পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার কৃতি সন্তান, মহেশখালী প্রেসক্লাব-এর প্রতিষ্ঠাতা, প্রবীণ সাংবাদিক, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক জনাব আলহাজ্ব শফিকুল্লাহ খানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত। সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই বরেণ্য সাংবাদিক একজন সৎ, দক্ষ শিক্ষক ও মহেশখালী উপজেলায় সাংবাদিকতা জগতের একজন পথিকৃৎ হিসেবে বেঁচে থাকবেন যুগ যুগ ধরে।

  • জন্ম:
    কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী দক্ষিণ নলবিলার সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব,প্রখ্যাত আলেম দ্বীন, মহেশখালী উপজেলার শিক্ষার আলো বিস্তারের অগ্রদূত,অবসরপ্রাপ্ত সরকারী শিক্ষক,অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা,জনাব মরহুম আলহাজ্ব মাওলানা মকবুল আহমদ ও মরহুমা মোমেনা বেগম (রহ:) -এর ঘর আলোকিত করে ১৯৬০ সালের ২’রা মে জন্ম নেন মহেশখালী উপজেলার রত্ন জনাব আলহাজ্ব সাংবাদিক শফিকুল্লাহ খাঁন। আলোকিত সমাজ গড়ার কারিগর জনাব মরহুম আলহাজ্ব মকবুল আহমেদ-এর সুযোগ্য ১৩ সন্তানের মধ্যে জনাব সাংবাদিক শফিকুল্লাহ খান ছিলেন ৪র্থতম সন্তান।
  • শিক্ষা জীবন:

মহেশখালী উপজেলার ফকিরাঘোনা মাদরাসার হাফেজে কোরআনের প্রখ্যাত উস্তায, শতশত শিক্ষার্থীর জনপ্রিয় শিক্ষক, হাফেজ মাওলানা মরহুম নুরুচ্ছফা (রহ:)এর নিকট পবিত্র কুরআন হিফজ করে মহেশখালীর প্রাচীনতম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বর্তমান পুটিবিলা ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পড়াশুনা শেষ করেন জনাব আলহাজ্ব শফিকুল্লাহ খান। এরপর চট্টগ্রামের পটিয়া শাহচাঁন্দ আউলিয়া মাদ্রাসা থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্যে পাড়ি জমান পাশের দেশ ভারতে।

সেখানে সাংবাদিকতা,ধর্মীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন বিষয়ে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন এবং বাংলা,উর্দূ,ফার্সী, আরবি ও ইংরেজি ভাষায় পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। জ্ঞানার্জনের অদম্য স্পৃহার ফলে তিনি ভারত থেকে চলে যান পাকিস্তানের করাচী শহরে। সেখানের প্রসিদ্ধ বিদ্যাপীঠ করাচী জামেয়া হোসাইনিয়া মাদরাসা থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফিরে আসেন।

  • কর্মজীবন:

দেশে ফিরেই তিনি ১৯৮৪সালে তৎকালীন পিছিয়েপড়া দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর গণমাধ্যম তথা সাংবাদিকতার প্রচার প্রসারে নিজেকে নিয়োজিত করেন এবং প্রতিষ্ঠা করেন মহেশখালী প্রেসক্লাব।এই প্রেসক্লাবের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় শিক্ষিত ও সচেতন তরুনদের সাংবাদিকতা পেশার বিভিন্ন কলাকৌশল,নিয়ম-কানুন ইত্যাদি হাতে-কলমে শিক্ষা দেন। উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষিত লোক হলেও তিনি তৎকালিন একজন প্রভাবশালী পেশাদার সাংবাদিক হিসেবেই বেশ পরিচিত ছিলেন।

মূলত ১৯৮৪সালের পর থেকেই তিনি আপাদমস্তক একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে এমন একটি সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন যেখানে এর আগে কেউ মহেশখালী উপজেলায় সাংবাদিকতা পেশার সাথে পরিচিত ছিলেন না। আশির দশক থেকে শুরু করে ২০১৮সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতা পেশার চর্চা করেছেন। দৈনিক আজাদী, দৈনিক পূর্বকোণ, দৈনিক নয়া বাংলা,সাপ্তাহিক কক্সবাজার, দৈনিক সৈকত, সাপ্তাহিক রাঙ্গামাটিসহ জাতীয় ও আঞ্চলিক অনেক পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন জনাব আলহাজ্ব সাংবাদিক শফিকুল্লাহ খান।

বহুমাত্রিক গুণাবলীর অধিকারী জনাব মরহুম সাংবাদিক শফিকুল্লাহ খানের পুরো জীবনটাই ছিল বর্ণিল বৈচিত্রে ভরপুর। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি ছিলেন একাধারে একজন হাফেজে কুরআন, আলেমে দ্বীন, প্রতিথযশা সাংবাদিক, মহেশখালী প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা, পাশাপাশি মসজিদের ইমাম ও চট্টগ্রাম শহরের এপোলো শপিং সেন্টার মসজিদ, পটিয়া, সীতাকুণ্ডসহ বিভিন্ন মসজিদে জুমার নামাজের খতিব হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

একজন হাফেজে কোরআন,সাথে উচ্চতর ডিগ্রিধারী একজন আলেম, প্রথিতযশা একজন সাংবাদিক, মসজিদের খতিবসহ একই সাথে বহুগুণের অধিকারী বিরল সৌভাগ্যবান একজন ব্যক্তি জনাব আলহাজ্ব মরহুম শফিকুল্লাহ খান।সর্বশেষ তিনি দৈনিক নয়া বাংলা পত্রিকার প্রধান বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব কর্মরত ছিলেন। অত্যন্ত নম্র,ভদ্র ও সদালাপী এই প্রবীণ সাংবাদিক আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষায় ছিলেন খুবই সচেষ্ট ও যত্নবান।

  • পারিবারিক জীবন:

১৯৮৭সালের মে মাসে মহেশখালী উপজেলার কালারমার ছড়া ইউনিয়নের প্রবীণ আলেমেদ্বীন, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি শিক্ষক, সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব, জনাব আলহাজ্ব মাওলানা শামসুদ্দিন সাহেবের বড় মেয়ে জনাবা মোরশিদা খানমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মরহুম সাংবাদিক মাওলানা শফিকুল্লাহ খান। ৫ছেলে ও ১মেয়ে সন্তানের জনক তিনি।

  • শিক্ষার আলো বিস্তারে জনাব মরহুম সাংবাদিক শফিকুল্লাহ খান:

তিনি তাঁর মরহুম শ্রদ্ধেয় পিতার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ নলবিলা মকবুলাবাদ মাদরাসা ও হেফজখানার হাল ধরেন এবং দীর্ঘদিন সাফল্যের সাথে মাদ্রাসা পরিচালনা করেন।সে সময়ে ছোট মহেশখালীর অসংখ্য ছেলে-মেয়ে দূর-দূরান্ত তাঁর থেকে শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যে মাদ্রাসায় ছুটে আসতেন।

মৃত্যুর আগপর্যন্ত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার আব্দুর রাজ্জাক কারিগরি মাদ্রাসার স্বনামধন্য শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিভিন্ন সময়ে নানান প্রতিষ্ঠানে তাঁর কর্মজীবন ও শিক্ষকতা জীবনে গড়ে তুলেছেন শত শত শিক্ষার্থী। অসংখ্য শিক্ষার্থীকে শিক্ষাদানের মাধ্যমে এলাকায় শিক্ষার আলো বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

  • মসজিদ পরিচালনার দায়িত্ব পালন ও বৃক্ষরোপন:

জনাব আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা মরহুম সাংবাদিক শফিকুল্লাহ খান দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত দক্ষতা ও সাফল্যের সাথে দক্ষিণ নলবিলা মকবুলাবাদ মাদরাসা ও হেফজখানা এবং দক্ষিণ নলবিলা (রাহাতজান পাড়া) জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরিচালনার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তিনি মসজিদ মাদ্রাসা,মক্তব ও কবরস্থানের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেন।

১৯৯১সনে ভয়াবহ ঘুর্ণিঝড়, বন্যা আর তুফানের পর বিপর্যস্ত এলাকায় বাংলাদেশ সরকার মূল্যবান গাছ রোপণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন সরকারের বনবিভাগ। শ্রদ্ধাভাজন জনাব মরহুম মাওলানা সাংবাদিক শফিকুল্লাহ খান-এই সংবাদটি শুনার সাথে সাথে নিজ এলাকা দক্ষিণ নলবিলায় গাছ রোপণ করার প্রয়