ভারতের জিডিপি-তে রেকর্ড ধস নেমেছে

ভারতের জিডিপি রেকর্ড ধস
ফাইল ছবি

জিডিপি-তে ব্যাপক ধস নেমেছে ভারতের । ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে জুন এই তিন মাসে বা প্রথম আর্থিক কোয়ার্টারে দেশটিতে জিডিপি-র সংকোচন হয়েছে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

 সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তথা এপ্রিল-জুনে দেশটির অর্থনীতি নজিরবিহীনভাবে ২৩.৯% সংকুচিত হয়েছে, যা গত চল্লিশ বছরে দেখা যায়নি।  দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান দফতরের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের জিডিপি-র বিশাল পতন হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দেশটি এরইমধ্যে আর্থিক মন্দার মধ্যে প্রবেশ করেছে। এই পতন কেবল প্রথম তিন মাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর পরের তিন মাসেও পতনের ধারা বজায় থাকলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

আরো পড়ুন- প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণ

পরিস্থিতি যে ভালো নয় তা সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের মন্তব্য থেকেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিলে। তিনি বলেছিলেন, কোভিডের পেছনে ঈশ্বরের হাত আছে। তাই এবার রাজ্যগুলিকে জিএসটি-র ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব নয়। রাজ্যগুলো যেন রিজার্ভ ব্যাংক থেকে অর্থ ধার নেয়। এরপর শুধু বিরোধী শাসিত রাজ্য নয়, অনেক বিজেপি শাসিত রাজ্যও দাবি করেছিল, কেন্দ্রীয় সরকার রিজার্ভ ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিক এবং রাজ্যকে দিক। তারাই সুদ পরিশোধ করুক। রাজ্যগুলোর ঋণ নেওয়া মানে তাদেরই সুদ দিতে হবে। সেটা রাজ্য দিতে পারবে না। আর জিএসটি আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারকেই পাঁচ বছর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

আরো পড়ুন- অর্থনৈতিক মন্দায় এশিয়ার বৃহৎ দেশগুলো

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দাবি, দীর্ঘদিন লকডাউনের জেরে আর্থিক কার্যকলাপ বন্ধ ছিল। তাই এই অবস্থা হয়েছে। এখন আনলক পর্ব চলছে। এবার সব ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। জিডিপি-র হারও বাড়বে। সরকারের প্রধান আর্থিক উপদেষ্টা বলেছেন, এতে ঘাবড়ানোর কারণ নেই। করোনার জন্য সব দেশের অর্থনীতিতে দ্রুত পতন হয়েছে, এখন আবার দ্রুত উত্থান হচ্ছে।

আরো পড়ুন- ভারতের সংসদ ভবনে আগুন

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনায় গরিব ও অন্যদের সাহায্য করতে গিয়ে সরকরি খরচ ১৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে রাজস্ব আদায় অনেকটাই কমে গেছে। এই অবস্থার মধ্যে কোনও অস্বাভাবিকতা নেই। দেশের অর্থনীতি আবার দ্রুত তার নিজের জায়গায় ফিরে যাবে।

কিছু অর্থনীতিবিদ ও বিরোধী নেতাদের মতে, বিষয়টি এত সহজ নয়। তাদের মতে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়ার্টারেও জিডিপির ১০ থেকে ১৫ শতাংশ সংকোচন হতে পারে। আর অর্থনীতির এই হাল একদিনে হয়নি। মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র বলেছেন, ‘’জিএসটি নেটওয়ার্কের প্রধান নন্দন নীলকার্নি বলেছিলেন, জিএসটি-তে ৭০ হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি হয়েছে। তাই ভগবান নয়, জালিয়াতির হাত দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।’

চিদাম্বরমের মতে, ‘মোদি সরকার যে আর্থিক নীতি নিয়ে চলেছে, দেশ তার মূল্য দিচ্ছে।

এপ্রিল থেকে জুনে জিডিপি প্রায় ২৪ শতাংশ কমে যাওয়ার পরেও অর্থনীতিবিদদের অনেকেই মনে করছেন, ছবিটা এর থেকেও খারাপ। কারণ কর্পোরেট সংস্থার পরিসংখ্যান থেকে অসংগঠিত ক্ষেত্রের ছবি পুরোপুরি ধরা পড়বে না। লকডাউনের জেরে অসংগঠিত ক্ষেত্রেই বেশি ধাক্কা লেগেছে। যার ফলে পরিযায়ী শ্রমিক থেকে গরীব মানুষ রুটিরুজি হারিয়েছেন।

 

 

2 মন্তব্য

Leave a Reply