নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স পিএলসি তারল্য সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিমা খাতের কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করেছে। কোম্পানি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্রটি আরও জানায়, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) থেকে প্রাপ্ত সুদ জনিত আয়ও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোম্পানিটির প্রতি হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ হিসাব বছরে ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের নগদ প্রবাহ এসে দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ৬০ লাখ দুই হাজার ৯৮০ টাকা। এর আগের বছর যা ছিল ছয় কোটি ৩৭ লাখ ৪৯ হাজার ২৪২ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানির নগদ অর্থ প্রবাহ কমেছে তিন কোটি ৭৭ লাখ ৪৬ হাজার ২৬২ টাকা বা ৫৯ শতাংশ। আর শেয়ার প্রতি নগদ প্রবাহও (এনওসিএফপিএস) কমেছে ৫৯ শতাংশ। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ হিসাব বছরে এনওসিএফপিএস ছিল দশমিক ৩১ টাকা। এর আগের বছর যা ছিল দশমিক ৭৬ টাকা।
এদিকে, বিনিয়োগকারীদের অর্থ এফডিআর করে কাঙ্খিত সুফল পায়নি কোম্পানিটি। বেশি লাভের আশায় বিমা খাতের কোম্পানিটি এফডিআর করলেও সন্তোষজনক মুনাফাতো বাড়েইনি উপরন্তু কমেছে।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ হিসাব বছরে কোম্পানির এফডিআর বাবদ সুদজনিত আয় হয়েছিল ৬৬ লাখ ৭৫ হাজার ১৭১ টাকা। আর ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ হিসাব বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৫৪ লাখ ১১ হাজার ৯৭৫ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে আয় কমেছে ১২ লাখ ৬৩ হাজার ১৯৬ টাকা বা ১৯ শতাংশ।
সাধারণত সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতি বছর মুনাফা থেকে কিছু খরচ করে থাকে কোম্পানিগুলো, যেটি কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সেবিলিটি (সিএসআর) খাত বলে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ হিসাব বছরে ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স সিএসআর খাতে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করলেও ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ হিসাব বছরে কোনো ব্যয় করেনি বা বরাদ্দ রাখেনি। এতে করে কোম্পানিটি দিন দিন যে আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
এসব ব্যাপারে জানতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম ও সচিব মো. আব্দুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। এমনকি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক প্রতিবেদনে গরমিল (পর্ব-১)
উল্লেখ্য, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের পরিশোধিত মূলধন ৮৩ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজার টাকা, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ২৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং উদ্যোক্তা পরিচালকদের মালিকানা রয়েছে ৪১ দশমিক ১১ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ২৮ টাকা ৪০ পয়সা
শিগগিরই ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের আরও বিভিন্ন রকম অসঙ্গতি, দুর্নীতি নিয়ে তৃতীয় পর্ব প্রকাশ করা হবে।