বলিভিয়ার নির্বাচনে মোরালেসের প্রার্থীর জয়

বলিভিয়ার

বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেতে যাচ্ছেন সমাজতান্ত্রিক প্রার্থী লুইস আর্ক। তিনি প্রথম দফার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ ভোটে এগিয়ে আছেন  নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের দলের এই প্রার্থী। দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রার্থী কার্লোস মেসা পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন। আর জয়ের আভাস পেয়ে  জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন লুইস আর্ক। খবর  ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির।

গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বাতিল হয়ে যাওয়ার বলিভিয়া গভীর বিভক্তিতে জর্জরিত। ২০০৬ সাল থেকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা ইভো মোরালেস ওই নির্বাচনেও জয়ের দাবি করেন। তবে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন বিরোধী নেতা কার্লোস মেসা। এক পর্যায়ে সেনাবাহিনীর চাপের মুখে পদত্যাগ করে মেক্সিকোয় নির্বাসনে চলে যান মোরালেস।

ইভো মোরালেসের পদত্যাগের পর অন্তবর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন সিনেটের জেনিন আনেজ। তিনি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেন। তবে করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে এবছর দুই বার তারিখ ঘোষণার পর ভোটগ্রহণ স্থগিত করতে হয়। অবশেষে গত রবিবার সেই ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

তবে জনমত জরিপ গুলোতে ইভো মোরালেসের দলের প্রার্থী লুইস আর্কের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিলো। তবে এসব জরিপে লুইস আর্ক ও কার্লোস মেসার ভোট ব্যবধান খুব সামান্য হতে পারে বলে জানানো হয়। সেকারণে অনেকেই দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটাভুটি হবে বলে ধারণা করছিলেন।

তবে রবিবারের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সোমবার আগাম গণনায় দেখা গেছে লুইস আর্ক ৫২.৪ শতাংশ ভোট পেতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কার্লোস মেসা পেতে যাচ্ছেন ৩১.৫ শতাংশ ভোট। ফলে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ২০ শতাংশের বেশি। এই ফলাফল চূড়ান্ত হলে দুই প্রার্থীর মধ্যে নতুন নির্বাচনের প্রয়োজন পড়বে না।

প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগে লুইস আর্ক তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের অধীনে দেশটির অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।  মন্ত্রী হিসেবে তিনি বলিভিয়ার খনি, গ্যাস ও টেলিযোগাযোগ শিল্প জাতীয়করণের তদারকি করেছেন। মোরালেসের পদত্যাগের পর নিজেও দুই মাস বিদেশে কাটান ৫৭ বছরের লুইস আর্ক।

আরও পড়ুন :- লাদাখে চীনা সেনাকে আটক করল ভারত

সোমবার লুইস আর্কের জয়ের আভাস পাওয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী কার্লোস মেসা বলেন প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান বিশাল। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি তাদের স্বীকার করতে হবে যে এই নির্বাচনে এক জন বিজয়ী হয়ে গেছে।‘

 

2 মন্তব্য

Leave a Reply