সাতক্ষীরার ফসলের মাঠে দুলছে কাঁচাপাকা বোরো ধান। চলছে কাটার ধুম। ধান কাটার পাশাপাশি ঝাড়া ও মাড়াই চলছে পুরোদমে। সবমিলিয়ে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন । মাঠ থেকে ফসল ঘরে তোলা যাবে এ সপ্তাহেই।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকরা আশা প্রকাশ করছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে আর ক’টা দিন রক্ষা পেলে চলতি বোরো মৌসুমে উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। টানা ৮ মাস অনাবৃষ্টি, ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ চাষির অনুকূলে ছিল না। তবু বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বোরোর সোনালি স্বপ্ন দেখাচ্ছে হাজার কৃষক পরিবারকে। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উঠবে বলে আশাবাদী জেলার কৃষি বিভাগ।

সরেজমিনে বেশ কয়েকটি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ব্রি-২৮, ব্রি-৮১, ব্রি-৬৩ ও ব্রি-৫০ জাতের ধান কাটছেন কৃষকরা। এছাড়া দু’একটি মাঠে ব্রি-২৯ জাতের পাকা ধানও কাটা হচ্ছে। জমি ও এলাকা ভেদে ফলন হয়েছে হেক্টর প্রতি ছয় টন ও বিঘা প্রতি ২০/২৪ মণ।

স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, চলতি মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় বিকল্প সেচ দিয়ে ধান চাষ করা হয়েছিল। তবে ধান কাটা বা তোলার সময় বৃষ্টি হলে সেটা কৃষকের জন্য ক্ষতিকর। বর্তমানে বৃষ্টি না হওয়ায় অনেকটা নির্বিঘে ধান কাটা, ঝাড়া, সেদ্ধ, শুকানো, মাড়াই প্রভৃতি কাজ ভালোভাবে করতে পারছি। তাপমাত্রা যদিও অনেক বেশি, তবে অন্যবারের তুলনায় এবার শ্রমিক বা জন এর দাম বেশি, লোকজনও তেমন পাওয়া যায়নি।

সাতক্ষীরা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৪ হাজার ৫০০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১৪ হাজার হেক্টর, তালায় ২০ হাজার হেক্টর, দেবহাটায় ছয় হাজার হেক্টর, কালীগঞ্জ উপজেলায় পাঁচ হাজার ৫০০ হেক্টর, আশাশুনিতে আট হাজার হেক্টর ও শ্যামনগরে দুই হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ৭৬ হাজার হেক্টর জমিতে। এবার বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লাখ ৫১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন।

সাতক্ষীরা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও জেলার চাষিরা ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ করে রের্কড করেছেন। জলাবদ্ধতা না থাকলে বোরোর আবাদ আরও বাড়ত বলে তিনি মনে করেন।