সালাহর হ্যাট্রিকে

সালাহর হ্যাট্রিকে লিভারপুলের জয়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ঘরের মাঠ ওল্ড ট্র‍্যাফোর্ডকে আদর করে সমর্থকরা ডাকেন ‘থিয়েটার অফ ড্রিমস’ নামে। সেই মাঠেই মোহামেদ সালাহর লিভারপুল যা করলো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দলের বিপক্ষে, তা যেন সাক্ষাৎ ‘নাইটমেয়ার’, দুঃস্বপ্ন। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ০-৫ লিভারপুল, রেড ডেভিলদের জন্য তা দুঃস্বপ্ন নয়তো কি?

ইউনাইটেডের মাঠে বলের দখলটা শুরু থেকেই নিয়েছিল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের দল লিভারপুল। শুরুর গোলটাও এল খুব দ্রুতই। স্বাগতিক সমর্থকরা তখনো হয়তো স্থিতধী হয়ে বসতেও পারেননি, নাবি কেইটা তখনই করে বসলেন গোলটা। সালাহ ছিলেন প্রতিপক্ষ গোলমুখে, তারপরও শ্রেয়তর অবস্থানে থাকা কেইটাকে বাড়ান বলটা। সেখান থেকে গোল পেতে অসুবিধা হয়নি আফ্রিকান এই মিডফিল্ডারের।

পরের গোলটাও এল শিগগিরই। প্রথম গোলদাতা কেইটার পাস থেকে গোল করেন ট্রেন্ট অ্যালেক্সান্ডার আর্নল্ড। ইউনাইটেড রক্ষণেরও দোষ ছিল বৈকি! হ্যারি ম্যাগুয়েয়ার, আর লুক শর ভুল বোঝাবুঝিতেই যে সুযোগটা পায় লিভারপুল!

রোনালদো শুরু থেকেই ছিলেন ইউনাইটেডে, কিন্তু তাকে অল রেডরা খেলতে দিলো কই? ম্যাচের ২৫ মিনিটে এসে বলার মতো একটা আক্রমণ উঠেছিল তাকে ঘিরে, কিন্তু তার ক্রসটাও অনায়াসেই সামলেছে লিভারপুল রক্ষণ।

এইতো শেষ ম্যাচেও আটালান্টার বিপক্ষে দুই গোলের লিড সামলে ৩-২ গোলে ম্যাচ জিতেছিল ইউনাইটেড, এ ম্যাচেও প্রত্যাবর্তনের একটা ক্ষীণ আশা তাই ছিল দলটির। ৩৮ মিনিটে সালাহর গোলে আশার নিভু নিভু বাতিটাও নিভে যায় দপ করে। কেইটার ক্রস থেকে গোল করেন মিসরীয় ফরোয়ার্ড। রেকর্ডও হয়ে যায় তাতে। ওল্ড ট্র‍্যাফোর্ডে টানা তিন ম্যাচে গোল করা প্রথম লিভারপুল ফরোয়ার্ড হয়ে যান সালাহ। বিরতির আগে করে বসেন আরও একটা। তাতে ৪-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

হ্যাট্রিকের সম্ভাবনাটা ছিল৷ বিরতির একটু পরেই সেটাকে বাস্তবতায় রূপ দেন সালাহ। জর্ডান হেন্ডারসনের পাস থেকে হ্যাট্রিকটা সম্পন্ন করেন লিভারপুল টালিসমান।