মসজিদে হারাম

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে মক্কার মসজিদে হারাম। এখন থেকে আর ‘ইতামারনা’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে নামাজের অনুমতি নিতে হবে না। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ আদায়ের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জুমার নামাজ আর উমরার জন্য আগের নিয়ম বহাল থাকবে।

শনিবার থেকে নতুন নিয়মে নামাজের সুযোগ পাচ্ছেন মুসল্লিরা। নামাজের অনুমতি থাকলেও আপাতত মাতাফে শুধুমাত্র উমরাকারীরা যাওয়ার অনুমতি পবেন। করোনা মহামারির কারনে কয়েক ধাপে উমরা চালু ও মসজিদে হারামের জামাতে অংশ অংশ নেওয়ার অনুমতি ছিলো।সবশেষ ১ নভেম্বর থেকে প্রতিদিন ২০ হাজার মানুষকে উমরা ও মসজিদে হারামে ৬০ হাজার মানুষ নামাজ পড়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন।

করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মসজিদে হারামের জামাতে অংশ নেওয়ার অনুমতি ছিলো না। এর সাতমাস পর ইতামারনা অ্যাপসের মাধ্যমে নাম নিবন্ধন করে নামাজের অনুমিত নিতে হতো।

প্রায় ১১ মাস মসজিদে হারামে মুসল্লিদের আবেগী উপস্থিতি দেখা গেছে নামাজের অনুমতি দেয়ার পর। ধীরে ধীরে মসজিদে হারাম ফিরছে আগের চেহারায়। নামাজের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও বেশ সতর্ক হারামাইন কর্তৃপক্ষ। প্রতিবার নামাজের আগে ও পরে জীবাণুমুক্তকরণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আর উমরা পালনকারীদের জন্য এখনও ‘হাজারে আসওয়াদ’ বা পবিত্র কালো পাথর স্পর্শ কিংবা চুম্বনে নিষেধাজ্ঞা  বলবৎ রয়েছে। কাবা শরীফের চারপাশে বসানো অস্থায়ী প্রাচীরের বাইরে থেকেই তাওয়াফ করতে হচ্ছে মুসুল্লীদের।

উমরা পালনকারীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা চালু করেছে সৌদি সরকার। কারও মধ্যে করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিলেই তাদের জন্য রাখা হয়েছে আইসোলেশন ব্যবস্থা। এসব সেবা নির্বিঘ্ন করার জন্য বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক দলকে প্রস্তুত রেখেছে কতৃপক্ষ।

আপাতত ৬ ধরনের রোগে আক্রান্তদের উমরা না করার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ১. যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা কম, ২. যারা গত ছয় মাস ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, ৩. যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, ৪. যাদের হৃদরোগ রয়েছে, ৫. যাদের হার্টের অবস্থা দুর্বল, ৬. যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম।

সৌদির স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় আরও জানিয়েছে, যারা মোটা বা লিভার ডিজিজ, ক্রেনিয়াল রোগে আক্রান্ত- তারা উমরা পালনে কিছু সময় নিতে পারেন। গর্ভবতী নারীদের উমরা ও জিয়ারতের জন্য কিছু দিন অপেক্ষা করা উচিত।

আরো পড়ুন- জুমার দিনের ফজিলত

Leave a Reply