ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন

মাজহারুল আলম : গেলো বৃহস্পতিবার মোট ৬৪টি কোম্পানিকে বিএসইসি থেকে চিঠি দেয়া হয় পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর জন্য। স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোকে নিয়ে পুঁজিবাজারে কারসাজি বন্ধ করতেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এমন নির্দেশনা দিয়েছে, যেটি বাজারে নতুন করে কারসাজির সুযোগ করে দিতে পারে।

সংস্থাটি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর প্রতিটির পরিশোধিত মূলধন হতে হবে অন্তত ৩০ কোটি টাকা। এ জন্য সর্বোচ্চ এক বছর সময় দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে যেসব কোম্পানির মূলধন ২০ কোটি টাকা বা তার চেয়ে বেশি, তারা সময় পাবে ছয় মাস।

বিএসইসির ইস্যু করা চিঠিতে মূলধন বাড়াতে বিএসইসি তিনটি উপায় বাতলে দিয়েছে। ১. বোনাস শেয়ার ইস্যু, ২. রাইট শেয়ার ইস্যু, ৩. রিপিট আইপিও। কিন্তু এমন অনেক কোম্পানি আছে, যেগুলো বছরের পর বছর ধরে লোকসান দিয়ে আসছে। এসব কোম্পানীর রিজার্ভেও কোনো টাকা নেই, শেয়ারপ্রতি সম্পদ নেই, উল্টো দায় তৈরি হয়েছে। এসব কোম্পানির পক্ষে বোনাস, রাইট বা রিপিট আইপিও করা সম্ভব নয়।

আবার যে কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করতে পারেনি, আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারেনি, তারা কীভাবে এক বছরের মধ্যে নিজেদের পাল্টে ফেলবে- এমন প্রশ্নও উঠেছে। এ ক্ষেত্রে বিএসইসির বক্তব্য হচ্ছে, যারা পারবে, তাদের তারা মূল বাজারে রাখা হবে। বাকিদের এসএমই বোর্ডে নিয়ে যাওয়া হবে, সেখানে সবাই লেনদেন করতে পারে না, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাই লেনদেন করে।

প্রশ্ন উঠেছে, পরিশোধিত মূলধন বাড়ালেই কি সব কোম্পানির আর্থিক স্বাস্থ্য ভালো হয়ে যাবে? এদিকে ৬৪ কোম্পানির পরিশোাধিত মূলধন বাড়ানোর নির্দেশের খবরে রোববার এই ধরনের কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর লাফ দিলেও পরে দিনই পড়ে গেছে। আগের দিন বেশি দরে যারা শেয়ার কিনেছিলেন, তারা এক দিনেই পড়েছেন লোকসানে।

দেশ গার্মেন্টসের দর আগের দিন ১৭৫ টাকা থেকে ১৮১ টাকা ৩০ পয়সা হয়ে গিয়েছিল। সেটি দর হারিয়েছে ১৪ টাকা ৭০ পয়সা। শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ১৬৬ টাকা ৬০ পয়সা।

এএমসিএল প্রাণের শেয়ারদর ২৬৯ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছির ২৭৩ টাকা ৭০ পয়সা। এই কোম্পানি দর হারিয়েছে ১৮ টাকা ৯০ পয়সা। শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ২৫৪ টাকা ৮০ পয়সা।

আগের দিন লোকসানি নর্দার্ন জুটের দর ২৯২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে হয়ে যায় ৩১০ টাকা ১০ পয়সা। সেটি দর হারিয়েছে ১৮ টাকা ৭০ পয়সা। শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ২৯১ টাকা ৪০ পয়সা।

বঙ্গজের শেয়ারদর আগের দিন ১২৫ টাকা ৮০ পয়সা থেকে হয়ে যায় ১৩১ টাকা ৬০ পয়সা। সেটি দর হারিয়েছে ৭ টাকা ৯০ পয়সা। শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৭০ পয়সা।

বিডি ল্যাপসের দর আগের দিন ২০৫ টাকা ৩০ পয়সা থেকে হয়ে যায় ২১৯ টাকা ৫০ পয়সা। সেটি দর হারিয়েছে ১৩ টাকা ১০ পয়সা। শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ২০৬ টাকা ৪০ পয়সা।

সব কোম্পানি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, এ বিষয়ে সংশয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক শাকিল রিজভীও। তিনি বলেন, ‘অনেক কোম্পানি আছে, সেগুলোর রিজার্ভেও পর্যাপ্ত টাকা নেই। রিজার্ভে টাকা না থাকলে সে কোম্পানি বোনাসও দিতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘লোকসানি কোম্পানিগুলোকে যখন পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর চিঠি দেয়া হয়, তখন বিনিয়োগাকারীদের মধ্যেও এ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়, যার প্রভাব রোববার দেখা গেছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের কোম্পানিগুলো পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে পারবে কি পারবে না, সেটি বিবেচনা করে শেয়ার কেনা উচিত ছিল।

‘এ কোম্পানিগুলো যদি পরিশোধিত মূলধন বাড়িয়ে মূল বোর্ডে থাকতে পারে তাহলে ভালো, যদি না থাকতে পারে তাহলে লোকসানের ভার বিনিয়োগকারীদেরই নিতে হবে।‘