Logo

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত ‘মিস্টার বাদল’, সেরা পরিচালকের স্বীকৃতি আশরাফুজ্জামানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

একটি গল্পকে শুধু বলা নয়, সেটিকে নিজের নির্মাণভাষায় দর্শকের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন নির্মাতা আশরাফুজ্জামান। তাঁর চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত ‘মিস্টার বাদল’ এবার জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে। সুইডেনের সিটি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল স্টকহোম ২০২৬-এ ‘বেস্ট ডিরেক্টর’ বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন আশরাফুজ্জামান। একই সঙ্গে কানাডার ১১তম কানাডা ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-এ অফিসিয়াল সিলেকশন পেয়েছে চলচ্চিত্রটি।

‘মিস্টার বাদল’-এর অন্যতম শক্তিশালী দিক এর চিত্রনাট্য। গল্পটি সরল পথে এগিয়ে না গিয়ে বিভিন্ন সময়, সম্পর্ক ও আবেগের স্তর অতিক্রম করে সামনে এগিয়েছে। কমেডি, প্রেম, স্মৃতি, বিচ্ছেদ এবং নস্টালজিয়াকে একসঙ্গে ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন আশরাফুজ্জামান। গল্পের একাধিক ক্লাইম্যাক্স এবং চরিত্রের পরিবর্তন দর্শককে কাহিনির পরবর্তী মোড় সম্পর্কে আগ্রহী করে তোলে।

চিত্রনাট্যের পাশাপাশি চলচ্চিত্রটির নির্মাণশৈলীতেও আশরাফুজ্জামানের নিজস্বতার ছাপ রয়েছে। দৃশ্যের আবহ, চরিত্রের মানসিক পরিবর্তন এবং গল্পের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে ক্যামেরা, সম্পাদনা, আলো ও রঙের ব্যবহারের মাধ্যমে আলাদা মাত্রা দেওয়ার চেষ্টা দেখা যায়। বিশেষ করে গল্পের আবেগের সঙ্গে ভিজ্যুয়াল ভাষাকে মিলিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নির্মাণে গুরুত্ব পেয়েছে।

‘মিস্টার বাদল’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে জিয়াউল হক পলাশের অভিনয় চলচ্চিত্রটির অন্যতম আকর্ষণ। ‘বাদল’ চরিত্রটি একমাত্রিক নয়—কখনো হাস্যরসাত্মক, কখনো আবেগপ্রবণ, আবার কখনো সম্পর্ক ও জীবনের জটিলতায় আটকে পড়া একজন মানুষ হিসেবে তাকে দেখা যায়। পলাশ চরিত্রটির এই পরিবর্তনগুলো স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। বিশেষ করে কমেডি ও আবেগঘন দৃশ্যের মধ্যে তাঁর অভিনয়ের ভারসাম্য দর্শকের নজর কেড়েছে।

অন্যদিকে পারসা ইভানার ‘রিতা’ চরিত্রের উপস্থিতি গল্পে নতুন গতি তৈরি করেছে। চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তাঁর আগমন কাহিনির আবেগ ও সম্পর্কের সমীকরণে পরিবর্তন আনে। ইভানার অভিনয়ে চরিত্রটির আবেগ, ব্যক্তিত্ব ও সংলাপ বলার ধরন আলাদা করে দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাঁর একটি সংলাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়াও চরিত্রটির জনপ্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।

জিয়াউল হক পলাশ ও পারসা ইভানার অভিনয়ের পাশাপাশি সৈয়দ জামান শাওনের চরিত্রটিও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই হিসেবে তাঁর উপস্থিতির মধ্য দিয়ে বাদলের জীবনের অতীত, স্মৃতি ও সম্পর্কের অনেক অধ্যায় উন্মোচিত হয়। ফলে ব্যক্তিগত সম্পর্কের গল্পটি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে স্মৃতি ও সময়েরও গল্প।

সুলতান এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাওয়া ‘মিস্টার বাদল’-এ আরও অভিনয় করেছেন নিকিতা সাহা, আবু হেনা রনি, খায়রুল আলম টিপুসহ অনেকে।

চলচ্চিত্রটির কারিগরি দিকেও নির্মাতার পরিকল্পনার প্রতিফলন রয়েছে। সিনেমাটোগ্রাফি, এডিটিং ও কালার গ্রেডিংয়ের মাধ্যমে গল্পের বিভিন্ন সময় ও আবেগকে আলাদা করে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। আর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সজিব দাশের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক গল্পের আবহকে আরও জোরালো করেছে।

সব মিলিয়ে ‘মিস্টার বাদল’ শুধু একটি কমেডি-রোম্যান্টিক গল্প নয়; বরং সম্পর্ক, স্মৃতি, সময় এবং মানুষের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি আবেগঘন চলচ্চিত্র। আশরাফুজ্জামানের চিত্রনাট্য ও পরিচালনা এবং জিয়াউল হক পলাশ ও পারসা ইভানার অভিনয় চলচ্চিত্রটির প্রধান শক্তিগুলোর একটি হিসেবে সামনে এসেছে।

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পাওয়া স্বীকৃতি সেই নির্মাণ প্রচেষ্টাকেই আরও দৃশ্যমান করেছে। সুইডেনে ‘বেস্ট ডিরেক্টর’ পুরস্কার এবং কানাডায় অফিসিয়াল সিলেকশন—দুটি অর্জনই ‘মিস্টার বাদল’-কে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাণের আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন করে পরিচিত করার সুযোগ তৈরি করেছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬