তোফায়েল

১০ম জাতীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এর তফসিল ঘোষণা করা হয় গত (২৭ নভেম্বর)। এতে নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার মোট ০৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হয় ০৫ জানুয়ারী, ২০২১।

মদন উপজেলার এই ০৮টি ইউনিয়নের বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়ে বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে মনোনয়ন বানিজ্য হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই মনোনয়ন বানিজ্যের পেছনে রয়েছে তিন সদস্যের একটি শক্তিশালী গ্রুপ।  নেত্রকোনা – ৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুড়ি), আসনের সংসদ সদস্য রেবেকা মমিন – এর কথিত এপিএস তোফায়েল আহমেদ এই গ্রুপের মূলহোতা।

সাথে আরও যারা আছেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার খান এখলাছ এবং সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম হান্নান। সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করার পর মনোনয়ন বানিজ্যের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্পষ্ট বলে প্রতিয়মান হয়েছে। তিন – চতুর্থাংশ ইউনিয়নে তৃনমূল আওয়ামীলীগের রেজ্যুলুশান মানা হয়নি।

কমপক্ষে দুইটি ইউনিয়নে তৃনমূলের রেজ্যুলুশান নিয়মমাফিক করা হয়নি। শুধুমাত্র ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সেক্রেটারির সই নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে রেজ্যুলুশান সম্পন্ন করা হয়। বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট প্রার্থী যেমন – বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সভাপতি এবং এরকম প্রবীন ও জনপ্রিয় রাজনীতিবিদদের রেজ্যুলুশানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তৃনমূল নির্বাচিত করলেও তাদেরকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

দুইটি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান যথাক্রমে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান যুগ্ম-আহবায়ক। এই দুইটি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে যাদের জনপ্রিয়তা এবং পাশ করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী ছিল তারা যাতে মনোনয়ন না পায় সেজন্য বিএনপির এই দুইজন বর্তমান চেয়ারম্যান ঐ সিন্ডিকেটের সাথে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে লিয়াজোঁ করে।

পরবর্তীতে কথিত এপিএস তোফায়েল সাংসদকে নিজের মত ম্যানেজ করে জনপ্রিয় প্রার্থীদের বাদ দিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীদের মনোনয়ন নিশ্চিত করে। কথিত এপিএস তোফায়েলের মনোনয়ন বানিজ্যের এই পরিকল্পনার বিষয়টি আঁচ করতে পারা তার একজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেনন -“বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আমি তাকে জিজ্ঞেস করছিলাম – “এদেরকে মনোনয়ন দিলে তো নৌকা ফেল করবে” জবাবে তোফায়েল বলেছিল “নৌকা পাশ করার দরকারটা কি? বিএনপি অধ্যুষিত এলাকায় নৌকা ফেল করবে এটাই স্বাভাবিক।

আমার রাজনীতি থাকলেই হলো।” মদন উপজেলার বিভিন্ন স্থরের আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা যায়, কথিত এপিএস তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে এই সিন্ডিকেট অত্র উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের দলীয় মনোনয়নের বানিজ্য করে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এতে করে উপজেলা আওয়ামীলীগ এবং সহযোগী সংগঠনের প্রায় সকল পর্যায়ের নেতৃত্বের মধ্যে দ্বন্ধ, অবিশ্বাস এবং বিপর্যয়ের চরম আশংকা দেখা দিয়েছে।

মদন উপজেলা আওয়ামীলীগের সর্বোচ্চ্য পর্যায়ের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতার সাথে কথা বলে জানা, যায় -নেত্রকোনা – ৪ আসনের সাংসদ রেবেকা মমিন একজন সজ্জন এবং অতি সাধারণ জীবনযাপনকারী একজন মানুষ। দেশে তিনি একমাত্র সাংসদ যাঁর বাৎসরিক আয় প্রতিবছর কমে। বয়স্ক মানুষ বিধায় তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় খুব কম আসেন। আর এই সুযোগে তাঁর কথিত এপিএস তোফায়েল আহমেদ বিভিন্নভাবে সাংসদকে প্রভাবিত করে তিনটি উপজেলায়ই অপরাজনীতি করে চলছেন।

দীর্ঘদিন এই অপরাজনীতির ফলে এলাকায় তার প্রত্যক্ষ মদদে তৈরী হয়েছে একটি বড় সুবিধাবাধী শ্রেনী। তার নিজের তৈরি করা এই হাইব্রীড সুবিধাবাধীদেরকে সবসময় ক্ষমতার কাছাকাছি রাখতে মদন উপজেলা আওয়ামীলীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে সবসময় দ্বিধা, বিভাজন ও স্বার্থের রাজনীতির কূটচাল জিইয়ে রাখে।

নেত্রকোনা জেলা আওয়ামীলীগের একজন সিনিয়র নেতা কথিত এপিএস তোফায়েল আহমেদ সম্মন্ধে বলেন “দলের অভ্যন্তরে বিভাজন সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষীগত রাখার এই অপরাজনীতি অনেক পুরানো টেকনিক। এগুলো এখন চলে না। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই আধুনিক যুগের আওয়ামীলীগ এক ও অভিন্ন। আমাদের সবার এ দিকটি মাথায় রেখে রাজনীতি করা উচিত।”