বেসরকারি ট্রাস্ট ব্যাংকের চট্টগ্রাম নগরীর একটি শাখায় ঢুকে ভল্ট ভাঙার চেষ্টা করেছে দু’জন দুর্বৃত্ত। এতে ব্যর্থ হয়ে তারা ব্যাংকের স্টোর রুমে ঢুকে নথিপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (১ নভেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে নগরীর বড়পোলে ট্রাস্ট ব্যাংকের হালিশহর শাখায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) মোহাম্মদ আব্দুল ওয়ারিশ খান।

হালিশহর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আল মামুন জানান, মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) সকালে ব্যাংকের কর্মকর্তারা অফিসে গিয়ে দেখেন, বিভিন্ন আসবাব ও নথিপত্র এলোমেলো অবস্থায় আছে। স্টোর রুমে বেশকিছু কাগজপত্র আগুনে পুড়ে গেছে। তখন থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

উপপুলিশ কমিশনার আব্দুল ওয়ারিশ বলেন, ‘দু’জন ব্যাংকের ভেতরে রক্ষিত ভল্ট ভাঙার চেষ্টা করে। তবে তাদের কাছে সম্ভবত তেমন যন্ত্রপাতি ছিল না। হালকা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে স্টোর রুমে ঢুকে তারা নথিপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে এটা দেখা গেছে। আগুনে ব্যাংকের বেশকিছু মূল্যবান নথিপত্র পুড়ে গেছে। তবে টাকা লুট করতে পারেনি দুর্বৃত্তরা। আমাদের ধারণা, তারা পেশাদার চোর। মূলত চুরির উদ্দেশে তারা ব্যাংকে প্রবেশ করেছিল। হয়তো তারা ভেবেছিল, সেখানে ঢুকলেই টাকাপয়সা পাওয়া যাবে।’

ভবনের নিরাপত্তাকর্মীদের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভবনের নিচতলায় একজন নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। দোতলায় ব্যাংকের অফিস। সেখানে চোর ঢুকেছিল। নিচতলায় থানা নিরাপত্তা কর্মী টের পাননি। তিনি যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন না।’

‘ভবনের দোতলায় ব্যাংকের কার্যালয়ে চোর ঢুকেছিল। ওই ভবনের দোতলা বরাবর ১২ ইঞ্চি দূরত্বে আরেকটি ভবনের ছাদ আছে। সেই ছাদ থেকে ব্যাংকের টয়লেটের জানালার গ্রিল ফাঁক করে দু’জন সেখানে ঢোকেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, রাত ২টার দিকে দু’জন সেখানে প্রবেশ করেন। তারা বিভিন্ন টেবিলের ড্রয়াল খুলে কাগজপত্র উল্টেপাল্টে দেখেন। টেবিলের ওপর থেকে নথিপত্র ফেলে দেন। এরপর স্টোররুমে প্রবেশ করে নথিপত্রে আগুন ধরিয়ে দেন,’— বলেন আল মামুন।

পুলিশ পরিদর্শক আল মামুন বলেন, ‘আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে চোর দু’জনকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। এরপর তাদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া শুরু করব। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’