মালয়েশিয়ার রাজপ্রাসাদের

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের  কারণে বুধবার থেকে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য মালয়েশিয়ার রাজপ্রাসাদের সব ধরনের বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

কাজেই নতুন সরকার গঠনে দেশটির বিরোধী দলীয় নেতা আনওয়ার ইব্রাহীমের উদ্যোগের ওপর সিদ্ধান্তও আটকে যাবে বলে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে নিয়োগ দিতে পার্লামেন্টর সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপির সমর্থনের প্রমাণ দিতে দেশটির রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রবীন এই রাজনীতিবিদ।

তিক্ত অন্তর্দ্বন্দ্বে গত ফেব্রুয়ারিতে মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন সংস্কারপন্থী সরকারের পতনের পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রাসাদে রাজা সুলতান আবদুল্লাহ সুলতান আহমাদ শাহের সঙ্গে ২৫ মিনিট বৈঠক করেন ৭৩ বছর বয়সী আনওয়ার ইব্রাহীম।

আনওয়ার ইব্রাহীম বলেন, আমার সমর্থনে ১২০ এমপি রয়েছেন। রাজাকে সেই নথি দেখিয়েছি। কাউকে প্রধানমন্ত্রী হতে হলে মালয়েশিয়ার ২২১ এমপির অর্ধেক সংখ্যার সমর্থন দরকার পড়বে।

তিনি বলেন, আমি এটা রাজার সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। এটাই দেশের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে।

কোনো নির্বাচন ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মুহিউদ্দিন ইয়াসিন। কিন্তু তার জোটের অবস্থাও নড়বড়ে। এমনকি এই সরকারের বৈধতা নিয়েও সমালোচকদের প্রশ্ন রয়েছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে রফতানিমুখী অর্থনীতিকে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করতে সরকারের পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব ঘটতে পারে। করোনা মহামারীতে মালয়েশিয়ার অর্থনীতি ইতিমধ্যে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আনওয়ার যদি দক্ষিণ এশিয়ার বহুজাতিক দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হতে পারেন, তবে তার ২২ বছরের সংগ্রামের সফলতায় চূড়ায় পৌঁছাতে পারবেন তিনি। তার এই রাজনৈতিক লড়াইয়ের মধ্যে অন্তত ১০ বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের পদত্যাগের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন মুহিউদ্দিন। এর সাত মাসের মাথায় ফের ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন আনওয়ার ইব্রাহীম।

আরও পড়ুন :- আবারও কোয়ারেন্টাইনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, পার্লামেন্টে আমার জোরালো ও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। আমি কেবল চার, পাঁচ বা ছয়টি আসন না, আরও বেশি সংখ্যকের কথা বলছি। এই সংখ্যার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মুহিউদ্দিনের পতন ঘটবে।