প্রতীকি ছবি

ছত্রিশ বছর বয়সী রাফিজা খানম (ছদ্ম নাম) পেশায় ব্যাংকার। একটি প্রাইভেট ব্যাংকে আছেন আজ প্রায় দশ বছর। পাশ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজম্যান্ট বিভাগ হতে। তার স্বামীও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের। তিনিও আরেকটি প্রাইভেট ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা। দুই ছেলে নিয়ে তাদের সুখের সংসার।

কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে রাফিজার শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। বিশেষ করে প্রস্রাবের সময় তার প্রচন্ড জ্বালা-পোড়া হয় এবং প্রায় সময় তার পেটও ব্যথা অনুভূত হয়। কিন্তু লজ্জায় বিষয়টি কাউকে জানাতে পারছিলেন না তিনি। তবে জ্বালাপোড়া একেবারে বেড়ে গেলে অফিসেরই সমবয়সী আরেক সহকর্মীর সাথে বিষয়টি শেয়ার করলে তার সহকর্মী সেদিনই সন্ধ্যার পরে তাকে এক গাইনী ডাক্তারের কাছে কাছে নিয়ে যান।

ডাক্তার সমস্যা শুনেই বুঝতে পারেন রাফিজার প্রস্রাবে সমস্যা (ইউরিন ইনফেকশন) হয়েছে। তারপরও কয়েকটি পরীক্ষা করতে দেন এবং পরদিন রিপোর্ট নিয়ে দেখা করতে বলেন। পরদিন রিপোর্ট নিয়ে গেলে ডাক্তার (রাফিজা) ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি কিছু ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন  কিছু পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইউরোলজিষ্ট ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, নারীদের মূত্র সংক্রমণ (ইউরিন ইনফেকশন) পরিচিত একটা সমস্যা। প্রতি দুজন নারীর একজন কখনো না কখনো এই সংক্রমণে ভোগেন। মূত্রতন্ত্রের কোনো অংশে জীবাণুর সংক্রমণ হলে এই সমস্যা হয়, যাকে সংক্ষেপে ইউটিআই বলে। মূত্র সংক্রমণের বিভিন্ন লক্ষণ রয়েছে। তার মধ্যে জ্বালা-পোড়া, হঠাৎ তীব্র মূত্র বেগ, ঘন ঘন মূত্র বেগ, মূত্রে লালচে ভাব, রক্ত পড়া, তলপেটে ব্যথা ইত্যাদি। এছাড়াও মাঝে মাঝে জ্বরও আসতে পারে, শীত শীত ভাব থাকতে পারে, বমি ভাব বা বমি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আবার কোন উপসর্গ দেখা যায় না। বিশেষ করে যেসব নারীর ডায়াবেটিক রয়েছে বা বয়স্ক নারীদের ক্ষেত্রে এমন হয়। এ রোগ থেকে মুক্তির সর্বপ্রথম উপায় হচ্ছে প্রতিদিন প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে। প্রতিদিস দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করলে মূত্র সংক্রমণ না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বিভিন্ন ধরনের জুস বিশেষ করে ক্যানবেরি জুস এ রোগ থেকে মুক্তির আরেকটি উপায়। এই জুস পান করলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন লেবু এবং টক জাতীয় ফল নিয়মিত গ্রহণ করলেও এ ধরনের রোগ থেকে অনেকটা মুক্ত থাকা যায়।

ডা. সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, অনেকেই বিশেষ করে নারীরা দীর্ঘক্ষণ মূত্র আটকে রাখেন। এটা কখনোই উচিত নয়। কারন দীর্ঘক্ষণ মূত্র আটকে রাখলে মূত্র সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। এছাড়া যৌনমিলনের আগে ও পরে মূত্রত্যাগ করা দরকার। যেসব নারী বারবার মূত্র সংক্রমণে ভুগছেন, তাদের জন্য এটা ভালো কাজ করে। মূত্র সংক্রমণের সঠিক চিকিৎসা এবং প্রতিরোধ অত্যন্ত জরুরি। এ থেকে নানা ধরনের জটিলতা, এমনকি রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় কিডনিও অকেজো হয়ে যেতে পারে। ইউরিন ইনফেকশন নারীর একটি সাধারন সমস্যা। শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ নারীই কোন না কোনভাবে এ সমস্যায় ভুগে থাকেন। তবে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে এ সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

লেখা: বাসস