২০ সেনা নিহত ভারতের, এ ঘটনায় দেশটির কি মন্তব্য ?

সেনা নিহত ভারতের

চীনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় ২০ সেনা নিহত ভারতের । সৈনিকদের মৃত্যুর পর দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, লাদাখের গালওয়ান উপত্যকার বর্তমান অবস্থা চীনের একতরফাভাবে পরিবর্তন চেষ্টার ফলেই ঘটেছে সংঘর্ষের এ ঘটনা।

চুক্তি অনুসারে একটি জায়গা থেকে চীনা সেনাবাহিনী চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার সময়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতেই ২০ সেনা নিহত ভারতের ।আর হতাহতদের মধ্যে ভারতীয় কর্নেল বি. সান্তোস বাবু, হাবিলদার পালানি ও সেপাহি ওজহা রয়েছেন।-খবর প্রকাশ করেছে এনডিটিভি।

পাথর দিয়ে ওই কর্নেলকে আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। ভারতীয় পক্ষও পাল্টা আঘাত করেছে বলে জানানো হয়েছে। এতে দুপক্ষের মধ্যে বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে নিরস্ত্র যুদ্ধ চলে। মধ্যরাতের পর তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীভাস্তভা জানান, ১৫ জুন রাতে গালওয়ান উপত্যকার বর্তমান অবস্থা পরিবর্তনে চীনের একতরফা চেষ্টার পর এই সহিংস সংঘাত হয়েছে। এতে দুপক্ষের  সৈনিকরা হতাহত হয়েছেন।

অথচ দুপক্ষের মধ্যে যে চুক্তি আছে, চীনের পক্ষ থেকে তা বিবেচনার সঙ্গে অনুসরণ করা হলে এই হতাহতের ঘটনা এড়িয়ে চলা যেত বলে মনে করেন মুখপাত্র।

তিনি আরও বলেন, পূর্ব লাদাখের সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা কমিয়ে আনতে সামরিক ও কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে চীন-ভারত। গেলো ৬ জুন জ্যেষ্ঠ কমান্ডাররা একটি ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন। এতে তারা উত্তেজনা কমাতে একমত হয়েছিলেন।

দুদেশের উচ্চপর্যায়ে বৈঠকে যে ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য মাঠপর্যায়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে।

অনুরাগ শ্রীভাস্তভা আরো বলেন, আমাদের প্রত্যাশা – মসৃণভাবেই সব কিছুর সমাধান হবে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার প্রতি সম্মান দেখিয়ে চীনের সেনারা পক্ষ সরে যাবে।

‘সীমান্তে নিজেদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় নিজেদের অংশের ভেতরেই সব তৎপরতা চালাচ্ছে ভারত। চীনের কাছ থেকেও তেমনটি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যয়ী।’

তিনি বলেন, পাশাপাশি ভারতীয় সার্বভৌমত্ব এবং ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেছেন, ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্বিতীয়বারের মতো সীমান্ত অতিক্রম করে উসকানিমূলক আক্রমণ করে চীনা সেনাবাহিনীর ওপর। এর কারনে মারাত্মক শারীরিক সংঘাত হয় উভয় দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে।

তিনি আরো  বলেন, আমরা আবারও আন্তরিকভাবে ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছি যে, তাদের প্রাসঙ্গিক আচরণ অনুসরণ ও সম্মুখ বাহিনীকে সংযত করতে।

আরো পড়ুন- বাড়ি ফেরার পথেই ২৩ ভারতীয় শ্রমিকের মৃত্যু

2 মন্তব্য

Leave a Reply