লাদাখে পরিস্থিতি গুরুতর: জয়শঙ্কর

ভারত লাদাখ পরিস্থিতি গুরুতর
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ফাইল ছবি

লাদাখে সীমান্ত পরিস্থিতি গুরুতর। ১৯৬২ সালে ভারত–চীন সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি এমন গুরুতর আর হয়নি বলে মন্তব্য করছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। অবস্থা কতটা খারাপ, তা বোঝাতে তিনি বলেন, ৪৫ বছর পর চীন সীমান্তে এই প্রথম রক্তপাত ঘটল।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম রেডিফকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জয়শঙ্কর এসব কথা বলেছেন।

প্রকৃত নিয়ন্ত্ররেখা বরাবর এত সেনার সমাবেশও আগে কখনো হয়নি। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (এলএসি) উভয় দেশের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের সংখ্যাও নজিরবিহীন। চলতি বছরের ১৪ জুন পূর্ব লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে ছয় ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। তাতে দুই পক্ষেই বহু সেনা হতাহত হয়। চীনা ফৌজিদের হতাহত নিয়ে নির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও ভারতীয় জওয়ান মারা যান ২০ জন। আহত প্রায় ৮০।

আরও পড়ুন :- ভারতের সংসদ ভবনে আগুন

সেই থেকে সীমান্ত আজও অস্থির। নতুন করে সংঘর্ষ না বাধলেও সেনা অপসারণে চীন এখনো অনড় বলে ভারতের দাবি। দুই পক্ষে আলোচনা যদিও অব্যাহত।

জয়শঙ্করের কণ্ঠে সেই কারণেই উদ্বেগ ফুটে উঠেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর লেখা বই ‘দ্য ইন্ডিয়া ওয়ে: স্ট্র্যাটেজিস ফর অ্যান আনসার্টেন ওয়ার্ল্ড’ প্রকাশের আগে ‘রিডিফ.কম’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘তিন দশকের অবস্থা খতিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে, পরিস্থিতি কতটা সঙিন। সাড়ে তিন মাস ধরে দুই দেশের সেনাবাহিনী ওই তল্লাটে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। কূটনৈতিক ও সেনাপর্যায়ে এতগুলো বৈঠক সত্ত্বেও অবস্থা অপরিবর্তিত।’ তিনি বলেন, চীনকে ভারত স্পষ্ট বলে দিয়েছে, সীমান্তে শান্তি ও সুস্থিতি রক্ষার ওপরেই নির্ভর করছে দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক।

আরও পড়ুন :- আবারও মুখোমুখি ভারত-চীন

জয়শঙ্কর বলেছেন, ভারত পরিষ্কারভাবে চীনকে জানিয়ে দিয়েছে যে, সীমান্ত এলাকায় শান্তি এবং স্থিতিশীলতা দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি। তিনি বলেন, আমরা যদি গত তিন দশকের দিকে ফিরে তাকাই, তাহলে এটি বেশ স্পষ্ট দেখতে পাবো। বহুমুখী কূটনৈতিক ও সামরিক আলোচনা সত্ত্বেও পূর্বাঞ্চলের লাদাখে সাড়ে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ভারত ও চীনের সামরিক বাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।

আরও পড়ুন :- ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি করোনায় আক্রান্ত 

ভারতের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে সীমান্ত পরিস্থিতি কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। গত দশকের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, দেসপাং, চুমার এবং ডোকলাম সীমান্তে বেশ কয়েকবার উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর প্রত্যেকটি ছিল ভিন্ন ভিন্ন ধরনের। এবারের এই উত্তেজনাও ভিন্ন ধরনের।

1 মন্তব্য

Leave a Reply