সাংবাদিক গ্রেফতার নিয়ে যা বললেন কুড়িগ্রামের ডিসি

সাংবাদিক রিগ্যান ও কুড়িগ্রামের ডিসি।

মধ্যরাতে কুড়িগ্রাম বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে বাড়ি থেকে তুলে এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও জরিমানা করার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে কুড়িগ্রামে।

তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে- রিগ্যানকে আটকের পর অমানুষিক নির্যাতন করে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে।

তবে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন বলেন, টাস্কফোর্সের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিধিবিধান অনুসরণ করে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে।

রিগ্যানের স্ত্রী মোস্তারিমা সরদার নিতু বলেন, যখন শুয়েছিলাম তখন দরজায় কিছু লোক নক করে। এ সময় রিগ্যান থানায় ফোন করলে থানার ওসি জানান, তারা কোনো লোক পাঠায়নি। মোস্তারিমা জানান, হঠাৎ অতর্কিতভাবে দরজায় জোরে ধাক্কা দিয়ে ঘরে ঢুকে রিগ্যানকে মারধর করে তাকে ধরে নিয়ে যায়।

তারপর রাত ১টার দিকে আমরা শুনতে পাই ডিসি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মাদক মামলা দেয়া হয়েছে।শুক্রবার রাত ১২টার দিকে কুড়িগ্রাম শহরের চড়ুয়াপাড়াস্থ বাড়ি থেকে আটকের পর রিগ্যানকে তুলে এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে টাস্কফোর্সের মাদক বিরোধী অভিযানে গভীর রাতে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার বাড়ি থেকে ৪৫০ এমএল দেশি মদ ও ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলেও জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ, আনসার ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সমন্বয়ে টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ অভিযানের সময় মাদকসহ আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে সে দোষ স্বীকার করায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ দিকে মধ্যরাতে আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে আটকের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে সাংবাদিকসহ স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ। শনিবার দুপুরে শহরের শাপলা চত্বরে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বিপ্লব, সাংবাদিক রাজু মোস্তাফিজ, হুমায়ুন কবির সূর্য, ছানালাল বকসী, শ্যামল ভৌমিক, দুলাল বোস প্রমুখ।

1 মন্তব্য

Leave a Reply