলাচল, পণ্য ছাড়করণ এবং কাস্টমস প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করা। সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশও এ চুক্তির আওতায় বিভিন্ন সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত সমস্যা এবং কাগজনির্ভর প্রক্রিয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

এক জায়গায় সেবা দেওয়ার ওপর জোর

আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে কাস্টমস ছাড়াও বন্দর কর্তৃপক্ষ, ব্যাংক, মান নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রম যুক্ত থাকে। ফলে একটি চালানের জন্য ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দপ্তরে তথ্য ও কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

এ জটিলতা কমাতে ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থাকে কার্যকর করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর লক্ষ্য হলো ব্যবসায়ীরা যেন একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি জমা দিতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারে।

এর ফলে একই তথ্য বারবার জমা দেওয়ার প্রয়োজন কমার পাশাপাশি পণ্য ছাড়ের সময় ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

কাস্টমস ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার

বাণিজ্য সহজীকরণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কাস্টমস ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও ঝুঁকিভিত্তিক করা। সব চালান একইভাবে পরীক্ষা না করে ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় পণ্য যাচাই ও ছাড়করণের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা গেলে বন্দরে অপেক্ষার সময় কমানো সম্ভব।

পাশাপাশি আগাম তথ্য দাখিল, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে ডিজিটাল তথ্য বিনিময় এবং পণ্য ছাড়করণ প্রক্রিয়ায় অটোমেশনের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বন্দরে পণ্য আটকে থাকলে শুধু সময়ই নষ্ট হয় না, বাড়ে সংরক্ষণ, পরিবহনসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচও। শেষ পর্যন্ত এসব ব্যয়ের একটি অংশ পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হয়।

এলডিসি উত্তরণের পর বাড়বে গুরুত্ব

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য সহজীকরণের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ব্যবসা ও রপ্তানি খাতকে নতুন প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

এ অবস্থায় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্দর ও কাস্টমসের দক্ষতা বাড়ানো, পণ্য পরিবহনের সময় কমানো এবং ব্যবসা পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয় কমানোকে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে একজন ক্রেতার কাছে শুধু পণ্যের দাম নয়, নির্ধারিত সময়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। বন্দরে দীর্ঘসূত্রতা কিংবা কাস্টমস জটিলতার কারণে পণ্য পাঠাতে দেরি হলে রপ্তানিকারকের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

দ্রুত বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

বাণিজ্য সহজীকরণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও এসব পরিকল্পনা বাস্তবে কত দ্রুত এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ।

ডব্লিউটিওর বাণিজ্য সহজীকরণসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আমদানি-রপ্তানিতে সময় ও ব্যয় কমানো, পণ্য খালাস দ্রুত করা এবং ব্যবসার পরিবেশ আরও সহজ করার সুযোগ তৈরি হবে।

আর দীর্ঘমেয়াদে এসব সংস্কারের সুফল পাওয়া গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণেও তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: desh.shamachar@gmail.com
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬