বিশ্বের সেরা মেরিনা

দক্ষিণ ইউরোপের সুন্দর একটি দেশ পর্তুগাল। পর্তুগালের রাজধানী লিসবন থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে ভিলামৌরা। দক্ষিন পর্তুগালের আলগ্রাভ জেলায় ভিলামৌরা শহরটি অবস্থিত।

ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলানায় শীতকম থাকায় এখানে গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে সকলে এখানে বেড়াতে আসেন ভ্রমণ পিপাসুরা। আটলান্টিক বেষ্টিত এই দেশটিতে রয়েছে অসংখ্য সমুদ্র সৈকত। কাস কাইস, কারকাভেলাস, কোষ্টা দ্যা কাপারিকা, সিসিমব্রা, আলগ্রাভ, ফারু ও ভিলামৌরা উল্লেখযোগ্য। এই সমুদ্র সৈকত ঘিরে রয়েছে বেশ কিছু মেরিনা অঞ্চল। যার মধ্যে পর্তুগালের ভিলামৌরা বিশ্বের সেরা মেরিনা।

২০২১ সালে দ্য ইয়ট হারবার অ্যাসোসিয়েশন (টিওয়াইএএ) ভিলামৌরা মেরিনাকে বিশ্বের সেরা মেরিনা হিসাবে উল্লেখ্য করেছে।

ভিলামৌরা মেরিনা কেন সেরা?

পর্তুগালে তৈরি হওয়া প্রথম মেরিনা হলো ভিলামৌরা মেরিনা। এর কাজ শুরু হয় ১৯৭৪ সালে। বর্তমানে এটি জাতীয় বিনোদনমূলক পযর্টন কেন্দ্র। এখানে রয়েছে স্বচ্ছ জলরাশির সুবিশাল সমুদ্র সৈকত, ৮২৫ টি জাহাজ রাখার স্থান, একটি শিপইয়ার্ড এবং একটি সম্পূর্ণরূপে সজ্জিত দেশের বৃহত্তম পালতোলা নৌকার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

ভিলামৌরা মেরিনার আকর্ষণীয় খেলা নাবিকদের পালতোলা নৌকা বাইচ। সারা বিশ্বের নাবিকদের অংশ গ্রহণে নৌকা বাইচ খেলাটি পরিচালিত হয়। বিশ্বের সকল নৌকা বাইচ প্রতিযোগীদের অংশ গ্রহণে ভিলামৌরায় ২০২১ সালে আর্ন্তজাতিক অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৫ থেকে ২০১৭ সালে একাধারে ৫টি নোঙ্গর পেয়ে সকল মেরিনাদের মধ্যে, বছরের সেরা আন্তর্জাতিক মেরিনা নির্বাচিত হয়। এরপর পরপর তিনবার বছর সেরা পুরস্কৃত হওয়ার জন্য ২০১৭ সালে ভিলামৌরাকে স্বতন্ত্র সম্মাননা (ইন্টারন্যাশনাল মেরিনা অফ ডিস্টিঙ্কশন ২০১৫-২০১৭) পুরস্কার দেয়া হয়। অবশেষে ২০১৯ সালে ভিলামৌরাকে বিশ্ব সেরা মেরিনা হিসেবে আন্তর্জাতিক মেরিনা পুরস্কার দেওয়া হয়।

কিভাবে ভিলামৌরা যাবেন

লিসবন থেকে ৩৫০ কিলোমিটার অদূরে অবস্থিত ভিলোমৌরা মেরিনা। লিসবনের সেইতরুস থেকে রেডিএক্সপ্রেস দিয়ে যেতে পারবেন; ভাড়া জন প্রতি ২৩ ইউরো। প্রাইভেট বাসে সময় লাগে প্রায় তিন ঘন্টা।

ভিলামৌরায় থাকা খাওয়া

বিশ্বের সেরা এ মেরিনা এলাকায় নানা রকমের খাবারের ব্যবস্থা আছে। আছে বিভিন্ন শ্রেণীর আবাসিক হোটেল। পর্তুগাল বা বাহিরের দেশ থেকে কেউ আসলে তাকে কম বা বেশি ইউরো দিয়ে নিজের চাহিদা মতো হোটেলে থাকার সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে। রুম প্রতি ভাড়া পড়ে ৫০-২৬০ ইউরো। আর খাবার নিজের চাহিদা অনুযায়ী খেতে পারবে।

আরো পড়ুন : ইকো ট্যুরিজমের বিশাল সম্ভাবনা