দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত বিসমিল্লাহ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরীসহ সাত পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সাত দিনের মধ্যে গ্রেফতার করে তাদের বিচারিক আদালতে সোপর্দ করতে বলা হয়েছে। যদি তারা দেশে না থাকে, তাহলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড অ্যালার্ট জারিরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ মামলায় দণ্ডিত অপর এক আসামির আপিলের পর জামিন শুনানির সময় বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এসএম শাহজাহান। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী হাসান এমএস আজিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন মানিক।

১৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগে ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর নিউমার্কেট থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নয়জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন ঢাকার ১০ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আতাবুল্লাহ।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- বিসমিল্লাহ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরী, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নওরিন হাসিব, খাজা সোলেমানের বাবা সফিকুল আনোয়ার চৌধুরী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আকবর আজিজ মুতাক্কি, মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবুল হোসেন চৌধুরী, ব্যবস্থাপক রিয়াজউদ্দিন আহম্মেদ, নেটওয়ার্ক ফ্রেইট সিস্টেম লিমিটেডের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন এবং জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা মোস্তাক আহমদ খান ও এসএম শোয়েব-উল-কবীর।

আসামিদের ১৫ কোটি ৩৩ লাখ ৬১ হাজার ৬৮৬ টাকার দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ জরিমানাও করেছেন আদালত। ওই অর্থ ৬০ দিনের মধ্যে তাদের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়। দণ্ডের সময় সবাই পলাতক থাকলেও পরে মোস্তাক আহমদ খান ও এসএম শোয়েব-উল-কবীর আত্মসমর্পণ করেন।

আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, এই দুইজন পরে আপিল করেন। এছাড়া শোয়েব-উল-কবীর জামিনও চেয়েছেন। তার জামিন শুনানিতে এ বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।

হাসান এমএস আজিম বলেন, আইজিপি, র‌্যাবের ডিজি, ডিএমপি কমিশনারকে সাত দিনের মধ্যে এদের গ্রেফতার করে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। যদি দেখা যায় তারা দেশে নেই বিদেশে পলাতক থাকেন, তাহলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড অ্যালার্ট নোটিশ জারির নির্দেশ দিয়েছন আদালত। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ৫ এপ্রিল দিন রেখেছেন আদালত।