সিএন্ডএফ এজেন্টরা

পণ্য আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যে অসামান্য অবদান রাখছে সিএন্ডএফ এজেন্টরা । অর্থনীতিতে অন্যতম ভূমিকা রাখে এই খাতটি। সিএন্ডএফ এজেন্টদের সংকট সম্ভাবনা নিয়ে দেশ সমাচারে লিখেছেন ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি মো: মিজানুর রহমান

আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে যে কোনো পণ্য দেশে আসলে বা দেশ থেকে বিদেশ গেলে এজেন্ট হিসেবে সিএন্ডএফরা কাজ করেন। করোনাকালীন সময়ের শুরু থেকেই অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাতদিন কাজ করেছেন সিএন্ডএফ এজেন্টরা । আমাদের দেশ ট্যাক্স নির্ভর দেশ। সুতরাং আমদানি নির্ভর যতো ধরনের ট্যাক্স কালেক্ট করা হয় তার মধ্যে শতভাগ কাস্টমস এজেন্টদের মাধ্যমে সংগ্রহ হয়। রাজস্ব আদায়ের অন্যতম সূতিকাগার দেশের কাস্টম হাউজগুলোতে সরাসরি রেভিনিউ কালেক্ট করেন সিএন্ডএফ এজেন্টরা। সুতরাং অর্থনীতির চাকা সচল রাখার পিছনে সিএন্ডএফ এজেন্টদের ভূমিকা অন্যতম।

সরকারের ভ্যাট ট্যাক্স বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে সরাসরি আদায় করে নেয়া হয়। আমাদের কাছ থেকে ক্যালকুলেশন করে অ্যাডভান্সড ট্যাক্স বা এআইটিও কেটে নেয়া হয়। সার্ভিস দেয়ার পর আমাদের কমিশন পাওয়ার বিষয়ে সরকারের উদাসীনতা বড় অন্তরায় বলে মনে করি এই কমিউনিটির জন্য।

সরকারের ট্যাক্স আগেই আদায় করে নিলেও আমাদের আয়ের সিকিউরিটি নেই। এটি পাবো কিনা সে বিয়য়ে সরকাররে কোনো নজর নাই। আমরা সার্ভিস দেয়ার পরে ট্যাক্স এ্যাডভান্স নিয়ে নেয় তবে আমাদের সার্ভিসের কমিশনও এ্যাডভান্স নিয়ে নেয়া উচিত বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে। কিন্তু এটি না হওয়ার কারনে আমরা আমদানিকারকদের পেছনে পেছনে ঘুরতে হয় টাকার জন্য।

সমস্যাটির সমাধানে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেহেতু বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ট্যাক্স এবং ভ্যাট নিয়ে নেয়া হচ্ছে সুতরাং আমাদের কমিশনও বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ইনক্লুড করা উচিত। অটোমেটেড করার জন্য কাস্টমস দীর্ঘসময় ধরে কাজ করছে কিন্তু দূর্ণীতির কারনে সেটি বিলম্বিত হচ্ছে। সরকারের এবং জনগণের সদিচ্ছা থাকলে এটি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা নিয়ে আমাদের পর্যবেক্ষণ আছে। আমি মনে করি বিধিমালায় কালাকানুন করা হয়েছে। লাইসেন্সসিং বিধিমালায় কোনো আইন করে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারেনা, যে আইন উভয় পক্ষকে সমান সুযোগ দেয়না সেটি কার্যকর আইন নয়, এরতরফা আইনকে কালাকানুন বলে। বিদ্যমান লাইসেন্সসিং বিধিমালাকে দ্যার্থহীনভাবে কালাকানুন বলতে পারি। এটিতে নাগরিক অধিকার সমুন্নত থাকছেনা।

লাইসেন্সিং বিধিমালায় করা এসব কালাকানুনের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন চলমান আছে। এনবিআর এবং কাস্টমকে আমরা ফেডারেশনের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়েছি সংশোধনীর জন্য। এসব কালাকানুন ব্যবহার করে একশ্রেনীর কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে অতিরিক্ত সুবিধা আদায় করেন। এটি অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে অনেক সংকট তৈরি হবে বলে আমি মনে করি। এই লাইসেন্সসিং বিধিমালা নিয়ে দেশের সকল সিএন্ডএফ এজেন্টদের মধ্যে অসন্তোষ বিদ্যমান। করোনার সংকট কেটে গেলেে আমরা বিষয়টি নিয়ে অগ্রসর হবো।

এসোসিয়েশনের সদস্যদের কল্যাণের জন্য কাজ করছি আমরা। এই করোনাকালীন সময়ে দুইবার আমরা প্রত্যেক সদস্যকে ৫০ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছি কল্যাণ ফান্ড থেকে। কেউ অসুস্থ্য হলে আমরা চিকি৥সা সহায়তা দেই, কোনো সদস্য মারা গেলে ৫ লক্ষ টাকা পরিবারকে অর্থ সহায়তা দেই।

এছাড়া সদস্যদের প্রশিক্ষণের জন্য নানা কর্মসূচি গ্রহণ করার কথা আমাদের ইশতিহারে ছিলো। সেজন্য আমরা কাস্টমস সরকার এবং সদস্যদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিয়েছি। সরকার যখন ই পেমেন্টের মাধ্যমে কাস্টমসের টাকা জমা নেয়ার ব্যবস্থা নিলো তখন আপডেট করার জন্য কর্মশালা করেছি। করোনা সংকট কিছুটা কমে গেলে এ খাতের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কর্মশালার ব্যবস্থা করবো আমরা।

আরো পড়ুন : এলপি গ্যাসের দাম বাড়াল বিইআরসি