সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট

দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশ এখন ৪২ তম বড় রপ্তানিকারক দেশ, অন্যদিকে আমদানিতে বাংলাদেশের অবস্থান ৩০তম। দেশে পণ্য আমদানি রপ্তানিতে অসামান্য অবদান রাখছে সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট। আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজটি পালন করছে তারা। শিপমেন্টের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবার জন্য একমাত্র এই এজেন্টদেরই শুল্ক বিভাগে প্রবেশাধিকার আছে। ক্লিয়ারিং (আমদানির ক্ষেত্রে) আর ফরোয়ার্ডিং (রপ্তানির ক্ষেত্রে) এর জন্য রপ্তানিকারক সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট নিয়োগ দেন।

আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রতিটি ধাপের যেকোন একটি ভুল হলে সেটি সমাধানে বেশ অর্থ আর সময় ব্যয় করতে হয়। এসব বিষয়ের বিশেষ দক্ষ এবং ভাল জ্ঞান রাখেন সি অ্যাণ্ড এফ এজেন্টরা। শুল্ক বিভাগের নানান বিষয়েও এদের দক্ষতা থাকে। আর তাই আমদানি এবং রপ্তানিকারকরা এজেন্ট নিয়োগ দেন।

কিভাবে কাজ করে সি এন্ড এফ এজেন্ট?

পণ্য রপ্তানীর আগেই রপ্তানিকারক শুল্ক বিভাগের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে শিপিং এর কার্যক্রম শুরু করার জন্য এজেন্ট নিয়োগ দেয়। রপ্তানীর জন্য রপ্তানিকারকের যাবতীয় প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট পাওয়ার পরে  শুল্ক বিভাগের কার্যক্রম সম্পন্ন করে পণ্য রপ্তানি করে দেন এজেন্ট।

পন্য আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারকের পন্য বন্দরে আসার পর ব্যাংক থেকে যাবতীয় ডকুমেন্ট সার্টিফাই করে সি এন্ড এফ এজেন্টের কাছে দেয়ার পর এজেন্ট আমদানিকারকের ডকুমেন্ট সঠিকতা যাচাই করে কাস্টমসের বিধিমালা অনুযায়ী শুল্কায়ন করে আমদানি কৃত পণ্য ছাড় করান।

শুল্ক বিভাগে পণ্য পৌঁছার পর সি অ্যান্ড এফ এজেন্টের কাজ শুরু হয়। প্রথমে তারা সমস্ত প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট পরীক্ষা করেন। এরপর বিল অব এক্সপোর্ট প্রস্তুত করা হয। যদি কোন সংশোধনের প্রয়োজন হয় তবে এজেন্টরা রপ্তানিকারকের সাথে যোগাযোগ করে তা জানায়। শুল্ক বিভাগ থেকে রপ্তানির জন্য পণ্য পাঠাবার ক্ষেত্রে এ সমস্ত ডকুমেন্ট আর বিল অব এক্সপোর্ট শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শিপমেন্টের অনুমতি দিয়ে কাগজপত্র সত্যায়িত করে আবার এজেন্টকে ফেরত পাঠানো হয়। এজেন্ট তখন এসব কাগজপত্র আবার রপ্তানিকারককে দেয়। এর মাধ্যমে রপ্তানি বন্দর থেকে পণ্য পাঠাবার আনুষ্ঠানিক শুল্ক কার্যক্রম শেষ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়।

ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্টদের দায়িত্ব

এজেন্টদের যেসব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয় তার মধ্যে বিশেষ কিছু বিষয় লক্ষ রাখা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, আমদানিকৃত পণ্য চালান চট্রগ্রাম বন্দর, ঢাকা বিমানবন্দর, আইসিডি কমলাপুর,বেনাপোল, ঢাকা ইপিজেড, আদমজি ইপিজেড থেকে খালাস করে আমদানিকারকের ঠিকানায় পৌঁছে দেয়ার কাজটি করে থাকে।

রপ্তানির ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকের কাছ থেকে সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট পণ্যের ডকুমেন্ট বুঝে নিয়ে প্রথমে পণ্যের চালানটি শুল্কায়ন করে বন্দরের ডিপোতে পণ্য পৌঁছানোর পর পণ্যের পরীক্ষা কার্যক্রম শেষ হলে শিপিং লাইন/ এয়ারলাইন্সের কাছে হস্তান্তর করে তারা।

কিভাবে খুঁজে পাবেন ভালো সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট?

সঠিক এজেন্ট খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনাকে কিছুটা ঝক্কি পোহাতে হতে পারে। নতুন রপ্তানিকারক হিসেবে আপনার জন্য কোন রেফারেন্সের মাধ্যমে এজেন্ট নিয়োগ দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এছাড়াও আগের রেকর্ড এবং অন্যদের রিভিউ এর মাধ্যমেও আপনি এ কাজে সহায়তা পেতে পারেন।

এজেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় খেয়াল রাখা দরকার তা হলো, পণ্য পরিবহনের সবগুলি খাত সম্পর্কে ভাল জ্ঞান আছে এমন এজেন্ট নির্বাচন করা। এতে পরিবহন সংক্রান্ত কোন সমস্যা হলে সাথে সাথে বিকল্প বিষয়ের পরামর্শ বা সমাধান বাতলে দেবেন তারা।  গুদামে পণ্য জমা রাখা সম্পর্কে ভাল জ্ঞান থাকাটা জরুরি,ইন্স্যুরেন্স,শিপিং ডকুমেন্ট প্রস্তুত করা ও ডকুমেন্ট সম্পর্কিত সর্ববিষয়ে অভিজ্ঞ এবং ব্যাংকের আনুষ্ঠানিকতায় দক্ষ হওয়া। এর সাথে ভাল হয় যদি বিদেশেও আপনার এজেন্টের ভাল যোগাযোগ থাকে। সেক্ষেত্রে সাময়িকভাবে পণ্য কোথাও জমা রাখা বা যেকোন সমস্যায় দ্রুততার সাথে সমাধানে সাহায্য করতে পারবে।

রপ্তানি বাণিজ্যে আপনার সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করে আপনি কতখানি দ্রুততা আর দক্ষতার সাথে আপনার পণ্য বায়ারের কাছে শিপমেন্টে পাঠাতে পারছেন। আর এই কাজটি করার ক্ষেত্রে সবথেকে প্রয়োজনীয় কাজটি করে এই এজেন্ট। কাজেই সবদিক বিবেচনা করে সতর্কতার সাথে সি অ্যাণ্ড এফ এজেন্ট নিয়োগ করবেন।

লেখক: মো:বেলায়েত হোসেন, কাস্টমস সম্পাদক,ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশন

আরো পড়ুন- বিপুল ভোটে কাস্টমস সম্পাদক নির্বাচিত হলেন বেলায়েত হোসেন