Logo

সিটি ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে কারসাজির অভিযোগ, তদন্ত করবে বিএসইসি (পর্ব-১)

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিটি ইন্স্যুরেন্স পিএলসি’র শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্যের (এনএভিপিএস) চেয়ে দর বেড়েছে ৪৫০ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ার দরের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে কারসাজির আভাস পাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা এই মুহুর্তে সিটি ইন্স্যুরেন্সে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্রটি জানায়, একটি কোম্পানির শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদ মূল্যের চেয়ে বাজার দর অস্বাভাবিক বেশি হওয়া মানে শেয়ারটি অতিরিক্ত মূল্যায়িত বা ‘ওভারভ্যালুড’। সাধারণত বাজারে কৃত্রিম বা কারসাজির মাধ্যমে এনএভিপিএস-এর তুলনায় শেয়ার দর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। আর এই কারসাজির সাথে অনেক সময় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জড়িত থাকে।

কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী বছরে (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) সিটি ইন্স্যুরেন্সের এনএভিপিএস এসে দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা ২৪ পয়সা। আর এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোম্পানির সর্বশেষ সমাপনী শেয়ার দর (ক্লোজিং প্রাইস) ছিল ১২৭ টাকা ৯০ পয়সা। এক্ষেত্রে কোম্পানিটির এনএভিপিএস-এর তুলনায় শেয়ার দর বেড়েছে ১০৪ টাকা ৬৬ পয়সা, যা অস্বাভাবিক বলেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্ট বিশেজ্ঞদের মতে, একটি কারসাজি চক্র সিটি ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর কারসাজির মাধ্যমে বৃদ্ধি করছে। এই অতি মূল্যায়িত শেয়ারে সাধারণ ও নিরীহ বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করলে তাদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ শেয়ারটি কারসাজির মাধ্যমে অতিরিক্ত দাম বাড়িয়ে তা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে চক্রটি মার্কেট থেকে চলে যাওয়ার পায়তারা করছে।

এদিকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ব্যাপারে সিটি ইন্স্যুরেন্সের দক্ষতা ও সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে জেনেক্স ইনফোসিসের শেয়ারে বিনিয়োগ করে বিদায়ী বছরে সিটি ইন্স্যুরেন্সের আনরিয়েলাইজড লোকসান হয়েছে ৯০ লাখ ৬৯ হাজার ৮৪০ টাকা বা ৭৬ শতাংশ।

এছাড়াও একই সময়ে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসি (এলএইচবি) এর শেয়ারে ৫১ শতাংশ এবং বসুন্ধরা পেপার মিলসের শেয়ারে ৬৭ শতাংশ আনরিয়েলাইজড লোকসান করেছে সিটি ইন্স্যুরেন্স।

এদিকে শেয়ারবাজারে বিভিন্ন তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে সিটি ইন্স্যুরেন্সের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৩১ কোটি ৭০ লাখ ৮৬ হাজার ৮১ টাকা। এই বিনিয়োগের বিপরীতে বিদায়ী বছরে মোট মার্কেট ভ্যালুর পরিমাণ এসে দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৬৩ লাখ ১১ হাজার ১৫২ টাকা। এক্ষেত্রে সিটি ইন্স্যুরেন্সের আনরিয়েলাইজড লোকসান হয়েছে ১৬ কোটি সাত লাখ ৭৪ হাজার ৯২৯ টাকা বা ৫১ শতাংশ।

এসব ব্যাপারে জানতে সিটি ইন্স্যুরেন্সের সচিব মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান সরকার (ভারপ্রাপ্ত) ও প্রধান  অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) আজিজুল হককে একাধিকবার ফোন করা হলে তারা কোনো উত্তর দেননি। এমনকি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

এনএলআই সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাহেদ ইমরান দেশ সমাচারকে বলেন, যে কোম্পানি ওভারভ্যালুড অবস্থায় রয়েছে, সেটির ব্যাপারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ (বিএসইসি) সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাহলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবেন।

বিএসইসি’র মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম দেশ সমাচারকে বলেন, কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সিটি ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিসহ সামগ্রিক বিষয় খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে খুব শিগগিরই।

তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সিটি ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে তদন্ত শুরু করে দিয়েছে।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্যপরিষদের উপদেষ্টা মিজান উর রশীদ দেশ সমাচারকে বলেন, একটি কারসাজি চক্র সিটি ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার নিয়ে কারসাজি করছে, দর বাড়াচ্ছে। এদের ব্যাপারে এখনোই বিএসইসিকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অনুরোধ করবো তারা যেন এই মুহুর্তে সিটি ইন্স্যুরেন্সে বিনিয়োগ না করে।

উল্লেখ্য, সিটি ইন্স্যুরেন্সের পরিশোধিত মূলধন ৬৮ কোটি ১৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ২৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ, উদ্যোক্তা পরিচালকদের মালিকানা রয়েছে ৩৬ দশমিক ০৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ৩৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে দশমিক ০১ শতাংশ।

শিগগিরই সিটি ইন্স্যুরেন্সের সামগ্রিক অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশ করা হবে দ্বিতীয় পর্ব।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: desh.shamachar@gmail.com
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬