সাগর কন্যার দ্বীপ

বাংলাদেশের প্রাচীন দ্বীপ সন্দ্বীপ স্থানীয় জনগণের ‘সাগর কন্যা দ্বীপ’ নামেই বেশি পরিচিত। নভেম্বর থেকে মার্চ এই সময়টি সাগর কন্যার দ্বীপ বেড়ানোর জন্য বেশি উপযোগী। বছরের অন্যান্য সময়ে জোয়ার বেশি থাকায় সমুদ্রপথে যাতায়াত করা কিছুটা বিপজ্জনক।

সাগর কন্যার দ্বীপ – সন্দ্বীপে যেখাবে যাবেন :  সন্দ্বীপ উপজেলায় যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। দ্বীপ থেকে মূল ভূখন্ডে যাতায়াতের জন্য রয়েছে বি.আই.ডাব্লিউ. টি সি এর দুটি স্টিমার (যার একটি প্রাকৃতিক পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে )। দেশের যে কোন জায়গা থেকে চট্টগ্রামের এ কে খান মোড়ে নেমে প্রাইভেট গাড়ি বা লোকাল বাসে কুমিরাঘাট আসা যায়। লোকাল বাসে ভাড়া জনপ্রতি ১৫ টাকা পড়বে , প্রাইভেট গাড়িতে আসলে ৩০০-৩৫০ টাকা খরচ পরতে পারে।

কুমিরাঘাট থেকে সন্দ্বীপ গুপ্তছড়া ঘাট: চট্টগ্রাম থেকে দ্বীপে পৌঁছানোর সহজরাস্তা ‘কুমিরা টু গুপ্তছড়া ঘাট’ । দ্বীপটি বঙ্গোপসাগরের মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত এবং সন্দ্বীপ চ্যানেল দ্বারা চট্টগ্রাম উপকূল থেকে পৃথক। জাহাজ, স্পিডবোটে যেতে পারলে ভালো হবে। অবশ্য অনেক সময় ট্রলারে করেও যেতে পারেন। দেড় থেকে দুই ঘণ্টা লাগবে জাহাজে দ্বীপ পর্যন্ত পৌঁছাতে, স্পিডবোটে ২০-২৫ মিনিট। স্পিডবোটের টিকেট পাবেন জনপ্রতি ২৫০ টাকা করে এবং শিশুদের জন্য হাফ টিকেট নিলেও চলবে।

সকালে ৭ টার দিকে কুমিরা থেকে রওনা হয়ে সকাল সাড়ে ৭ টা নাগাদ পৌঁছে যাবেন দ্বীপে। কম সময় নিয়ে বেড়াতে গেলেরাতে না থেকে ঐ দিনই যে কোন সময় স্পিডবোটে করে ফিরে আসা যাবে চট্টগ্রাম। আর রাতের সত্যিকার মোহনীয় রূপ দেখতে চাইলে থেকে যেতে হবে রাত টা।

থাকার ব্যবস্থা: সন্দ্বীপে থাকার জন্য বেশ ভালো কিছু আবাসিক হোটেল আছে। স্বল্প খরচে থাকতে পারেন এসব হোটেলগুলোতে। গুপ্তছড়া ঘাট থেকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল বা সিএনজি করে সন্দ্বীপ কমপ্লেক্স চলে গেলে পেয়ে যাবেন আবাসিক হোটেল।হোটেলে তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা আছে। এছাড়া বাজারের ভেতর যেসব খাবারের হোটেলগুলো আছে, সেখানেও আপনার পছন্দ অনুযায়ী খাবার পাবেন।

দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান জেটি:

সন্দ্বীপ গুপ্তছড়া ঘাটে নবনির্মিত জেটিটি । জেটির দুই পাশের ল্যাম্পপোস্টের আলোর সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হবেন। সাগরের গর্জনের শব্দের সাথে সাগরের শীতল হাওয়া আপনাকে এনে দিবে অনাবিল প্রশান্তি। এই জেটির দুই পাশে রয়েছে ম্যানগ্রোভ বন, যা জেটির সৌন্দর্য বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে ।

সবুজ চর:  স্থানীয় অনেকে এই জায়গাকে গ্রিনল্যান্ড ও বলে। এটি সন্দ্বীপের দীঘাপাড় ইউনিয়নে অবস্থিত। প্রকৃতির শান্ত স্নিগ্ধরূপ সবুজ ঘাসের গালিচায় মোড়ানো এই চরটি। যতদূর চোখ যাবে সবুজ আর সবুজের নয়নাভিরাম দৃশ্য আপনাকে উৎফুল্ল করবে।ৱ

এই চরে রয়েছে ম্যানগ্রোভ বন, বনে রয়েছে বক, চিল, মাছরাঙা, বালিহাঁস, ময়না, টিয়া, ঘুঘুসহ আরো অনেক রকম পাখি। শীতকালে অতিথি পাখির কলকাকলীতে মুখরিত হয়ে ওঠে এই গ্রীনল্যান্ডটি।চিন্তার কোন কারণ নেয়,ভাড়া চালিত মোটরসাইকেল, সিএনজি দিয়ে সন্দ্বীপ কমপ্লেক্স থেকে ৩০-৪০ মিনিটে মধ্যে পৌঁছে যাতে পারবেন সবুজচর।