কুমিল্লা ও হবিগঞ্জ সড়কে

খুলনা মহানগরীর মশিয়ালী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ২ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে দু’পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে গুলি বিনিময়ে তারা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ঘটনাস্থলে আরও ৮-১০ জন আহত হয়েছেন।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার কানাই লাল সরকার ।

আরও পড়ুন- বান্দরবানের সদর উপজেলায় নিহত ৫

উপ কমিশনার কানাই লাল জানান, নজরুল ফকির (৪৫) ও গোলাম রসুল (৩৫) নামে ‍দুই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। নিহতদের বাড়ি খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী এলাকায়। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুপক্ষের সংঘর্ষে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

তিনি আরও জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে দু’পক্ষে এই সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুলি বিনিময় হলে কমপক্ষে ৪ জন গুলিবিদ্ধ হন। তাদেরকে উদ্ধার করে ফুলতলা থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে দু’জন মারা যান। বাকি দু’জনসহ আহত আরও ৫ জনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়া চিকিৎসাধীনরা হলেন- খানজাহান আলী থানাধিন মশিয়ালী গ্রামের মৃত শরিয়ত উল্লাহ শেখের ছেলে আফসার শেখ (৬৫), রজব আলী শেখের ছেলে ইব্রাহিম শেখ (২৬), নজরুল শেখের ছেলে জুয়েল শেখ (৩৫), মৃত আলকাস শেখের ছেলে রানা শেখ (২২), আফসার শেখের ছেলে রবি শেখ (৪০), আকরাম শেখের ছেলে শামীম শেখ (২৫), মো. সাইদুল শেখের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (২৭)। হতাহতরা সবাই একই বংশ ও পরিবারের সদস্য।

আরও পড়ুন- মিয়ানমার থেকে পণ্য আসা বন্ধ!

এলাকাবাসী জানায়, মশিয়ালীতে শেখ জাকারিয়া হোসেন ও তার দুই ভাই জাফরিন ও মিল্টনের একটি বাহিনী রয়েছে। তাদের সঙ্গে এলাকার ফকির বংশের লোকদের দীর্ঘদিনের শত্রুতা রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলতে থাকে। পুলিশ অস্ত্রসহ জাকারিয়া শেখের পক্ষের একজনকে আটক করলে তাকে ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে ফকির বংশের লোকেরা ওই তিন ভাইয়ের বাড়িতে হামলা চালাতে যায়।

এদিকে রাত ১০টার দিকে উত্তেজিত জনতা আলিম জুট মিলের সামনে দু’টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। জাকারিয়া এই মিলের সাবেক সিবিএ নেতা ছিলেন।

খুলন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসা হতাহতদের স্বজনদের বক্তব্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে গুলি রেখে মজিবার শেখ নামের একজনকে খানজাহান আলী থানা পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেয় প্রতিপক্ষরা। ওই ঘটনার জের ধরে সাড়ে ৮টার দিকে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই এলাকার জাফরিন শেখ, জাকারিয়া শেখ, মিল্টন শেখের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হয়। আহতদেরকে উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

খানজাহান আলী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।