Logo

মুন্নু অ্যাগ্রো: আর্থিক প্রতিবেদনে অসংগতি, তদন্তে ডিএসই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট, ২০২৬
প্রিন্ট তারিখ: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তালিকাভুক্ত মুন্নু অ্যাগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারির ২০২৪ সালের আর্থিক প্রতিবেদনে বিভিন্ন অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। কোম্পানির ক্রয়সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথির ঘাটতি, বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন এবং নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে কোম্পানির দেওয়া ব্যাখ্যার গরমিল নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সম্প্রতি বিএসইসির করপোরেট রিপোর্টিং ডিপার্টমেন্ট থেকে ডিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার (সিআরও) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সুনির্দিষ্ট তথ্য, সহায়ক প্রমাণপত্র ও সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছে। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, মুন্নু অ্যাগ্রোর ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন নিরীক্ষক। এর মধ্যে কোম্পানির বিভিন্ন ক্রয়ের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র না পাওয়ার বিষয়টি অন্যতম।

নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মালামালের চাহিদাপত্র, কার্যাদেশ, ক্রয়াদেশ, কোটেশন, পণ্য সরবরাহের চালান, পণ্য গ্রহণের রসিদ, অর্থ গ্রহণের রসিদ এবং অর্থ পরিশোধের আবেদনসহ প্রয়োজনীয় নথি পাওয়া যায়নি। ফলে আর্থিক বিবরণীতে দেখানো ব্যয়গুলোর যথার্থতা ও যৌক্তিকতা নিরীক্ষকের পক্ষে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

সাধারণত এসব নথির মাধ্যমে কোনো পণ্য বা সেবা কেনার প্রয়োজনীয়তা, অনুমোদন, সরবরাহকারী, মূল্য, পণ্য সরবরাহ এবং অর্থ পরিশোধের ধারাবাহিকতা যাচাই করা হয়। তাই নথির ঘাটতির কারণে সংশ্লিষ্ট লেনদেনগুলোর প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছে বিএসইসি।

এ ছাড়া কোম্পানির অর্থ প্রদান ও অর্থ সংগ্রহের অধিকাংশই নগদে হয়েছে বলে নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনের কারণে এসব অর্থের উৎস, ব্যবহার এবং লেনদেনের ধারাবাহিকতা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করতে বলেছে কমিশন।

কোম্পানির পক্ষ থেকে দেওয়া ব্যাখ্যাও বিএসইসির কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি। কমিশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, কোম্পানির ব্যাখ্যার সঙ্গে নিরীক্ষকের উত্থাপিত পর্যবেক্ষণের যথাযথ সামঞ্জস্য নেই। এ কারণে শুধু আর্থিক হিসাবের অঙ্ক নয়, সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বাস্তবতাও যাচাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

তদন্তে ডিএসইকে লেনদেনের সত্যতা, কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং আর্থিক বিবরণীতে দেখানো ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাই করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নগদ লেনদেনের অর্থপ্রবাহ সঠিকভাবে অনুসরণ করা যায় কি না, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক শর্ত ও বাজারমূল্যের বাইরে কোনো লেনদেন হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া আর্থিক বিবরণীতে কোনো ভুল বা অসংগতি রয়েছে কি না এবং সার্বিক পরিস্থিতিতে নিরীক্ষক যে রিপোর্টিং সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা যথাযথ ছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় থাকবে।

এর আগে ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি মুন্নু অ্যাগ্রোর আর্থিক বিবরণী নিয়ে ডিএসইর করপোরেট গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কমিটি বিএসইসির কাছে একটি পর্যবেক্ষণ পাঠায়। ওই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই এবার কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনের বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের জন্য ডিএসইকে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: শাহাদাত হোসেন
অফিস: ই- ১৭/৪, পল্টন চায়না টাউন, পল্টন ঢাকা- ১০০০
ফোন: +৮৮০১৭১০-২১০৬৫৭ | ই-মেইল: desh.shamachar@gmail.com
অনলাইন সংস্করণ: www.deshshamachar.com | © ২০২৬