নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের কোম্পানি চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ হিসাব বছরে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় দেখিয়েছে। বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) বেধে দেওয়া সীমার চেয়ে কোম্পানিটি ব্যবস্থাপনা ব্যয় অতিরিক্ত করায় সংস্থাটি ক্ষুব্ধ হয়েছে। যে কারণে ২০১০ –এর ধারা ৬২(১) অনুযায়ী আইডিআরএ-এর কাছে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় মওকুফের জন্য কোম্পানিটি আবেদন করলেও তা মওকুফ করেনি সংস্থাটি।
জানা গেছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ হিসাব বছরে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স অতিরিক্ত সাত কোটি ৪৮ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৭ টাকা ব্যবস্থাপনা ব্যয় দেখিয়েছে। এই কোম্পানিটির অতিরিক্ত এই ব্যয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্ত করা উচিত বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলেও তারা মনে করেন।
এদিকে, এর আগের বছর অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ হিসাব বছরে কোম্পানিটির লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দায়ের বিপরীতে প্রায় ৪ কোটি টাকা ঘাটতি ছিল। যে-কারণে ওই বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো ডিভিডেন্ড বা লভ্যাংশ দিতে পারেনি কোম্পানিটি। অর্থাৎ ওই বছর কোম্পানিটি ‘নো’ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিল। আর ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে মাত্র ৪ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড বা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালে কোম্পানিটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় মোটে গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। এতে করে কোম্পানিটি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।
এ ব্যাপারে চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) আবু আহমেদ কবির দেশ সমাচারকে বলেন, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ হিসাব বছরে কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় হয়েছে। তবে আগামীতে এই ব্যয় কমে যাবে।
উল্লেখ্য, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করা চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিশোধিত মূলধন ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যেখানে উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার রয়েছে ৬০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার রয়েছে ৩৫ দশমিক ১০ শতাংশ। আজ এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৪৩ টাকা ৯০ পয়সা।
শিগগিরই চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আরও নানা অসঙ্গতি ও দুর্নীতি নিয়ে তৃতীয় পর্ব প্রকাশ করা হবে।