বমি প্রতিরোধে

অনেকের দূরের যাত্রাপথে অথবা গাড়িতে চড়লে মাথা ঘুরায়। একই সঙ্গে বমি বমি ভাব চলে আসে অথবা কারোর বমি হয়ে যায়। এটাকে মেডিকেলের ভাষায় বলা হয় ‘মোশন সিকনেস’। এ সমস্যা থেকে চাইলেই সুস্থ থাকা সম্ভব।

কিছু বিষয় খেয়াল করলে এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে এ সমস্যা থেকে খুব সহজেই এড়িয়ে চলা যায়। বমি বা মোশন সিকনেস প্রতিরোধে যেসব বিষয় মেনে চলবেন-

  •  গাড়ি যেদিকে চলে তার উল্টো দিকের সিটে বসবেন না। কারণ উল্টো দিকে বসলে বমিভাব বেশি হয়ে থাকে।
  • গাড়ির সামনের দিকে বসার চেষ্টা করবেন। কারণ পেছনে বসলে গাড়িকে বেশি গতিশীল মনে হয়। যার ফলে দ্রুত ভারসাম্য নষ্ট হয় ও মোশন সিকনেস দেখা দিতে পারে।
  • জানালার পাশে বসার চেষ্টা করবেন এবং জানালা যেন খোলা থাকে। এসি পরিবহন হলে এ ক্ষেত্রে অবশ্য কিছু করার নেই। আর জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকার চেষ্টা করবেন, এতে করে মোশন সিকনেস হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
  •  বমির কথা চিন্তা না করা। এতে বমির ট্রিগার হতে পারে। পাশে পরিচিত কেউ থাকলে তার সঙ্গে কথা বলা।
  •  চোখ বন্ধ করে রাখতে পারেন। কিংবা ঘুমিয়ে যাওয়া। যাত্রার আগের দিন ঠিকমত ঘুম হওয়া জরুরি। অনেক সময় ঠিকভাবে ঘুম না হওয়ার কারণে মাথাব্যথাও বমির কারণ হতে পারে।
  •  গাড়িতে উঠার আগে হালকা কিছু খেয়ে নেওয়া। যাতে খালি পেটে ভ্রমণ করতে না হয়। তবে ভ্রমণের আগে বেশি খাবার খাওয়া যাবে না। যাত্রাপথে যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো।
  •  বমির ভাব দূর করতে জন্য আদা, লেবু, দারুচিনি, লবঙ্গ, তেতুলের চাটনি, আচার, কমলা বা টক জাতীয় যেকোনো ফল সঙ্গে রাখা যেতে পারে। এতে বেশ ভালো ফল পাওয়া যায়।
  • আপনি চাইলে লেবুর পাতাও রাখা যেতে পারে। এর ঘ্রাণ বমিভাব দূর করে। বয়স্ক নারী ও গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে যাত্রাপথে বিশেষ যত্ন রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা।
  •  যখনই বমি ভাব হবে মুখে এক টুকরা লবঙ্গ দিতে পারেন। এতে বমি ভাব চলে যাবে। চুইংগাম, লজেন্স খেলেও বমি ভাব হবে না।
  •  কিছু সাধারণ ওষুধও সঙ্গে রাখা যেতে পারে। বাজারে জয়ট্রিপ নামে ট্যাবলেট পাওয়া যায়। অথবা অনডেনসেট্রন জাতীয় ওষুধ গাড়িতে উঠার আগে বা খাওয়ার আগে খেয়ে বমিভাব থাকে না। ডমপেরিডন জাতীয় ওষুধও খাওয়া যেতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত বা অযথা বমির ট্যাবলেট খেলে বিপদ এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকে।
  • মোশন সিকনেস নিয়ে আপনার খুব বেশি সমস্যা হলে ও বার বার একই রকম সমস্যা হলে তাদের উচিত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দূরের পথে যাত্রা করা।