চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নের প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে উপস্থাপন করা হয়
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৬২৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। প্রকল্পের আওতায় সড়ক, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নৌ-যোগাযোগের অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
সচিবালয়ে গতকাল সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এলএনজি ও সার আমদানিসহ মোট ১০টি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।
চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নের প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে উপস্থাপন করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বিনিয়োগ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প’-এর আওতায় এসব কাজ করা হবে।
প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ ও উপযোগ সেবার সংস্থান-সংক্রান্ত কাজ চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের জন্য ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় সিআরবিসির অনুকূলে এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতিতে দরপত্রের নথি ইস্যু করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব দাখিলের পর দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি তা যাচাই-বাছাই ও দরকষাকষি করে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিআরবিসির মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কাজটি বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয়া হয়।
প্রকল্পটির পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব চলতি বছরের ২০ আগস্ট পরিকল্পনা বিভাগ অনুমোদন করেছে। বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
অনুমোদিত প্যাকেজের আওতায় ১ হাজার ২৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ১০ মিটার প্রশস্ত একটি সড়ক এবং ১ হাজার ১৮১ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ২৪ মিটার প্রশস্ত আরেকটি সড়ক নির্মাণ করা হবে। এছাড়া রয়েছে ২০ হাজার ৩০৪ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার। পাশাপাশি দৈনিক ৪ দশমিক ২৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পরিবহনের সক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস সঞ্চালন লাইন ও জেলা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। শিল্পাঞ্চলটিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য দৈনিক ২৫ মিলিয়ন লিটার সক্ষমতার কেন্দ্রীয় বর্জ্য পানি শোধনাগার, কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র ও কঠিন বর্জ্যের বৈজ্ঞানিক শোধন ব্যবস্থা থাকবে। কেন্দ্রীয় বর্জ্য পানি শোধনাগারে শোধিত পানি পুনর্ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হবে। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, ১২ কিলোমিটার সীমানাপ্রাচীর এবং দুটি ৩৩/১১ কিলোভোল্ট বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এলএনজি আমদানি
বৈঠকে জিটুজি ভিত্তিতে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত দুই কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। বিদ্যমান চুক্তি থেকে ভিন্ন দরে এসব কার্গো কেনা হবে। এতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দর ধরা হয়েছে জেকেএম থেকে শূন্য দশমিক শূন্য ২ ডলার কম হারে।
সার আমদানি
বৈঠকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় বিএডিসির মাধ্যমে কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে চারটি পৃথক প্রস্তাবে ১ লাখ ৫ হাজার টন এমওপি এবং ৪০ হাজার টন ডিএপি সার কেনার অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ৯৮২ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
এর মধ্যে কানাডা থেকে প্রতি টন ৩৮৩ দশমিক ৮০ ডলার দরে দুটি পৃথক প্রস্তাবে ৮০ হাজার টন এবং একই দরে রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার কেনা হবে। এছাড়া সৌদি আরব থেকে প্রতি টন ৮৮৫ ডলার দরে কেনা হবে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার।
এসপিএম পরিচালনায় ঠিকাদার
‘সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন’ প্রকল্পের কাজ প্রায় দুই বছর আগে শেষ হলেও তা পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়নি। গতকালের বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিষ্ঠান পিটি পারতামিনা ট্রান্স কন্টিনেন্টালকে পাঁচ বছরের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৯৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকা।
অন্যান্য ক্রয়
বৈঠকে ২০২২ সালের বন্যায় সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, সেতু ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণের একটি প্যাকেজও অনুমোদন দেয়া হয়। ইনফ্রাটেক কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড ও মেসার্স বেলাল কনস্ট্রাকশন যৌথভাবে কাজটি করবে। এতে ব্যয় হবে ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
এছাড়া অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড প্রতি কেজি ৭৬ টাকা ৮৯ পয়সা দরে এসব ডাল সরবরাহ করবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
পৃথক আরেকটি প্রস্তাবে ৫০টি প্যাকেজে এক কোটি পিস পাটের বস্তা কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ১৩টি প্রতিষ্ঠান এসব বস্তা সরবরাহ করবে। এতে ব্যয় হবে ১১১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।