শিশুদের চোখ দিয়ে পানি ঝরার সমস্যা নিয়ে অনেকেই আমাদের কাছে আসেন। চার মাস বয়সী শিশু কান্না করার সময় পানি ঝরলে সেটি স্বাভাবিক ধরে নিতে হবে। কান্না ছাড়াও চোখে পানি এলে সতর্ক হতে হবে।

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নাঈমা সুলতানা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিশুর চোখ দিয়ে প্রথম দু-একদিন পানি ঝরে। এরপর ময়লা আসে। এক্ষেত্রে আমরা ‘অপটিমক্স’ নামে চোখের একটি ড্রপ ব্যবহারের পরামর্শ দেই। ড্রপটি এক ফোঁটা করে প্রতি চোখে এক সপ্তাহ দিতে হবে, দিনে চারবার।

ড্রপের সঙ্গে শিশুর চোখ ও নাকের কোণে প্রতিদিন হালকা ম্যাসাজ করে দিতে হবে। তবে কান্না ছাড়াও শিশুর চোখ দিয়ে পানি ঝরলে অবশ্যই চোখের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। চোখের কোণে ময়লা জমলে প্রতিদিন ৬-৮ বার নাক ও চোখের কোণে হালকা ম্যাসাজ করতে হবে। এভাবে প্রতিদিন ম্যাসাজ করা হলে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

মা করোনায় আক্রান্ত হলে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন কি না— অনেকে জানতে চান। অবশ্যই মা দুধ খাওয়াতে পারবেন। তবে দুধ দেয়ার আগে তাকে মাস্ক পরে নিতে হবে। হাত ভালোভাবে ধুয়ে তারপর মা শিশুকে দুধ খাওয়াবেন। এ সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, শিশু জন্ম দেয়ার ৪২ দিন পর্যন্ত মায়ের শরীরে কোনো জটিলতা না থাকলে তিনি করোনার টিকাও নিতে পারবেন।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন, আপনারা নিজেকে শিশুদের থেকে দূরে রাখবেন। আগে থেকেই শিশুদের করোনা সম্পর্কে কাউন্সেলিং করতে হবে। অভিভাবককে ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকতে হবে এবং এটিকে স্বাভাবিকভাবে নিতে হবে। শিশুদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিতে হবে। বাসার মধ্যেও যতটা সম্ভব মাস্ক পরিয়ে রাখতে হবে। প্রয়োজনে বাসায় সন্তানদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে হবে।

শিশু যাতে ট্রমাটাইজড না হয়ে যায়, সেজন্য তাকে করোনার বিষয়ে আগে থেকে কাউন্সেলিং করে রাখতে হবে। যৌথ পরিবারে মা-বাবা করোনায় আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যরা শিশুদের তাদের থেকে একটু দূরে সরিয়ে রেখে যত্ন নিতে হবে।