রমজান মাস বছরের সবচেয়ে বরকতময় সময়। এই মাসের আমলেও মহান আল্লাহ দিগুণ সওয়াব দান করেন। রমজানের পবিত্র এই মাসে সাহরি, ইফতার ও তারাবিসহ বেশ কিছু বিশেষ আমল আছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ আমল ছাড়াও আরও প্রচুর আমল আছে যেগুলো বছরের অন্য সময়ের মতো রমজানেও করা যায়।

১. অনেক বেশি দোয়া:
মহান আল্লাহ তায়ালা রোজার বিধান বর্ণনা করার পর বলেছেন, ‘আমার বান্দারা যখন আমার সম্পর্কে তোমাকে প্রশ্ন করে, আমি তো কাছেই আছি। প্রার্থনাকারী যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে, আমি তার প্রার্থনায় সাড়া দিই।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত : ১৮৬) তাই রমজানের সময় আল্লাহর কাছে অনেক বেশি পরিমাণে দোয়া করা করবেন।

২. তাহাজ্জুদের নামাজ:

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘যে রমজান মাসে ইমান ও সওয়াবের আশায় (ইবাদতের মাধ্যমে) রাত জাগরণ করবে, তার অতীতের পাপগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৭৩)

৩. দান-সদকা ও সহযোগিতা:

রমজানের গুরুত্বপূর্ণ আমলের অন্যতম হলো অন্যকে সহযোগিতা করা ও দান-সদকা করা। এ নিয়ে প্রখ্যাত সাহাবি ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) ছিলেন মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজানে তার বদান্যতা আরও বেড়ে যেত। (মুসলিম, হাদিস : ৩২০৮)

৪. কোরআন তেলাওয়াত-অনুবাদ:

রমজানে যেহেতু প্রতিটি ইবাদতের সওয়াব ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাই এ মাসে যথাসাধ্য বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা প্রত্যেক মুসলিম ও মুমিনের ওপর আবশ্যক। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রোজা ও কোরআন কিয়ামতের দিন মানুষের জন্য সুপারিশ করবে…।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৬৬২৬)

৫. তাওবা ও ইস্তিগফার করা:

সব সময় তাওবা করা ওয়াজিব। এ মাসে তাওবার অনুকূল অবস্থা বিরাজ করে। শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নাম থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়া হয়। তাই আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও তার পাপ ক্ষমা করাতে পারেনি, তার নাক ধুলায় ধূসরিত হোক।’ (জামেউল উসুল, হাদিস : ১৪১০)

৬. মিসওয়াক করা:

মিসওয়াক নিয়ে রাসুল (সা.)  গুরুত্বারোপ করেছেন। হাদিসে এসেছে, ‘মিসওয়াক মুখে  পবিত্রতা দানকারী এবং রবের সন্তুষ্টি আনয়নকারী।’ (ইবনে খুজাইমাহ, হাদিস : ১৩৫)

৭. ইফতার করানো:

রমজানে বা রমজানের বাইরে রোজাদারকে ইফতার করালে রোজার সমান সওয়াব। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে রোজা পালনকারীর অনুরূপ সওয়াব লাভ করবে, তবে রোজা পালনকারীর সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২২৩০২)

৮. পরস্পর কোরআন শোনানো:

রমজান মাসে একজন আরেকজনকে কোরআন শোনানো উত্তম আমল। এভাবে কোরআন শোনানোকে দাওর বলা হয়। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, জিবরাইল (আ.) রমজানের রাতে মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং রাসুল (সা.) তাকে কোরআন শোনাতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯০২)

৯. শবে কদর তালাশ করা:

রমজান মাসে এমন একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। সকল মুসলমানের উচিত এই রাতের সন্ধান করা। ওই রাত সম্পর্কে কোরআনের ঘোষণা হলো, ‘কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা কদর, আয়াত : ৪)

১০. সামর্থ্য থাকলে ওমরাহ পালন:

রমজানের এই মাসে একটি ওমরাহ পালন করলে একটি হজ আদায়ের সমান সওয়াব হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজান মাসে ওমরাহ পালন করা আমার সঙ্গে হজ আদায় করার সমতুল্য।’ (বুখারি, হাদিস : ১৮৬৩)