বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের ওয়ালটন বিশ্বজুড়ে চমৎকার ব্যবসা করছে। ওয়ালটন বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। তাদের বিলিয়ন ডলারের টার্নওভার রয়েছে। দাম ও গুণগতমানের কারণে ওয়ালটনের উৎপাদিত পণ্য এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রপ্তানি হচ্ছে।

গেলো বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির এমিরেটস প্যালেস হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘ইনভেস্টমেন্ট ফ্ল্যাশ মব: নেটওয়ার্কিং ডিনার’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।
উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবিতে ওই ফ্ল্যাশ মবের আয়োজন করে বিএসইসি। এর আগে বুধবার দুবাই ফেস্টিভ্যাল সিটির হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রথম ফ্ল্যাশ মবটি অনুষ্ঠিত হয়। এ আয়োজনের উদ্দেশ্য প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলা।

অনুষ্ঠানদুটির সার্বিক সহযোগিতায় ছিলো বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স ও টেক জায়ান্ট ওয়ালটন। একটি আমদানি নির্ভর দেশ থেকে ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্যে বাংলাদেশকে রপ্তানিমুখী দেশে পরিণত করায় উভয় অনুষ্ঠানে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয় ওয়ালটন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল কালাম আব্দুল মোমেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন।

অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং রেফ্রিজারেটরের সিবিও প্রকৌশলী আনিসুর রহমান মল্লিক, অ্যাডিশনাল অপারেটিভ ডিরেক্টর রবিউল ইসলাম মিলটনসহ বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। বড় বড় মেগা প্রজেক্ট গড়ে উঠছে, অবকাঠামো নির্মাণ করা আছে। উন্নয়নমূলক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেসরকারিখাতের সঙ্গে কাজ অব্যাহত আছে। আগামী দিনে জাতীয় ও বৈশ্বিক উন্নয়নে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় দেশ হবে বাংলাদেশ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সালমান এফ রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। এ ধরনের রোড শো করার উদ্দেশ্য হলো নতুন বাংলাদেশে কী ঘটছে তা তুলে ধরা। গত ১৩ বছরে বাংলাদেশ নিজেকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। আপনারা অনুগ্রহ করে বাংলাদেশে আসুন। স্বচক্ষে ঘুরে দেখুন এবং বিনিয়োগ করুন।

এক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ সমর্থন এবং সহযোগিতা পাবেন। ‘ভোট অব থ্যাঙ্কস’ পর্বে ওয়ালটনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আনিসুর রহমান মল্লিক বলেন, এ ধরনের একটি চমৎকার আয়োজনে সম্পৃক্ত হতে পেরে ওয়ালটন পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত।

বাংলাদেশ এখন শুধু ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ওয়ালটনের তৈরি এসব পণ্য রপ্তানিতে ব্যাপক সাফল্য দেখাচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পেরে আমরা গর্বিত।
তিনি ওয়ালটনের অত্যাধুনিক পণ্যের উৎপাদন প্রক্রিয়া দেখতে সবাইকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানান।